চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মধ্যেও সরকার দায়িত্ব পালন করছে। এমন পরিস্থিতিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের নামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
তিনি দাবি করেন, যানবাহন ও পুলিশের বক্সে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, কারা এসব ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে এবং কারা নাশকতায় উসকানি দিচ্ছে, তা এখন মানুষের কাছে স্পষ্ট। এ বিষয়টি বুঝতে বড় বই পড়া বা উচ্চতর ডিগ্রির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আনতে বিভিন্ন দেশ সফর করছেন, তখন দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
তিনি তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরের কথাও উল্লেখ করেন। রিজভী বলেন, ওই সফরে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রিজভী আরও দাবি করেন, রোববার শ্রমিক আন্দোলন থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন বলেও তিনি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি।

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে পাশে চান
সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। এ ক্ষেত্রে আইনজীবী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাধারণ জনগণকে সরকারের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত একটি শক্তি এবং আরেকটি রাজনৈতিক শক্তি গোপনে সম্পর্ক বজায় রেখে একসঙ্গে কাজ করছে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসীরা দেশের মাটি, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, যারা তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তাদের আহ্বান জানানো হবে। কেউ ভিন্ন পথ বেছে নিলেও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যাবে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রিজভী।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, দলটির রাজনৈতিক ইতিহাস কর্তৃত্ববাদী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ ও নতি স্বীকারের ইতিহাস।
‘বিপ্লবের কথা বলছেন?’—এমন প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, কর্তৃত্ববাদী শক্তির সামনে নতজানু হওয়ার ইতিহাস যাদের, তাদের মুখে বিপ্লবের কথা মানায় না।
শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে এলেও অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।












