দেশে হাম ও ডেঙ্গু দুটি রোগই একসঙ্গে প্রাণ কাড়ছে। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।
হামে এ বছর নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ জনে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন মৃত্যু ১ হাজার ২০ এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত মৃত্যু ১০২। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১০৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে। ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই হিসাব রাখছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া ৮ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের। এ বছর সন্দেহভাজন হাম-মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, ৪৬৩টি। এরপর সিলেট বিভাগে ১৭৯টি।
ডেঙ্গুতে এ বছর মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ২৫৬ জন। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০৮ জন রোগী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এ বছর সবচেয়ে বেশি, ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল এ বছরের যেকোনো মাসের চেয়ে বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেছেন, টিকা নেওয়ার পর শিশুদের পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগে। তাই হামের সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর এই ধারা অন্তত আরও এক মাস চলতে পারে বলে তার আশঙ্কা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছেন, আগের টিকাদানে ঘাটতি এবং আক্রান্ত শিশুকে দেরিতে শনাক্ত ও আলাদা করার সমস্যা এবারের প্রাদুর্ভাবকে বাড়িয়েছে।
শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর হলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি সরানো এখনো সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। হাম ও ডেঙ্গু একসঙ্গে চলায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে, তাই ঘরে প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে জরুরি।












