ভারতের রুপির দর ডলারের বিপরীতে ৯৫-এর কাছাকাছি আটকে থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাটির ওপর চাপ তৈরি করলেও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ডলার বিক্রির কারণে বড় ধরনের দরপতন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাজার খোলার সময়ও রুপির দর এই সীমার আশপাশে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন মুদ্রাবাজারের ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার ডলারের বিপরীতে রুপির দর ছিল ৯৪.৯৬। সোমবার লেনদেন শুরুর সময় প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির সম্ভাব্য দর ৯৪.৯২ থেকে ৯৪.৯৮-এর মধ্যে থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি লেনদেন পর্বে রুপির দর ৯৫-এর আশপাশে ওঠানামা করেছে। কখনো এই সীমা অতিক্রম করে কিছুটা শক্তিশালী হলেও সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি মুদ্রাটি। আবার ৯৫-এর ওপরে দর দুর্বল হওয়ার চেষ্টা করলেই বাধার মুখে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, রুপির দর ৯৫-এর বেশি দুর্বল হয়ে পড়া ঠেকাতে আরবিআই ডলার বিক্রি করছে। এতে ৯৫-এর সীমাটি রুপির জন্য স্বল্পমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে প্রায় চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সাপ্তাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ভারতীয় রুপি। মুদ্রাটিকে শক্তিশালী করতে আরবিআইয়ের নেওয়া পদক্ষেপ এবং স্পট মার্কেটে ধারাবাহিক ডলার বিক্রি এতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে উচ্চ জ্বালানি তেলের দাম ও বিদেশি মূলধন প্রত্যাহারের কারণে রুপির ওপর চাপ এখনো রয়ে গেছে। মুদ্রাটির দর ধরে রাখতে আরবিআইয়ের হস্তক্ষেপও বাড়ানো হয়েছে।
এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির রিজার্ভ প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার কমে ৭২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। রুপি রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বিভিন্ন সোয়াপ ব্যবস্থাও এতে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে রুপির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ।
সোমবার অবশ্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলারে নেমে আসে। রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছাড় দেওয়ার পর বাজারে এই পরিবর্তন দেখা যায়। এতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মত রয়েছে, তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না কমলে রুপিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আরবিআইয়ের পদক্ষেপের কার্যকারিতা সীমিত থাকবে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সাময়িকভাবে মুদ্রার দর ধরে রাখতে পারলেও তেলের উচ্চমূল্য ও মূলধন প্রত্যাহারের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।












