নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে পাবেন। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের পাওনা এই হিসাবে ধরা হবে। এ জন্য প্রত্যেকের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের কাজ সোমবার শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে খবরটি নিয়ে আগ্রহ এখন সবচেয়ে বেশি। কারণ নতুন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সবাই জানতে চাইছিলেন, বাড়তি বেতন কবে হাতে আসবে।
সরকার গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন যাঁর যে মূল বেতন ছিল, তার ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ হবে। পে ফিক্সেশনের কাজ হবে সরকারি হিসাবব্যবস্থার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আইবাস প্লাস প্লাসে। চাকরিজীবীদের সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, পদবি ও গ্রেডের তথ্য দিতে হবে। চাকরিতে যোগদানের তারিখ ও বর্তমান মূল বেতনের সঠিক তথ্যও দিতে হবে। প্রত্যেকের নতুন মূল বেতন নির্ধারণের পরই বকেয়ার অঙ্ক বের হবে। পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার মতো চাকরির ইতিহাসও যাচাই করে চূড়ান্ত হিসাব করা হবে।
সবার বকেয়ার অঙ্ক সমান হবে না। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিমাণ নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে আছে গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ। নতুন বেতন চূড়ান্ত হলে সেই অনুযায়ী বেতন বিল তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেকের তিন মাসের বকেয়া বেতনের হিসাবও চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে সেই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে একই দপ্তরের দুজন কর্মীর বকেয়াও আলাদা হতে পারে। কারও অঙ্ক বেশি হবে, কারও কম।
নতুন বেতনকাঠামোর জন্য সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলেন। নিত্যপণ্যের দামের চাপে অনেক পরিবারের সংসারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন সময়ে তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে হাতে পাওয়া অনেকের জন্য স্বস্তির খবর। জমে থাকা ধার শোধ বা জরুরি খরচ সামলাতে এই টাকা কাজে লাগবে। সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে বাড়তি টাকা এলে বাজারেও তার কিছুটা প্রভাব পড়ে। কেনাকাটা বাড়লে ছোট দোকানি ও ব্যবসায়ীরাও লাভবান হন। তবে বাড়তি টাকার একটা অংশ সঞ্চয়ে রাখার পরামর্শও দেন অনেকে।
তবে বকেয়া সময়মতো পেতে হলে বেতন নির্ধারণের কাজ নির্ভুল হওয়া জরুরি। তথ্যে ভুল থাকলে হিসাব আটকে যেতে পারে, তাতে টাকা পেতে দেরি হবে। তাই চাকরিজীবীদের নিজের তথ্য আগেভাগে মিলিয়ে দেখা ভালো। কোনো সমস্যা হলে নিজ দপ্তরের হিসাব শাখার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করাই নিরাপদ পথ। হাতে সময় আছে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। পোর্টালে তথ্য দেওয়ার আগে চাকরির কাগজপত্র হাতের কাছে রাখলে কাজ সহজ হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে চাকরির রেকর্ডে নাম ও জন্মতারিখ মিলছে কি না, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।












