ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে বাড়তি সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শিশুদের অতিরিক্ত চিনির সংস্পর্শ কমানো এবং ভবিষ্যতে স্থূলতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) এ প্রস্তাব দেয়। এর মাধ্যমে শিশুখাদ্যে বাড়তি চিনি ব্যবহারের বিষয়ে বিদ্যমান নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শিশুখাদ্যে কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে ল্যাকটোজ ও গ্লুকোজ পলিমারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের খাবারে এসব চিনি যোগ করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন খাবারের দোকান ও ব্র্যান্ডের রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানোর পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল ব্যবহারের বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ দেশটির ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের প্যাকেটজাত খাদ্যশিল্পেও প্রভাব ফেলছে।
এফএসএসএআই জানিয়েছে, শিশুদের খাদ্যতালিকায় বাড়তি চিনির উপস্থিতি কমানো এবং শৈশবকালীন স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করাই প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য। সংস্থাটির বিদ্যমান বিধিমালায় জন্ম থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের জন্য তৈরি পুষ্টিপণ্যের উপাদান, গুণগত মান ও নিরাপত্তার মানদণ্ড নির্ধারণ করা রয়েছে।
ভারতে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ৪৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এফএসএসএআই ও বিভিন্ন রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন ও অভিযান আরও জোরদার করেছে। এসব অভিযানের ছবি ও ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
এর আগে আগস্টে খাদ্যপণ্যে চিনিসহ উদ্বেগজনক পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি বোঝাতে বিশেষ সতর্কতামূলক চিহ্ন ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল এফএসএসএআই। প্রাথমিক প্রস্তাবে চিনি, লবণ বা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মতো অন্তত দুটি উপাদান নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে লাল ষড়ভুজাকৃতির চিহ্ন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। পরে জনমতের প্রতিক্রিয়ার পর প্রস্তাবটি আরও কঠোর করা হয়। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব উপাদানের যেকোনো একটির মাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়ালেই সতর্কবার্তা দেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়।
শিশুখাদ্যে বাড়তি চিনি নিষিদ্ধের নতুন প্রস্তাবটি ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।












