দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে। পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চিন্তার কথা জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
২৪ ঘণ্টার চিত্র
শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ১২৭ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ১,১১৫ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার হার
এ পর্যন্ত মোট ১৩,৮৯৮ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১,২৪৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
অঞ্চলভিত্তিক পরিস্থিতি
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বরগুনা জেলাতেও আরও ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছড়াচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান
গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৭ জন। অন্যদিকে, ১৭৪টি মৃত্যু এখনো সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাড়ছে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি। নইলে এই সংক্রমণ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি থাকায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।












