০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা নয়: বিডা চেয়ারম্যান

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল কোনোভাবেই ইজারা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান। বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও তিনি সংশয় দূর করেন।

রোববার ঢাকায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, খসড়া চুক্তি পর্যালোচনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগে কোনো ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ড সময় চাওয়ায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে এই সরকারের মেয়াদে বন্দরের কোনো ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না, বিশেষ করে যখন সরকারের কার্যদিবস হাতে রয়েছে খুবই সীমিত।

আলোচনা চলমান, নির্বাচনের পর পুনরায় শুরু
আশিক বলেন, রোববার সকালে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এখন পর্যন্ত হওয়া আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির আশাও ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকার তাদের কাছে খসড়া চুক্তি পাঠিয়েছে, যা পর্যালোচনার জন্য তারা সময় চেয়েছে। নির্বাচন শেষে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হলে আবার আলোচনা শুরু হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চললেও গত এক মাসে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তা আরও জোরদার হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও এই সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর
এদিকে টার্মিনাল ইজারার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলন পরিষদের ডাকা এই কর্মসূচিতে জেটি ও বহির্নোঙর এলাকায় কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রধান জেটিতে বর্তমানে ১২টি জাহাজ ভিড়ে থাকলেও বহির্নোঙরে ৫০টির বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে এবং খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই বন্দর এলাকা ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে শ্রমিকরা ৩১ জানুয়ারি থেকে তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে টানা কর্মবিরতি শুরু হলে কনটেইনার পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের চিঠি দেওয়ার ঘটনায় আবার ধর্মঘট শুরু হয়।

সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ড ইস্যুটি এখনো আলোচনার মধ্যেই রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি আরও সময় চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরও আলোচনা চলবে।

ধর্মঘটকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অল্প কয়েকজন ব্যক্তি পুরো বন্দরকে জিম্মি করে রেখেছে, যা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থের পরিপন্থী। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে; ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।

চার দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত
প্রতিবাদকারীরা চার দফা দাবি সামনে রেখে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য ইজারা চুক্তি বাতিল, বন্দর চেয়ারম্যানকে অপসারণ, আন্দোলনরত কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা নয়: বিডা চেয়ারম্যান

০৮:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল কোনোভাবেই ইজারা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান। বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও তিনি সংশয় দূর করেন।

রোববার ঢাকায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, খসড়া চুক্তি পর্যালোচনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগে কোনো ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ড সময় চাওয়ায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে এই সরকারের মেয়াদে বন্দরের কোনো ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না, বিশেষ করে যখন সরকারের কার্যদিবস হাতে রয়েছে খুবই সীমিত।

আলোচনা চলমান, নির্বাচনের পর পুনরায় শুরু
আশিক বলেন, রোববার সকালে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এখন পর্যন্ত হওয়া আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির আশাও ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকার তাদের কাছে খসড়া চুক্তি পাঠিয়েছে, যা পর্যালোচনার জন্য তারা সময় চেয়েছে। নির্বাচন শেষে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হলে আবার আলোচনা শুরু হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চললেও গত এক মাসে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তা আরও জোরদার হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও এই সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর
এদিকে টার্মিনাল ইজারার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলন পরিষদের ডাকা এই কর্মসূচিতে জেটি ও বহির্নোঙর এলাকায় কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রধান জেটিতে বর্তমানে ১২টি জাহাজ ভিড়ে থাকলেও বহির্নোঙরে ৫০টির বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে এবং খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই বন্দর এলাকা ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে শ্রমিকরা ৩১ জানুয়ারি থেকে তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে টানা কর্মবিরতি শুরু হলে কনটেইনার পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের চিঠি দেওয়ার ঘটনায় আবার ধর্মঘট শুরু হয়।

সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ড ইস্যুটি এখনো আলোচনার মধ্যেই রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি আরও সময় চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরও আলোচনা চলবে।

ধর্মঘটকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অল্প কয়েকজন ব্যক্তি পুরো বন্দরকে জিম্মি করে রেখেছে, যা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থের পরিপন্থী। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে; ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।

চার দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত
প্রতিবাদকারীরা চার দফা দাবি সামনে রেখে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য ইজারা চুক্তি বাতিল, বন্দর চেয়ারম্যানকে অপসারণ, আন্দোলনরত কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা।