জাপানের বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। সার, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের মতো খাতে নতুন সুযোগ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। গত রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানান মারুবেনির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মাসায়ুকি ওমোতো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে মারুবেনির বিনিয়োগ বাড়ানোর এই আগ্রহ এমন সময়ে এল, যখন সরকার বিদেশি বিনিয়োগ টানতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।
বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় সার খাত নিয়ে। ওমোতো কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি বা কাফকোর আধুনিকায়নের কথা বলেন। প্রাকৃতিক গ্যাসের আরও দক্ষ ব্যবহার ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও আসে। ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতায় আগ্রহ দেখিয়েছে মারুবেনি। তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়েও কথা হয়। ওমোতো জানান, যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান বিজেআইটির মাধ্যমে কয়েক শ বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছেন। এই সহযোগিতা এআই ও আইটি অফশোরিংয়ে বাড়ানো যায় বলে মত দেন তিনি।
আলোচনায় আরও কয়েকটি বড় বিষয় ছিল। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে জাহাজ রিসাইক্লিং এবং বাংলাদেশে টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরির প্রস্তাব নিয়ে কথা হয়। অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রসঙ্গও ওঠে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় ছোট মডুলার পারমাণবিক চুল্লি বা এসএমআর প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সেপার অগ্রগতি নিয়েও দুই পক্ষ কথা বলে। পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ও ছিল। এসব প্রস্তাবের কোনোটির জন্য এখনো বিনিয়োগের অঙ্ক বা সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে আলোচনার পরিধি দেখে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের কথা ভাবছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিনিয়োগ অনুমোদন সহজ করার কাজ চলছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে মুনাফা ও মূলধন সহজে নিজ দেশে নিতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। জাহাজ নির্মাণ ও রিসাইক্লিং, গাড়িশিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তির খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ আছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দুই পক্ষই শিল্প ও প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ার ওপর জোর দেয়।
বাংলাদেশে মারুবেনির বিনিয়োগ নতুন নয়। কাফকো আর বিজেআইটির মতো উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই যুক্ত। এখন সারের চাহিদা মেটাতে দেশকে প্রতিবছর বড় অঙ্কের ডলার খরচ করে আমদানি করতে হয়। দেশে উৎপাদন বাড়লে সেই খরচ কমতে পারে, কৃষকও সময়মতো সার পেতে পারেন। তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়লে তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য দেশে বসেই বিদেশি কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে আগ্রহ আর প্রস্তাব থেকে বাস্তব বিনিয়োগে যেতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশে মারুবেনির বিনিয়োগ কতটা বাড়ে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সেই প্রস্তুতির ওপর।












