যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে দলটি। দীর্ঘ দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ঠেকাতে চিঠি ও বিবৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাদের। বিরোধী দলে থাকায় শুনানি আয়োজন, সমন জারি কিংবা আইন পাসের মতো কার্যকর ক্ষমতা ছিল না। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটানো এবং একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশা, অর্থনীতি ও জনজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে ফেরার পথ তৈরি হবে। কিন্তু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কিংবা অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলে রিপাবলিকানদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বড় জয়, কিন্তু একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ২৬০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেটেও দলটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে এই জয় তাদের এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়নি, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করে আইন পাস করা সম্ভব।
প্রতিনিধি পরিষদে এ জন্য প্রয়োজন ২৯০টি এবং সিনেটে ৬৭টি আসন। ফলে বড় ধরনের আইনগত পরিবর্তন আনা কঠিন হবে। তবে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের মতো জনসমর্থন পাওয়া কিছু বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদের সম্ভাব্য স্পিকার হাকিম জেফরিসের প্রথম কাজগুলোর একটি হবে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইডে রিপাবলিকানদের কমানো অর্থায়ন পুনর্বহালের চেষ্টা করা। একই সঙ্গে ওবামাকেয়ারভিত্তিক ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকিও ফিরিয়ে আনতে চাইবে দলটি।
ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ
ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ট্রাম্পের আরোপ করা আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা। তাদের যুক্তি, এসব শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য ও সেবার ব্যয় বেড়েছে, যার চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
এ লক্ষ্যে ‘এন্ড ট্রাম্পস ট্যারিফ ট্যাক্স অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কসহ বাণিজ্যযুদ্ধ চালানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যবহার করা বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে চায় ডেমোক্র্যাটরা।
তবে এসব উদ্যোগের অধিকাংশই আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা এবং ভোটারদের সামনে দলের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করা।
বাজেট আলোচনায় দর-কষাকষির সুযোগ
ডেমোক্র্যাটদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট। আগামী ১১ ডিসেম্বর সরকারের বর্তমান অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হবে। তবে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরপরই সরকার অচল করে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইবে না দলটি।
এ কারণে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ পর্যন্ত সাময়িক অর্থায়নের বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। এরপর পুরো অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। সেই আলোচনায় স্বাস্থ্যসেবা, আমদানি শুল্ক এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা করে আসছে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের বক্তব্য, অভিবাসন কার্যক্রমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে সাধারণ মানুষের মৌলিক সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তায় অর্থ দেওয়া উচিত। কিন্তু রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের অর্থায়ন সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
শুল্ক প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও বাধা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই শুল্ক বহাল রাখার জন্য বিভিন্ন আইনি পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা
ইরান যুদ্ধের অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইলে ডেমোক্র্যাটদের সিনেটে কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কারণ, সিনেটের দীর্ঘ বিতর্ক ও বিল আটকে দেওয়ার নিয়ম অতিক্রম করা সহজ নয়। এমনকি ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও যুদ্ধের সব অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
তাই বিকল্প হিসেবে যুদ্ধের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে প্রশাসনকে বাধ্য করার উদ্যোগ নিতে পারে দলটি। হতাহতের সংখ্যা, অস্ত্রের মজুত এবং সামরিক অভিযানের ব্যয় সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশের শর্ত আরোপ করা হতে পারে।
গত এক বছরে পেন্টাগন আইনপ্রণেতাদের কাছে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সীমিত রেখেছে। ২০০৬ সালে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ইরাক যুদ্ধের সময়ও ডেমোক্র্যাটরা একই ধরনের তথ্য প্রকাশের শর্ত আরোপ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়বে
অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন হলেও প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটে ট্রাম্পের বিচারক ও মন্ত্রিসভার মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে তাদের।
বিশেষ করে ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের কোনো রক্ষণশীল বিচারপতি অবসর নিলে পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালতের দুই রক্ষণশীল বিচারপতির বয়স সত্তরের শেষ দিকে। সে ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা ২০১৬ সালে বারাক ওবামার মনোনীত বিচারপতি মেরিক গারল্যান্ডের নিয়োগ আটকে দিতে রিপাবলিকানদের নেওয়া কৌশল অনুসরণ করতে পারে।
এ ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগও বাধাগ্রস্ত হবে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যত বেশি সম্ভব বিচারক নিয়োগ সম্পন্ন করতে চাইবে রিপাবলিকানরা।
স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি তদন্তে জোর
নতুন কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হবে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও শুনানি। বিভিন্ন কর্মকর্তাকে সমন পাঠিয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি ক্ষমতার সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চায় দলটি।
এ বিষয়ে ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে নিজের সম্পদ বাড়াচ্ছেন। নির্বাচনের পর পরিচালিত জরিপে প্রতি ১০ জনের ৯ জন বলেছেন, সরকারি দুর্নীতি তাঁদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত করতে পারে, প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে পেন্টাগন থেকে ঋণ পেয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের জামাতা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনারের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ তহবিলে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁর ওপর কোনো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ, অভিবাসন অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শুনানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি গোপনীয়তা ও নির্বাহী বিভাগের বিশেষ অধিকার দেখিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে ডেমোক্র্যাটরা।
ইতিমধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও রাজনৈতিক অবস্থান বদলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের এক সিনেট সহকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর যেসব প্রতিষ্ঠান তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করত না, এখন তারাই নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।
সরকারি স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রস্তাব
সরকারি দুর্নীতি ও স্বার্থের সংঘাত ঠেকাতে একাধিক সংস্কার প্রস্তাব আনতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। আইনপ্রণেতাদের শেয়ার কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদানের ব্যবস্থা ঘিরে মধ্যস্থতাকারীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশি সরকারের পক্ষে কাজ করা তদবিরকারীদের মতো তাঁদেরও আইনি নিবন্ধন করতে হবে।
প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান জেমি রাসকিন কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল উড়োজাহাজ ট্রাম্পের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও তুলেছেন।
অন্যদিকে, সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের রাজনৈতিক দল বা নির্বাচনী প্রচারে অর্থ অনুদান দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে চান প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া। তাঁর ভাষায়, এর মাধ্যমে ইলন মাস্কের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা একটি ফাঁক বন্ধ করা যাবে।
তৃতীয় অভিশংসনের চাপ সামলাতে হবে
ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হতে পারে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রচেষ্টায় অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া। এর আগে দুইবার ট্রাম্পকে অভিশংসন করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। দলের সমর্থক ও নিরাপদ আসনের আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ আবারও অভিশংসনের দাবি তুলতে পারে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইতিমধ্যে সাতটি অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। সাম্প্রতিক একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াগত ভোটে আটকে গেলেও দলের প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্য সেটিকে সমর্থন করেছিলেন।
তবে অভিশংসন করলেই প্রেসিডেন্টকে সরানো যায় না। সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে অপসারণ করতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া জেমি রাসকিনও মনে করেন, এই সাংবিধানিক বাস্তবতা বুঝতে হবে। তাঁর মতে, অভিশংসন সব সমস্যার সমাধান নয়।
২০২৮ সালের নির্বাচনই বড় লক্ষ্য
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিসের প্রধান লক্ষ্য হবে ২০২৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা। সে জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে থাকা মধ্যপন্থী সদস্যদের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা করতে হবে। এসব আসনের ভোটারদের কাছে শুধু ট্রাম্পবিরোধী বক্তব্য দিয়ে সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
তাই ট্রাম্পের পরিবর্তে তাঁর প্রশাসনের কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করে দলের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রথম লক্ষ্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনা এবং মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারবহির্ভূত হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রও পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারেন। গত ৩৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে নির্বাচনে বড় জয় সব সময় রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করে না। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডেমোক্র্যাটদের সামনে এখন দুই বিপরীত চাপ—সমর্থকদের কাছে যথেষ্ট কঠোর না হওয়ার অভিযোগ এবং অন্যদিকে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার সমালোচনা।
নির্বাচনে যে ভোটাররা দলটিকে বিপুল জয় এনে দিয়েছেন, তাঁরাই অল্প সময়ের মধ্যে হতাশ হয়ে পড়তে পারেন। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য সাফল্যের সুযোগ যেমন তৈরি করেছে, তেমনি শুরু হয়েছে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা।












