ভারতের কর্ণাটকের মঙ্গলোর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে প্রজাপতি জরিপ চালিয়ে ৭১টি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। পাঁচ দিনব্যাপী এ জরিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত সবুজ ক্যাম্পাসের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের চিত্র উঠে এসেছে।
জাতীয় পর্যায়ের ‘বিগ বাটারফ্লাই মান্থ ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে মঙ্গলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এ জরিপের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য নিবন্ধনের সহায়তায় আয়োজিত ‘বাটারফ্লাই ওয়াক’-এর নেতৃত্ব দেন প্রজাপতি গবেষক ও ফলিত প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. দীপক নায়েক।
জরিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীসহ ২৫ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। পাঁচ দিনের পর্যবেক্ষণে পাঁচটি প্রধান পরিবারের অন্তর্ভুক্ত মোট ৭১ প্রজাতির প্রজাপতি নথিভুক্ত করা হয়।
জরিপে সবচেয়ে বেশি দেখা প্রজাতিগুলোর মধ্যে ছিল কমন ক্রো এবং লাইনব্লু। পাশাপাশি বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রজাতিরও সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেডস্পট ডিউক বা Euthalia evelina।
পশ্চিমঘাট অঞ্চলের স্থানীয় বা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রজাতিও জরিপে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে মালাবার ব্যান্ডেড পিকক (Papilio buddha), সাহ্যাদ্রি বার্ডউইং (Troides minos) এবং তামিল ইয়োম্যান (Cirrochroa thais)। এসব প্রজাতি বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষিত।
জরিপের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো ইন্ডিগো ফ্ল্যাশ (Rapala varuna) প্রজাপতির উপস্থিতি নথিভুক্ত হওয়া। ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড. দীপক নায়েক বলেন, প্রজাপতি একটি পরিবেশের জৈবিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। একটি এলাকায় বিপুলসংখ্যক ও বৈচিত্র্যময় প্রজাপতির উপস্থিতি সাধারণত সেই এলাকার পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ভালো অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এ সংরক্ষণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উৎসাহ ও দিকনির্দেশনার জন্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এম এস মুস্তাকের প্রতিও আয়োজকেরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মঙ্গলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ৭১ প্রজাতির প্রজাপতির সন্ধান শুধু একটি জরিপের ফল নয়, বরং শহরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবুজ পরিসর কীভাবে নানা প্রজাতির প্রাণীর আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভবিষ্যতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম চালানো গেলে ক্যাম্পাসটির জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও বিস্তৃত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।












