দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদনটি নামঞ্জুর করেছেন। মামলার বাদী নিহত তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। আদেশে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিলের মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় হামলার শিকার হয়ে মারা যান তামিম। পরদিন তাঁর বাবা হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ রবিউল আলম ও প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়। বাদীর অভিযোগ, তামিমের বাবার জমিতে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলা শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল, কারণ আসামির তালিকায় একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের নাম ছিল।
মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। তদন্ত শেষে সংস্থাটি ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এক কিশোরের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় আলাদা প্রতিবেদন। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় রবিউল আলমসহ নয়জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে পিবিআই। বাদী এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন এবং অধিকতর তদন্ত চান। গত ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে নয়জনকে অব্যাহতি দেন। এর বিরুদ্ধেই বাদীপক্ষ রিভিশন আবেদন করেছিল। নারাজি আবেদন হলো তদন্ত প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে আদালতে করা আবেদন। আর রিভিশন হলো নিম্ন আদালতের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য ওপরের আদালতে করা আবেদন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া জানান, অব্যাহতির বিরুদ্ধে করা রিভিশন আবেদনটি নামঞ্জুর হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আছে, তাঁদের বিচার নিয়ম অনুযায়ী চলবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, তাঁরা এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। অন্যদিকে রবিউল আলমের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আগেই দাবি করেছিলেন, বাদী মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি করেছেন। আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত মামলাটি অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের নিয়েই এগোবে।
নিম্ন আদালতের দুই ধাপে বাদীর আবেদন টিকল না। ফলে এখন নজর উচ্চ আদালতের দিকে। তামিমের পরিবার চায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যাঁরাই থাকুন, তাঁদের সবাই বিচারের মুখোমুখি হোন। অন্য দিকে অভিযুক্তের তালিকা থেকে বাদ পড়াদের পক্ষ বলছে, তদন্তেই তাঁদের সম্পৃক্ততা মেলেনি। একজন সম্প্রচারকর্মীর হত্যার বিচার কত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে শেষ হয়, সেটি দেখছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের বিচার এখন কত দ্রুত এগোয়, সেটিও তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলার বড় প্রশ্ন। উচ্চ আদালতে আবেদন হলে সেখানে শুনানির পরই ঠিক হবে, অব্যাহতি পাওয়া নয়জনের বিষয়টি আবার বিবেচনায় আসবে কি না। ততদিন নিম্ন আদালতে বিচার চলবে নিজের গতিতে। মামলার পরের ধাপ তাই অনেকটাই নির্ভর করছে বাদীপক্ষ কত দ্রুত উচ্চ আদালতে যায় এবং সেখানে কী আদেশ আসে, তার ওপর।












