জিঞ্জিরার ৪০০ বছরের কবুতরের হাট রাজধানীর উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জে এখনো টিকিয়ে রেখেছে মুঘল আমলের এক ঐতিহ্য। সময়ের সঙ্গে হাটের ধরন ও পরিসর বদলালেও কবুতরপ্রেমী ও ব্যবসায়ীদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে এই প্রাচীন বাজার। স্থানীয়দের ভাষ্য, মুঘল আমল থেকে চলে আসা এই হাট আজও এলাকার অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্য।
ঐতিহ্যগতভাবে জিঞ্জিরার ৪০০ বছরের কবুতরের হাট সপ্তাহে দুই দিন, সোমবার ও শুক্রবার, বসে। তবে সময়ের সঙ্গে এর পরিসর বেড়েছে। নির্ধারিত দুই দিনের বাইরেও আশপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি স্থায়ী পাখির দোকান। ফলে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতেও এখানে কবুতর কেনাবেচা চলে।
এই হাটে দেশি-বিদেশি নানা জাতের কবুতর পাওয়া যায়। দেশি জাতের মধ্যে রয়েছে জালালি, গোলা ও গিরিবাজ। শৌখিন কবুতরপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় বিদেশি জাতের মধ্যে রয়েছে কিং, ফ্যানটেইল বা ময়ূরপঙ্খি, জ্যাকোবিন ও হোমার।
কবুতরের জাত, রং, গঠন ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি পাখির দাম। একেক জাতের কবুতরের চাহিদাও একেক রকম। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে দরদাম এবং পছন্দের ভিত্তিতে চলে বেচাকেনা।
শুধু কবুতর কেনাবেচার জায়গা হিসেবেই নয়, সময়ের সঙ্গে জিঞ্জিরার ৪০০ বছরের কবুতরের হাট গড়ে উঠেছে কবুতর পালন, প্রজনন ও পরিচর্যারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে। এই বাজারকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক মানুষ। ব্যবসায়ী ও কবুতর পালনকারীদের জন্য এটি দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি কর্মক্ষেত্র।
প্রায় চার শতাব্দী ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে জিঞ্জিরার ৪০০ বছরের কবুতরের হাট। বেচাকেনার ধরন বদলেছে, বেড়েছে স্থায়ী দোকানের সংখ্যা। কিন্তু কবুতরপ্রেমীদের আগ্রহ কমেনি। স্থানীয় ঐতিহ্য, শৌখিনতা ও জীবিকার সমন্বয়ে এখনো প্রাণবন্ত রয়েছে মুঘল আমলের স্মৃতিবিজড়িত এই বাজার।












