সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার করা জাহাজ এমটি অনার ২৫-এর চার আহত পাকিস্তানি নাবিক এবং নিহত তিন নাবিকের মরদেহ ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত চার নাবিক—উসমান গনি, আকিল খান, আমিন বিন শামস ও ইয়াসির খান—এবং নিহত রাফিউল্লাহ খান, সৈয়দ কাশিফ উমর ও মাহমুদ আহমদ আনসারির মরদেহ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ইটি-৬৯৪ ফ্লাইটে করে দেশে ফিরছেন। পাকিস্তানের জিবুতি ও ইথিওপিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা আদ্দিস আবাবায় তাদের বিদায় জানান। ফ্লাইটটি রোববারই করাচিতে পৌঁছানোর কথা।
এ ঘটনা ঘটেছে সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড অঞ্চলে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা এমটি অনার ২৫ উদ্ধারের অভিযানের পর। পুন্টল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে তাদের বাহিনী জাহাজটি মুক্ত করে এবং ১৬ জন জলদস্যুকে আটক করে।
উদ্ধার অভিযানে পাঁচ নাবিক নিহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের নাগরিক। আরও চার পাকিস্তানি নাবিক আহত হন। আহতদের নিরাপদে তীরে আনার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজটি গত ২১ এপ্রিল সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে জলদস্যুদের দখলে চলে যায়। ওই সময় জাহাজটিতে মোট ১৭ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক।
জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর থেকেই পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা সোমালি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছিলেন। আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জীবিত নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে জিবুতিতে থাকা পাকিস্তানি কূটনৈতিক মিশন সমন্বয় করছিল।
গত ২ অক্টোবর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, এমটি অনার ২৫-এ তখনও তিন পাকিস্তানি নাবিক—ইমরান আলী, ইয়াসিন মুহাম্মদ ও সৈয়দ ইউসুফ হুসাইন—এবং জাহাজের ক্যাপ্টেন অবস্থান করছিলেন। তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও চেষ্টা চলছিল।
এর একদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছিল, অভিযানে নিহত তিন পাকিস্তানি নাবিকের মরদেহ ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় পৌঁছেছে। সেখান থেকে করাচিতে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করছিল ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নিহত নাবিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
নিহত সৈয়দ কাশিফ উমরের ছেলে আজহান কাশিফের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তার বাবার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। নিহত তিন পাকিস্তানি নাবিকের প্রত্যেক পরিবারের জন্য তিনি ১ কোটি ২৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ ছাড়া নিহতদের সন্তানদের বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং প্রতিটি পরিবারকে একটি করে বাড়ি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন শাহবাজ শরিফ। আহত নাবিকদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং জাহাজে থাকা বাকি পাকিস্তানি নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় একদিকে জলদস্যুদের হাত থেকে জাহাজ উদ্ধারের পর বেশ কয়েকজন নাবিক দেশে ফিরতে পারলেও, প্রাণ হারানো তিন পাকিস্তানি নাবিকের মরদেহ দেশে ফেরার বিষয়টি তাদের পরিবারের জন্য গভীর শোকের মুহূর্ত হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে জাহাজে থাকা বাকি নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।











