সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মো. রিয়াজ আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর শনিবার রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আলোরকোল এলাকার কাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন বন বিভাগ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
নিহত রিয়াজ আহমেদের বয়স ২৮ বছর। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাথালী পশ্চিমপাড়ার আবুল বাশার ধালীর ছেলে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপেন চন্দ্র দাস জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে জেলেরা তানার মাথা খালের কাছে পানিতে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। রিয়াজ যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেখান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মরদেহটি পাওয়া যায়।
কীভাবে নিখোঁজ হন রিয়াজ
রিয়াজসহ ১৯ জন পর্যটক ‘ইকো ট্যুরিজম-২’ নামের একটি নৌযানে সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ৫ নভেম্বর সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম বন বিভাগের কদমতলা বন স্টেশন থেকে নৌযানটি যাত্রা শুরু করে।
পরদিন ৬ নভেম্বর দুপুরের দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আলোরকোল এলাকার কাছে নৌযানটি নতুন জেগে ওঠা একটি চরে আটকে যায়। নৌযানটি চর থেকে সরাতে কয়েকজন জেলে ও চারজন পর্যটক পানিতে নামেন।
এ সময় হঠাৎ প্রবল ঢেউ এসে রিয়াজকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
উদ্ধার অভিযান চালায় বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ড
ঘটনার পরপরই রিয়াজকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করেন বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পর শনিবার রাতে জেলেদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে তানার মাথা খালের কাছে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহটি শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা দীপেন চন্দ্র দাস।












