ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তবে সমাবেশের পর বিজেপি দাবি করেছে, মাঠের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল। দলটির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের এই বক্তব্য ঘিরে সমাবেশের জনসমাগম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রোববার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সম্বিত পাত্র সমাবেশের কিছু দৃশ্য দেখিয়ে বলেন, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতির কথা বললেও বাস্তবে সেই সংখ্যা দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে মাঠে রাখা ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার খালি ছিল।
পাত্র বলেন, রামলীলা ময়দানের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা থাকার দৃশ্যই কংগ্রেসের জনসমাগমের দাবির বাস্তবতা তুলে ধরে। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি কংগ্রেসের নেতা কে সি বেণুগোপাল ও পবন খেরাও সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিজেপির এই বক্তব্যের বিপরীতে সমাবেশকে সফল বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতারা।
বিরোধীদের দাবি, সমাবেশ সফল
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সমাবেশকে ‘খুবই সফল’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে বিজেপি হতাশ হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্য শশী থারুর বলেন, জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মনোভাব তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, জ্ঞানেশ কুমারের উচিত মানুষের অনাস্থার বিষয়টি উপলব্ধি করে পদত্যাগ করা।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অভিযোগ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে রামলীলা ময়দানে এই সমাবেশের আয়োজন করে ইন্ডিয়া জোট। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি হচ্ছে। তারা এ আন্দোলনকে ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেছে।

সমাবেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ছাড়াও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার একদিন কারাগারে যাবেন। তাঁকে নির্বাচন কমিশনের পদ থেকে সরানো দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাহুলের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার দেশের মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছেন এবং তিনি বড় ধরনের অপরাধ করেছেন। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ইন্ডিয়া জোটের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সমাবেশের জনসমাগম নিয়ে বিজেপি ও বিরোধীদের বিপরীত দাবি সামনে এসেছে। একদিকে বিজেপি মাঠের বড় অংশ ফাঁকা থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী নেতারা সমাবেশকে সফল হিসেবে তুলে ধরছেন।












