যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বিশ্বায়নকে পেছনে ঠেলে দিতে চাইছেন, তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থান বিশ্ববাণিজ্যে তৈরি করেছে উল্টো প্রবণতা। এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজনীয় চিপ, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নতুন গতি পেয়েছে। এমনকি যেসব সরকার এত দিন আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাবাদকে গুরুত্ব দিয়েছে, তারাও এআই খাতের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিচ্ছে।
বিশ্ববাণিজ্যে এই পরিবর্তনকে বিশ্বায়নের নতুন বাস্তবতা হিসেবে দেখছে অর্থনীতি বিষয়ক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। সাময়িকীটির ৭ নভেম্বরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষাবাদের বিস্তার ঘটলেও বাস্তবে এআই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে মুক্তবাণিজ্যের বিরোধিতাকারী দেশগুলোও নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।
শুল্কের মধ্যেও বাড়ছে বিশ্ববাণিজ্য
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প আমদানি পণ্যে বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিনের বাণিজ্যঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য জরুরি হুমকি। একই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইস্পাত আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। মেক্সিকোও চীনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থনীতিবিদদের তৈরি একটি সূচক অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিধিনিষেধমূলক পদক্ষেপ ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও বিশ্ববাণিজ্য সংকুচিত হয়নি। বরং ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিশ্ববাণিজ্যের ডলারে পরিমাপ করা মূল্য ২৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ শতাংশ। পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বিবেচনায়ও টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।
বিশ্ববাণিজ্যের এই প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এআই প্রযুক্তি। তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের কারণে সার্ভার, সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের আন্তর্জাতিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার করে দ্য ইকোনমিস্টের হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে এসব পণ্যের বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট আমদানির প্রায় এক-চতুর্থাংশই এআই-সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ১৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিতে এআই সরঞ্জামের আধিপত্য
এআই অবকাঠামো নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের একটি। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৫ শতাংশ এখন কম্পিউটার, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে। এসব সরঞ্জামের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের হিসাব অনুযায়ী, উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জামে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি এক ডলার বিনিয়োগ করলে প্রায় ৯০ সেন্টের পণ্য আমদানি করে। চলতি বছর দেশটির এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে অন্যান্য পণ্যের আমদানি কমেছে ১০ শতাংশ। তিন বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্র সার্ভার, চিপ ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের তুলনায় গাড়ি, তেল, ওষুধ ও ধাতব পণ্য পাঁচ গুণের বেশি আমদানি করত। এখন এআই অবকাঠামোর সরঞ্জাম আমদানি সেই ব্যবধান পেরিয়ে গেছে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতিতেও এআই খাতের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো বড় ধরনের ছাড় পেয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁর ঘোষিত তথাকথিত ‘মুক্তি দিবসের’ শুল্কের পরও কম্পিউটার হার্ডওয়্যার আমদানির ৯৭ শতাংশ এবং নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম আমদানির ৮৫ শতাংশ শুল্কছাড়ের আওতায় রয়েছে।
মিনিয়াপোলিস ফেডের এক অর্থনীতিবিদের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আদায় করা শুল্কের পরিমাণ ছিল এসব পণ্যের মূল্যের ২ শতাংশেরও কম। অথচ এআই-বহির্ভূত পণ্যের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ১০ শতাংশ।
জানুয়ারিতে আরোপ করা সেমিকন্ডাক্টর শুল্কেও রয়েছে ব্যাপক ছাড়। ২৫ শতাংশ শুল্কের লক্ষ্য মূলত এনভিডিয়ার এইচ২০০-এর মতো উন্নত চিপ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যকেন্দ্র, নতুন প্রযুক্তি উদ্যোগ, গবেষণা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য আমদানিতে এত বেশি ছাড় রাখা হয়েছে যে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস প্রশ্ন তুলেছে, আদৌ এসব চিপ আমদানির কতটুকু শুল্কের আওতায় পড়বে।
বাণিজ্যঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে নতুন সংকট
ট্রাম্পের শুল্কনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কমানো। কিন্তু এআই সরঞ্জাম আমদানির প্রবল চাহিদা সেই লক্ষ্যকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৬ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি। একই সময়ে দেশটির মোট আমদানি পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়।
বিশ্বে সার্ভার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ছয় ভাগের এক ভাগ। অথচ এসব প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানি দিয়ে আমদানির ব্যয় পূরণ করার মতো সক্ষমতা দেশটির নেই। ফলে বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতিই সবচেয়ে বেশি।
দ্য ইকোনমিস্টের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই পণ্যের আমদানি অন্যান্য পণ্যের মতো একই গতিতে বাড়লে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যঘাটতি প্রায় ১৬ শতাংশ বা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার কম হতো।
তবে সাময়িকীটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শুধু বাণিজ্যঘাটতি দিয়ে কোনো দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য বিচার করা ঠিক নয়। বিদেশে তৈরি একটি সার্ভার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে আমদানি বাড়ে এবং বাণিজ্যঘাটতিও বাড়ে। কিন্তু সেটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তথ্যকেন্দ্রে স্থাপন করা হলে বছরের পর বছর উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে কম্পিউটিং সক্ষমতা তৈরি হয়, যা অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে।
ফেডারেল রিজার্ভের গবেষণাতেও দেখা গেছে, অতীতে প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের বড় ঢেউ চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ালেও অর্থনৈতিক উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। মুক্তবাণিজ্যের সুবিধা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো চিপ নকশা, এআই গবেষণা ও সফটওয়্যার তৈরির মতো নিজেদের দক্ষতার জায়গায় মনোযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে বিশেষায়িত উৎপাদনকারী দেশগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে।
এআই সরবরাহব্যবস্থায় এশিয়ার গুরুত্ব
এআই প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থা এতটাই আন্তর্জাতিক যে শুধু দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে এর ওপর নির্ভরতা কমানো কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের এআই পণ্য আমদানির পাঁচ ভাগের চার ভাগের বেশি আসে ছয়টি অর্থনীতি থেকে—তাইওয়ান, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া।
বিশেষ করে এআই সার্ভার ও কম্পিউটার প্রক্রিয়াকরণের সরঞ্জাম আমদানির ৮৫ শতাংশ আসে মেক্সিকো ও তাইওয়ান থেকে। কিছু পণ্য অন্য দেশ ঘুরে আসার কারণে প্রকৃত উৎপাদনস্থল সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। তবে এসব পণ্যে চীনের দৃশ্যমান রপ্তানি-অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
একটি এনভিডিয়া জিবি৩০০ এআই সার্ভার র্যাকের উদাহরণ দিয়ে এই জটিল সরবরাহব্যবস্থা তুলে ধরেছে দ্য ইকোনমিস্ট। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি এই সার্ভারের চিপ নকশা করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। চিপ তৈরি হয় তাইওয়ানে। সেখানে ব্যবহৃত ডাচ লিথোগ্রাফি যন্ত্রে থাকে জার্মানিতে তৈরি সূক্ষ্ম আয়না। আবার চিপের সঙ্গে যুক্ত হয় দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি উচ্চগতির মেমোরি।
এরপর ৭২টি শক্তিশালী এআই চিপযুক্ত ১৮টি কম্পিউটিং ট্রে তাইওয়ান থেকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়। সেখানে এগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হয় শীতলীকরণ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহের মডিউল, নেটওয়ার্ক সুইচ এবং চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আসা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। সবশেষে তৈরি সার্ভার র্যাক সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে।
এমনকি এনভিডিয়ার ব্ল্যাকওয়েল চিপ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় তৈরি হলেও উচ্চগতির মেমোরির সঙ্গে সংযোজনের জন্য সেগুলো আবার এশিয়ায় পাঠাতে হয়। অর্থাৎ একটি এআই পণ্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়া একাধিক দেশ ও উৎপাদনব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
শুল্কের কারণে বাড়ছে এআই অবকাঠামোর ব্যয়
এআই খাতে মুক্তবাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিলেও ট্রাম্পের শুল্কনীতির অন্য অংশগুলো এই খাতের ব্যয় বাড়াচ্ছে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর শুল্ক আরোপের কারণে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের খরচ বাড়ছে। ভবন নির্মাণের উপকরণ থেকে শুরু করে শীতলীকরণ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে।
কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের (সিএসআইএস) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যকর ধাতব পণ্যের শুল্ক ২০৩০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৩০ বিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে।
এর চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে সেমিকন্ডাক্টর ও সেমিকন্ডাক্টরযুক্ত পণ্যের ওপর আরও ব্যাপক শুল্ক আরোপ করা হলে। সার্ভারের মতো এআই অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামও তখন এর আওতায় পড়তে পারে। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের পণ্যে সর্বজনীন ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় আরও ৩৬০ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
গত ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নির্বাচনের রাতে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের কারণে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে।
দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হলো, বিশ্বায়নকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে থামিয়ে দেওয়া সহজ নয়। যে দেশগুলো একসময় আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারাও এখন এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে বিদেশি উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। এআইয়ের উত্থান তাই মুক্তবাণিজ্যের বিরোধীদেরও বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।












