যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছে কবে থেকে?

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলেও যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বেশ তোড়জোড় ও আলোচনা হতে দেখা গিয়েছিল।

২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয় বলে জানান সামরিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।

সেসময় বাংলাদেশ ফ্রান্সের তৈরি রাফাল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইউরো ফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬–– এই তিনটি থেকে কোন যুদ্ধবিমান কেনা হবে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পরে, ২০২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর দুইদিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। সেসময় ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

তবে, করোনা মহামারীর সময় আর্থিক সংকটে এসব আলোচনা থমকে গিয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা সামনে এলো।

‘জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান’ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের দুই ধরনের কাজে মূলত যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়ে থাকে। একটি হলো ডিফেনসিভ বা প্রতিরক্ষামূলক, আর অপরটি অফেনসিভ বা আক্রমণাত্মক।

শত্রুপক্ষ হামলা করলে সেটি মোকাবিলা করায় কাজে লাগে ডিফেনসিভ। আর শত্রুর ওপর হামলা করায় লাগে অফেনসিভ।

ডিফেনসিভ যুদ্ধবিমানগুলো সাধারণত দুই কাজেই, যেমন–– প্রতিরক্ষা ও হামলা দুই কাজেই ব্যবহৃত করা যায়। সামরিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের অধিকাংশ যুদ্ধবিমানই ছিল ডিফেনসিভ বা প্রতিরক্ষামূলক, যার কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি।

তারা জানান, চীনের ‘জে-১০’ সিরিজের যুদ্ধবিমান মূলত ব্যবহার করে তাদের অ্যারোবেটিক টিম।

গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ও চীনের এই যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

ওই সময় মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিলো, পাকিস্তান চীনের তৈরি জে-১০ বিমান ব্যবহার করে ভারতীয় যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে – যার ফলে কমপক্ষে দুটি ভূপাতিত হয়।

চীন ২০০৯ সালে তাদের প্রদর্শনীতে আনা বিমানের তালিকায় ‘জে-১০এ’ ও ‘জে-১০এস’ যুক্ত করে। এরপর ২০২৩ সালে উন্নত সংস্করণ ‘জে-১০সি’তে আপগ্রেড করে দেশটি।

নিরাপত্তা খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি অনেক কম জায়গায় ‘টেক অফ’ করতে পারে।

অর্থাৎ শত্রুপক্ষ হামলা করলে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান অনেক কম সময়ে (রিঅ্যাকশন টাইম) স্বল্প স্থানে ‘টেক অফ’ করতে পারে।

রানওয়ের একটি অংশে শত্রুপক্ষ বোমা হামলা করলেও এই যুদ্ধবিমান অন্য অংশ থেকেই টেক অফ করতে পারবে।

এছাড়া, এই যুদ্ধবিমান সিঙ্গেল ইঞ্চিন ফাইটার। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ম্যানুভারিং, অর্থাৎ ‘টপ ফাইট’ বা উঁচুতে যুদ্ধ করা যায়।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টপ ফাইটের সময় দ্রুতগতিতে প্রচুর টার্নিং নিতে হয়। দ্রুত আকাশে ওঠার ক্ষমতা এই টপ ফাইটে প্রয়োজন।

এই যুদ্ধ বিমান এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ ম্যানুভারিং করা সম্ভব। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের বিমানকে সহজে ফাঁকি দেওয়া যায় এই বিমানে।

আকাশ থেকে আকাশে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূমি থেকে আকাশে ছোঁড়া উভয় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকেই এই জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের অ্যারো ডায়নামিকস ডিজাইনের কারণেই সহজে ফাঁকি দেওয়া সক্ষম বলে জানান সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

এই যুদ্ধবিমান ‘মাল্টিরোল’ ভূমিকাও পালন করে, অর্থাৎ ডিফেনসিভ এবং অফেনসিভ দুই ধরনের কাজই এই যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে করা যাবে।

এছাড়া এই যুদ্ধবিমানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ এর গতিবেগ। অর্থাৎ এই বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার ৪১৫ কিলোমিটার।

রাফাল এবং জে-১০সি দুটোই চার দশমিক পাঁচ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, কিন্তু রাডারের ক্ষেত্রে জে-১০সি বিমান রাফালের চেয়ে শক্তিশালী বলে ধারণা করা হয়।

এটি বিমানবাহী রণতরী এবং ভূমিতে থাকা ঘাঁটি থেকে পরিচালনা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে বলেও জানান নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

বিবিসি নিউজ বাংলা