কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি একদিকে মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য বড় বিপদ তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই। তাঁর এই উদ্বেগ হঠাৎ তৈরি হয়নি। কৈশোর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, গবেষণা এবং প্রযুক্তি খাতে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে।
৪৩ বছর বয়সী আমোদেইয়ের চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি দর্শন—যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং কার্যকর পরোপকার। প্রথমটি হলো আবেগের পরিবর্তে যুক্তি ও গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পৃথিবীকে বোঝার চেষ্টা। দ্বিতীয়টির লক্ষ্য হলো সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা।
তাঁর বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষক ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর চিন্তার বিবর্তনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে দেখা যায়, এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ মোকাবিলায় প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ উন্নয়নকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, এআই এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তা মানবসমাজের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগের শুরু
২০০৭ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করার সময় বন্ধু কলিন হেকম্যানের সঙ্গে এক আলোচনায় এআই নিয়ে নিজের ভাবনার কথা বলেছিলেন আমোদেই। তখন তিনি রে কার্জওয়াইলের ২০০৫ সালে প্রকাশিত বই ‘দ্য সিঙ্গুলারিটি ইজ নিয়ার’ পড়ছিলেন।
বইটিতে কার্জওয়াইল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, একসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মস্তিষ্কের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রযুক্তির এই পর্যায়কে বলা হয় ‘সিঙ্গুলারিটি’। আমোদেই তাঁর বন্ধুকে বলেছিলেন, তাঁদের জীবদ্দশাতেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

হেকম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে আমোদেই এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁর আশঙ্কা ছিল, এআই সঠিকভাবে তৈরি করা না গেলে মানবসভ্যতা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
সে সময় তিনি এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ব্লগ ও আলোচনাগোষ্ঠী অনুসরণ করতেন। বিশেষ করে এলিয়েজার ইউডকোস্কির লেখালেখি তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। ইউডকোস্কি যুক্তি দিতেন, নিয়ন্ত্রণহীন শক্তিশালী এআই একসময় মানবসমাজকে ধ্বংস করতে পারে।
যুক্তিবাদ ও কার্যকর পরোপকারের প্রভাব
আমোদেইয়ের চিন্তায় দুটি ধারণা বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। প্রথমটি ‘র্যাশনালিজম’ বা যুক্তিবাদ। এর মূল কথা হলো, ব্যক্তিগত আবেগ বা প্রচলিত ধারণার বদলে যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
দ্বিতীয়টি ‘ইফেকটিভ অ্যালট্রুইজম’ বা কার্যকর পরোপকার। এই দর্শনের অনুসারীরা মনে করেন, মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা অর্থ ও সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ কোন উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি মানুষের উপকার হবে, তা পরিমাপ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
আমোদেইয়ের ক্ষেত্রে এই দুটি দর্শন একসঙ্গে কাজ করেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, তিনি মনে করতে শুরু করেন, এআইয়ের বিপদ এতটাই বড় যে প্রযুক্তিটি এমন ব্যক্তিদের হাতেই তৈরি হওয়া উচিত, যাঁরা মানবজাতির নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন।
এই বিশ্বাস থেকেই এআইয়ের উন্নয়ন নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শৈশব থেকেই আলাদা চিন্তাভাবনা
আমোদেই ও তাঁর ছোট বোন ড্যানিয়েলা আমোদেই সান ফ্রান্সিসকোর মিশন এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁদের বাবা রিকার্ডো আমোদেই চামড়ার কারুশিল্পী ছিলেন। মা এলেনা এঙ্গেল সরকারি গ্রন্থাগার সংস্কারকাজ পরিচালনা করতেন।

স্কুলজীবন থেকেই আমোদেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও জ্ঞানপিপাসু। সান ফ্রান্সিসকোর লোয়েল হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে বিভিন্ন ক্লাসও করতেন।
মানুষের সর্বোচ্চ সুখ নিশ্চিত করার দর্শন বা উপযোগবাদ নিয়েও তাঁর আগ্রহ ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি প্রায়ই মানুষের জীবন, প্রাণীর অধিকার এবং নৈতিক সিদ্ধান্তের যুক্তি নিয়ে বিতর্ক করতেন।
২০০১ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। ২০০৬ সালে স্নাতক শেষ করে প্রিন্সটনে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি শুরু করেন।
ওই বছর তাঁর বাবা হেপাটাইটিস সিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবার মৃত্যু তাঁকে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তোলে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক গবেষণার গতি বাড়ানোর সম্ভাবনা তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল।
আমোদেইয়ের এক সাবেক প্রেমিকা জেড ওয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা প্রায়ই আলোচনা করতেন, একজন বিজ্ঞানী একটি নির্দিষ্ট রোগ নিয়ে সারা জীবন গবেষণা করার পরিবর্তে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করতে পারেন, যা পুরো চিকিৎসাবিজ্ঞানকে এগিয়ে নেবে।
সময়কে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ মনে করতেন
আমোদেইয়ের চিন্তায় মানুষের সীমিত আয়ু এবং সময়ের গুরুত্বও বড় জায়গা দখল করে ছিল। তাঁর বন্ধুদের মতে, সময়কে তিনি এমন একটি সম্পদ মনে করতেন, যা একবার চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না।
২০১৪ সালে তাঁর অণ্ডকোষের ক্যানসার শনাক্ত হয়। কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এর আগে থেকেই তিনি বার্ধক্য বিলম্বিত করার বিভিন্ন উপায়, খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত সাঁতারের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তাঁর পরিচিতদের মতে, জীবনকে দীর্ঘ করার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মাধ্যমে মানুষের আয়ু বাড়ানোর বিষয়টি তাঁকে ভাবাত।

গুগল ও ওপেনএআইয়ে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ
২০১৪ সালে চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বাইদুর ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণাগারে যোগ দেন আমোদেই। পরের বছর তিনি গুগলের এআই গবেষণাগার গুগল ব্রেইনে কাজ শুরু করেন। সেখানে তাঁর প্রধান আগ্রহ ছিল এআইয়ের নিরাপত্তা।
২০১৬ সালে তিনি ও আরও পাঁচজন গবেষক এআই নিরাপত্তা নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এতে দেখানো হয়, যথাযথ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ভুল আচরণ করতে পারে এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একই বছর তিনি অলাভজনক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে যোগ দেন। সেখানে এআই নিরাপত্তা এবং আরও বেশি তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা কীভাবে বাড়ে, তা নিয়ে গবেষণার নেতৃত্ব দেন।
ওপেনএআইয়ে কাজ করার সময় তাঁর নিরাপত্তাকেন্দ্রিক অবস্থান আরও কঠোর হয়। সহকর্মীদের মতে, এআইয়ের ক্ষমতা যত বাড়ছিল, সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়েও তিনি তত বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছিলেন।
২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার তিন দিন পর ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে আমোদেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে দেশটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেছিলেন, কর্তৃত্ববাদী কোনো দেশে সামরিকভাবে শক্তিশালী প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করতে তিনি স্বস্তি বোধ করবেন না।
ওপেনএআই ছাড়ার পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ
ওপেনএআইয়ে আমোদেইয়ের বোন ড্যানিয়েলাও যোগ দেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ও নীতিবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।
তবে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে আমোদেই ভাইবোনের প্রভাব বাড়তে থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কয়েকজন কর্মীর আশঙ্কা ছিল, এআইয়ের নৈতিকতা ও নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব একাধিক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া উচিত।

২০১৮ সালে দারিও ও ড্যানিয়েলা ওপেনএআইয়ের জিপিটি প্রকল্পের দায়িত্ব নেন। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল মানুষের নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থা তৈরি করা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল।
কিন্তু প্রকল্প পরিচালনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের মতবিরোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানের ভূমিকা নিয়ে বিরোধ বাড়ে।
শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আমোদেই ভাইবোনসহ কয়েকজন সহকর্মী ওপেনএআই ছেড়ে দেন। চার সপ্তাহ পর তাঁরা নতুন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক গড়ে তোলেন।
এআই নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান
অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠার পর আমোদেই তাঁর এআই নিরাপত্তাকেন্দ্রিক অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে থাকেন।
তিনি মনে করেন, এআইয়ের উন্নয়ন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে প্রযুক্তিটি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে না পারে। একই সঙ্গে চীনের কাছে উন্নত প্রযুক্তির চিপ বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন।
সম্প্রতি এক প্রবন্ধে তিনি এআইয়ের উন্নয়নের গতি কিছুটা কমিয়ে আরও সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তিটি তৈরির আহ্বান জানান। তাঁর যুক্তি, সঠিকভাবে প্রযুক্তি তৈরি করতে পারলেই এর সম্ভাব্য সুফল পাওয়া সম্ভব। তাই তাড়াহুড়ো না করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় নেওয়া উচিত।

সমর্থন ও সমালোচনা—দুই-ই বাড়ছে
আমোদেইয়ের এই অবস্থান এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা অনেকের সমর্থন পেয়েছে। তাঁদের মতে, তিনি প্রযুক্তির সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং দায়িত্বশীলভাবে এআই তৈরি করতে চান।
তবে সিলিকন ভ্যালি ও ওয়াশিংটনের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। মেটার মার্ক জাকারবার্গ ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি খাতের নেতারা তাঁর অবস্থানকে অতিরিক্ত বিপদকেন্দ্রিক বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এআই নিয়ে ভয় ছড়িয়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
আমোদেই অবশ্য প্রকাশ্যে নিজেকে কার্যকর পরোপকার দর্শনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতে চান না। ২০২৩ সালে এক পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, এই দর্শনের কিছু ধারণার প্রতি তাঁর সহানুভূতি রয়েছে। তবে মানুষকে বিভিন্ন মতাদর্শিক গোষ্ঠীতে ভাগ করার পক্ষে তিনি নন।
তাঁর চিন্তার এই দ্বৈত অবস্থানই এখন প্রযুক্তি জগতের বড় বিতর্কগুলোর একটি। একদিকে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন।
অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে আমোদেইয়ের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কিন্তু তাঁর দীর্ঘদিনের চিন্তাভাবনা একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—মানুষের তৈরি এমন একটি প্রযুক্তি, যা একসময় মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে কে?












