ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় দিল্লি ও আশপাশের এলাকার স্কুলগুলোকে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ঘরে বসে কাজের সুযোগ দিতে এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিল্লির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ৩৮২-এ পৌঁছায়। অথচ ৫০ বা তার নিচের মাত্রাকে ভালো বায়ুমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ধাপে ধাপে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করেছে বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কমিশন।
নতুন নির্দেশনায় দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্ধেক কর্মীর বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। স্কুলে অনলাইন পাঠদান চালুর পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনও পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দীপাবলির আগে বাড়ছে দূষণের শঙ্কা
আগামী রোববার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবে ব্যাপকভাবে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়। এতে দিল্লির বায়ুদূষণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শীতের শুরুতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই বায়ুদূষণ তীব্র হয়। ঠান্ডা ও ভারী বাতাসের কারণে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং কৃষিজমির ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়া বাতাসে আটকে থাকে। দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও নির্মাণকাজ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রায় দুই কোটি মানুষের এই শহরে বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বাসিন্দারা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা আইকিউএয়ারের পরিমাপেও শীতকালে দিল্লি একাধিকবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।
বাতাসের গতি কমলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে

দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দিল্লির বায়ুমান আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, শনিবার থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বাতাসের গতি পুরোপুরি কমে গেলে দূষণের মাত্রা আরও বাড়বে।
শহরের বাসিন্দারাও দূষণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি চোখে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তিও দেখা দিচ্ছে।
এদিকে প্রতিবেশী পাকিস্তানের লাহোরেও চলতি সপ্তাহে বায়ুদূষণ বেড়েছিল। তবে শুক্রবার শহরটির বায়ুমান সূচক আগের দিনের ৩১২ থেকে কমে ১৪৯-এ নেমে আসে। দেশটির প্রাদেশিক মন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব এ উন্নতির জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি, মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।












