ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ইথানল মেশানো পেট্রল বিক্রির অভিযোগ নাকচ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের নিজস্ব পরীক্ষায় দেখা গেছে, সরবরাহ করা জ্বালানি জাতীয় মানদণ্ড মেনেই বাজারে এসেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ অবস্থান জানানো হয়। এর এক দিন আগে কর্ণাটকের বিরোধী দলশাসিত রাজ্য সরকারের এক মন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের জরিপ করা পাঁচটি পেট্রল পাম্পের মধ্যে চারটিতেই অনুমোদিত সীমার বেশি ইথানল মেশানো জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।
ই২০ জ্বালানি নিয়ে নতুন বিতর্ক
ভারতে বর্তমানে ই২০ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এই জ্বালানিতে পেট্রলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ইথানল উৎপাদনকারীদের সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে কর্ণাটকের অভিযোগ নতুন করে জ্বালানির মান ও পেট্রলে ইথানলের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজ্যটির জরিপের ফল অনুযায়ী, পরীক্ষিত পাম্পগুলোর বড় অংশেই নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি ইথানল পাওয়া গেছে।
নমুনা পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় কর্ণাটক সরকারের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামও রাজ্য সরকারের পরীক্ষার ফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো কর্ণাটক সরকারের সংগ্রহ করা নমুনা স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে ভারতের বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী ঘটনাটিকে ‘পেট্রল চুরি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে জ্বালানিতে কত শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে, তা প্রকাশ করার পাশাপাশি নির্ধারিত সীমার বেশি ইথানল মেশানোর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য ও রাজ্য সরকারের পরীক্ষার ফলের এই বিরোধের মধ্যে ভারতে ই২০ জ্বালানির মান নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।












