ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর প্রথমবার জনসমক্ষে এসেছেন পোপ লিও। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের উদ্দেশে তিনি কথা বলেন। ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের এই প্রধান ধর্মগুরু জানান, তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরবেন। ভ্যাটিকানের হিসাবে, পোপ লিওকে দেখতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
৭১ বছর বয়সী পোপের অস্ত্রোপচার হয় গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর)। তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অপসারণ করা হয়। তাঁর রোগের নাম লাং অ্যাডেনোকার্সিনোমা, যা ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে প্রচলিত ধরনগুলোর একটি। শনিবার রোমের জেমেলি হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, রক্ত পরীক্ষা ও বুকের ইমেজিংয়ের ফল সন্তোষজনক। তিনি নিজের দৈনন্দিন কাজ নিজেই করতে পারছেন।
রোববার অ্যাপোস্টলিক প্যালেসের জানালা থেকে তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে কথা বলেন পোপ লিও। তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল, কণ্ঠ ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রার্থনা ও শুভকামনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। পোপ বলেন, ‘এই সংকটপূর্ণ সময় পার করে এখন আমি ধীরে ধীরে আমার কার্যক্রমে ফিরে আসব। এ ক্ষেত্রে ঈশ্বরের সহায়তা এবং আপনাদের প্রার্থনা আমার সঙ্গে থাকবে।’ তাঁকে দেখামাত্র স্কয়ার উল্লাস ও করতালিতে ভরে যায়। এক সন্ন্যাসিনীকে আবেগে হাঁটু গেড়ে কাঁদতে দেখা যায়। পাশে কয়েকজন সন্ন্যাসিনী পোপের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ব্যানার তুলে ধরেন।
তবে পোপের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভ্যাটিকান অন্তত বুধবার পর্যন্ত তাঁর অন্যান্য প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। ওই দিন সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক সাধারণ সমাবেশ হওয়ার কথা। সেটি সময়মতো হবে কি না, নিশ্চিত নয়। আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের পরিকল্পনা আছে তাঁর। প্রধান অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক স্তেফানো মার্গারিতোরা বলেছেন, সফরের আগেই পোপ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রবিষয়ক দায়িত্বে থাকা কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন সতর্ক করেছেন, স্বাস্থ্য বুঝে কর্মসূচির গতি কমাতে হতে পারে।
২০২৫ সালের মে মাসে পোপ নির্বাচিত হন লিও। কয়েক দশকের মধ্যে তুলনামূলক কম বয়সে দায়িত্ব নেওয়ায় তাঁর অসুস্থতার খবর অনুসারীদের উদ্বিগ্ন করেছিল। বাংলাদেশের খ্রিষ্টানদের বড় অংশ ক্যাথলিক, তাই পোপ লিওর স্বাস্থ্যের খবর এখানেও গুরুত্ব পায়। আপাতত তাঁর পূর্ণ কর্মসূচি কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করছে চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর।












