২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি। দেশটির স্বরাষ্ট্র, শ্রম, কৃষি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক যৌথ পরিপত্রে এই কোটা ঘোষণা করেছে। ইতালিতে বিদেশি কর্মী নেওয়ার এই কর্মসূচি পরিচিত ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ নামে। যেসব দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা সংরক্ষিত, সেই তালিকায় বাংলাদেশও আছে। আবেদনের প্রাথমিক ধাপ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর। ফলে ইতালিতে কাজের আশায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা ইতালিতে কাজ করছেন, তাঁদের মাধ্যমে পরিচিতজনদের জন্য নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগও তৈরি হয়।
ঘোষিত কোটার মধ্যে মৌসুমি কাজের জন্য রাখা হয়েছে ৮৯ হাজার জায়গা। এর মধ্যে আছে কৃষি ও পর্যটন খাত। অমৌসুমি চাকরির জন্য বরাদ্দ ৭৬ হাজার ২০০টি। এর মধ্যে ১৪ হাজার রাখা হয়েছে পরিবারে সেবা ও গৃহকর্মের জন্য। আর নিজের ব্যবসা বা স্বনিয়োজিত কাজের জন্য রয়েছে মাত্র ৬৫০টি কোটা। অর্থাৎ বেশির ভাগ সুযোগ খেতখামার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও কারখানার মতো কাজে। মৌসুমি ভিসায় সাধারণত নির্দিষ্ট কয়েক মাসের জন্য কাজ করা যায়। অমৌসুমি কোটায় গেলে দীর্ঘ মেয়াদে কাজের সুযোগ থাকে।
আবেদন করতে হয় ইতালির নিয়োগকর্তার মাধ্যমে। নিয়োগকর্তারা ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ৭ ডিসেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন আগাম পূরণ করে রাখতে পারবেন। এরপর ৯ থেকে ১৩ ডিসেম্বর শুধু আগের আবেদন সংশোধনের সুযোগ থাকবে। মূল জমা হবে ২০২৭ সালের নির্দিষ্ট ‘ক্লিক ডে’-তে। মৌসুমি কৃষিকাজের জন্য ১২ জানুয়ারি, মৌসুমি পর্যটন খাতের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি। অমৌসুমি চাকরির জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারে সেবার কাজের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন জমা পড়বে। প্রতিটি ক্লিক ডে শুরু হবে সকাল ৯টায়। আগের বছরগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, কোটার তুলনায় আবেদন পড়ে অনেক বেশি। তাই নিয়োগকর্তার সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ সেরে রাখাই ভালো।
বাংলাদেশের জন্য খবরটি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে। ইতালি ইউরোপে বাংলাদেশিদের বড় গন্তব্যগুলোর একটি। রোম, মিলান, ভেনিসসহ বিভিন্ন শহরে বিপুল বাংলাদেশি কাজ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় উপসাগরীয় শ্রমবাজার নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তখন ইউরোপের বৈধ পথ নতুন ভরসা হতে পারে। ইতালিতে বিদেশি কর্মী নেওয়ার কোটা প্রতিবছর ঘোষণা হয়। কিন্তু প্রতিবারই অভিযোগ ওঠে, দালালের হাতে পড়ে অনেকে বিপুল টাকা খরচ করেও ভিসা পান না। তাই সুযোগ যত বড়ই হোক, পথ বেছে নিতে হবে সাবধানে। বৈধ পথে গেলে বেতন, চিকিৎসা ও আইনি সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত থাকে। অবৈধ পথে গেলে সেই সুরক্ষা থাকে না, ঝুঁকিও বাড়ে।
তাই আবেদনের আগে সতর্কতা জরুরি। পাসপোর্টের মেয়াদ, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য কাগজ হালনাগাদ রাখা দরকার। কোনো এজেন্সি বা ব্যক্তি ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সাবধান থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার, আবেদনটি জমা দেন ইতালির নিয়োগকর্তা, ঢাকার কোনো দালাল নয়। সম্ভব হলে ইতালিতে থাকা আত্মীয় বা পরিচিতদের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার কাগজপত্র যাচাই করে নেওয়া ভালো। ইতালিতে বিদেশি কর্মী হিসেবে যাওয়ার এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সঠিক তথ্য, সময়মতো প্রস্তুতি আর বৈধ পথই সবচেয়ে বড় ভরসা।












