দেশের পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চল বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, সিলেট ও কিশোরগঞ্জ আবার গভীর ও পরিচিত সংকটে নিমজ্জিত। এটি বিচ্ছিন্ন দুর্যোগ নয়; বরং হাওরের ভঙ্গুর ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুগত বাস্তবতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক পুনরাবৃত্ত দুর্ভোগের চিত্র। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে, টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে হাওরজুড়ে পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে গ্রাম, রাস্তা ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি গ্রাস করেছে। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে তখন, যখন কৃষকরা তাদের বছরের প্রধান ফসল বোরো ধান ঘরে তোলার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন।
ফসল হারানোর ফলে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। বোরো ধান বাংলাদেশের মোট ধান উৎপাদনের একটি বড় অংশ জোগান দেয়। এই ক্ষতি সরাসরি জাতীয় খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপদ পানির সংকটে পানির মূল উৎস দূষিত হয়ে পড়ে। আর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে যায় এবং ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে জীবিকা ধ্বংস হয়ে যায়।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান, এই সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে। ২০২২ সালে হাওর অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৫৩,০০০ হেক্টর জমি ডুবে যায় এবং প্রায় ১৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৪ সালে বহু-ধাপের বন্যায় প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৪,৪২১ কোটি টাকা। এই ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে, বন্যা এখন আর মৌসুমি ঘটনা নয় এটি প্রায় প্রতি বছর ঘটে যাওয়া পুনরাবৃত্ত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।
সূত্রঃআজকের পত্রিকা












