রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলেছে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের অবরোধ। পুলিশি হয়রানি বন্ধ, উচ্ছেদ অভিযান থামানো এবং ব্যাটারি চার্জের বিদ্যুৎসংযোগ ফেরতের দাবিতে তাঁরা সড়কে নামেন। সকাল ১০টার দিকে কয়েক শ চালক প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। পরে সড়কে অবস্থান নিয়ে দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মিছিল নিয়ে চলে যান দৈনিক বাংলা মোড়ের দিকে। সংগঠনটি এদিন রিকশা চলাচল বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করে। তাই সকাল থেকে নগরের অনেক এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা কম দেখা গেছে।
কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। দৈনিক বাংলা মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে দাবি পূরণে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। দাবির তালিকায় গ্রেপ্তার চার নেতার নিঃশর্ত মুক্তিও রয়েছে। সংগঠনের সভাপতি এস এম আবুবকর সিদ্দিক বলেন, তাঁরা দেশ চালাতে সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। তবে দাবি মানা না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি আসবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সমাবেশে সাধারণ চালকেরা আয় কমে যাওয়া আর নিত্যপণ্যের দাম নিয়েও ক্ষোভ জানান।
চালকদের প্রধান অভিযোগ, বিভিন্ন গ্যারেজে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। রিকশা চালাতে না পারায় অনেকের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ সংযোগ থেকে চার্জ দেওয়া রিকশার সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি তুলেছেন চালকেরা। অবরোধে অংশ নেওয়া এক চালক বলেন, রাস্তায় পুলিশ রিকশা আটকালে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। অবরোধের সময় চালকেরা ‘পুলিশি হয়রানি বন্ধ করো’ ও ‘যেখানে রাস্তা, সেখানে অটোরিকশা চলবে’ বলে স্লোগান দেন।
অবরোধের কারণে প্রেসক্লাব ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। অফিসগামী মানুষকে বিকল্প পথে যেতে হয়, অনেককে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মসূচিতে যোগ না দিয়ে রিকশা চালানোয় কয়েকজন চালকের রিকশার ব্যাটারিসংযোগ খুলে দেন আন্দোলনকারীরা। অবরোধ উঠে যাওয়ার পর পল্টন মোড় থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের অবরোধ চলাকালে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ ছিল। পল্টন, সচিবালয় ও আশপাশের সড়কেও এর প্রভাব পড়ে। অফিস শুরুর সময় হওয়ায় ভোগান্তি ছিল বেশি।
রাজধানীতে স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য এখন বহু মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর নির্ভর করেন। আবার এই রিকশা চলাচল ঘিরে সড়কের শৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা আর অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগ নিয়ে প্রশ্নও পুরোনো। এক দিকে লাখো চালকের জীবিকা, অন্য দিকে নগরের যান চলাচল ও বিদ্যুতের হিসাব। দুই দিক মিলিয়ে কোনো টেকসই নীতি না হলে এমন অবরোধ বারবার ফিরে আসবে। বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা শেষ হবে বুধবার। এর মধ্যে দাবি নিয়ে আলোচনার পথ না খুললে নগরবাসীকে আবার ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। তাই ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের অবরোধ নিয়ে সরকারের পরের পদক্ষেপের দিকে নজর থাকছে। চালকদের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে বৈধভাবে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।












