কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ বাড়ায় সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার পণ্যের চাহিদা তীব্র হয়েছে। এর প্রভাবে অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১১৫ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির রপ্তানি বৃদ্ধির এটি সবচেয়ে বড় হার।
রোববার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা যায়, অক্টোবরে রপ্তানি বৃদ্ধির হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। এক জরিপে বিশ্লেষকেরা ৯৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছিল ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর অক্টোবরে কর্মদিবস বেশি থাকাও প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। দুই বছরের চুসক উৎসবের সময়সূচির পার্থক্যের কারণে কর্মদিবসের এই ব্যবধান তৈরি হয়।
এআই বিনিয়োগে চিপ রপ্তানিতে উল্লম্ফন
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্যকেন্দ্র ও সার্ভার অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এতে উন্নত চিপ ও কম্পিউটিং সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে, যার সরাসরি সুফল পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
অক্টোবরে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি ২৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। চিপের দাম ও রপ্তানির পরিমাণ—দুটিই উচ্চ পর্যায়ে থাকায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া এআই সেবার জন্য সার্ভারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কম্পিউটার পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
দেশটির বড় দুই চিপ নির্মাতা স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সও এআই খাতের চাহিদা থেকে লাভবান হচ্ছে। শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি ও বিনিয়োগের কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে।
নভেম্বরেই এক ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান বলেছেন, অক্টোবরে রপ্তানি ১১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকায় নভেম্বরের মধ্যেই বার্ষিক রপ্তানি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখন জোরালো।
জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯৩০ বিলিয়ন ডলারে। বছর শেষে রপ্তানি এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির পর দক্ষিণ কোরিয়া হবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ, যারা এই মাইলফলক অর্জন করবে।
অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি প্রধান বাজারগুলোতেই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। চীনে রপ্তানি বেড়েছে ১৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৫ দশমিক ৮ শতাংশ, ইউরোপে ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১২৮ শতাংশ।
আমদানি বাড়লেও বাণিজ্য উদ্বৃত্ত
অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের জানুয়ারির পর এটিই আমদানি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ বার্ষিক হার।
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির যন্ত্রপাতির চাহিদা এবং গাড়ি আমদানি বৃদ্ধির কারণে আমদানিতে এই উল্লম্ফন হয়েছে। সেপ্টেম্বরে আমদানি বেড়েছিল ২৬ শতাংশ।
অক্টোবরে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৪২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। আগের মাসে রেকর্ড ৪৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্তের তুলনায় তা কম।
দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানির এই উল্লম্ফন বিশ্ববাণিজ্যে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের বাড়তি গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতের চাহিদা দেশটির রপ্তানি আয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।












