“বললো বুঝি?”
কতো কান্নাকাটি করলেন। শিগগির কুমিল্লায় চ’লে যাচ্ছেন সবাই, শুধু সেজখালু থাকবেন। আমাদের যেতে বলেছেন ওঁদের সঙ্গে।
”ই’। সঙ্গে নিশ্চয়ই বেলী ছিলো, না থেকে ভালোই হয়েছে, বেলীটা একেবারে অসহ্য আমার কাছে।’
থেকে যেতে চেয়েছিলো, সেজখালা রাজি হলেন না, বললেন আমি একা একা ফিরতে পারবো না, অন্যদিন আসিস–‘
‘পরে শোনা যাবে সব, এখন ওঠ দেখি। হাবার মতো এ্যাঁয়ু এ্যাঁয় ক’রে কাঁদছিলি কেন?’
‘এমনিই।’
‘এমনিই আবার কেউ কাঁদে নাকি?’
‘আমি এমনিই কাঁদি–‘
‘তার মানে তোর টিটমেন্ট দরকার। তোর কানে গরম রসুন-তেল ঢালা দরকার; নির্ঘাত একটা ইস্কুরুপ ঢিলে হ’য়ে গিয়েছে তোর মাথার ভিতর। দেরি করে ফিরেছি ব’লে কাঁদছিলি?’
‘বাপির জন্যে মন কেমন করছিলো।’
‘এটা তোর বাড়াবাড়ি। তারিখ এসেছে যে হাপুস নয়নে কান্না জুড়বি?’
‘যদি না আসতে পারে?’
‘যদি আবার কি এ্যাঁ? তোর যতো উড়ো বায়নাক্কা। খামোকা মন খারাপ করাটা ধাত হ’য়ে দাঁড়িয়েছে। নেমে চল, দারুণ খিদে পেয়েছে, পেট চুঁইছুঁই করছে। দুপুরের মাছ রেখেছিস তো, কি মাছ?’
‘পাবদা!’
‘পাবলো নেরুদা–গুড!
দু’জনে একসঙ্গে খেলো। পরে একসময় রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা আজব মানুষ, এতোক্ষণ কিছুই নজরে পড়েনি তোর, আশ্চর্য!’
‘কেন, কি হ’লো আবার?’
‘দেখতে পাচ্ছিস না কিছু?’
‘কি জানি বাবা–‘
‘ময়নাকে দেখছিস?’