০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে ইতিহাসের পথে আরও এক ধাপ আলকারাজ

মেলবোর্ন পার্কে মঙ্গলবার রাতে স্তব্ধ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা। স্বপ্ন ভাঙে স্বাগতিকদের। স্পেনের তরুণ তারকা কার্লোস আলকারাজ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন, তাও দাপুটে ভঙ্গিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি হারালেন স্বাগতিকদের আশা আলেক্স ডি মিনাউরকে—৭–৫, ৬–২, ৬–১।

২২ বছর বয়সী আলকারাজের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়। এটি তার ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম স্বপ্নকে জীবিত রাখল। মেলবোর্নে এটি ছিল তার সবচেয়ে পরিণত পারফরম্যান্সগুলোর একটি—ঝলক নয়, নিয়ন্ত্রণে ভরা টেনিস।

দক্ষতায় নয়, নিয়ন্ত্রণে জয়

রড লেভার অ্যারেনায় আলকারাজ শুরু থেকেই দেখালেন ভিন্ন এক রূপ। আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শটের প্রদর্শনী নয়, বরং নিখুঁত সিদ্ধান্ত আর ধৈর্যের পরীক্ষা। ষষ্ঠ বাছাই ডি মিনাউর শুরুতে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন। প্রথম সেটে একাধিকবার ব্রেক পয়েন্ট আদায় করেন। দর্শকদের উজ্জীবিত করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আলকারাজ ছিলেন স্থির।

প্রথম সেটে ৪–৪ হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে যায় স্প্যানিশ তারকার হাতে। নিজেই পরে বলেন, ডি মিনাউরের বিপক্ষে ধৈর্য হারালে চলবে না। প্রতিটি পয়েন্ট জিততে হয় তিন-চারবার চেষ্টা করে। সেই ধৈর্যই তাকে আলাদা করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় সেটে আর কোনো ছাড় দেননি আলকারাজ। শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ড ক্রসকোর্টে ম্যাচের গতি পুরোপুরি নিজের পক্ষে নিয়ে নেন। স্কোরলাইন দ্রুতই বড় হতে থাকে। তৃতীয় সেটে ডি মিনাউর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রথম সার্ভিস হারানোর পর আর ফিরতে পারেননি।

ইতিহাসের হাতছানি, সামনে বড় লড়াই

ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা আলকারাজ এখন ইতিহাসের খুব কাছে। তিনি চাইছেন সবচেয়ে কম বয়সে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই অন্তত একবার করে জেতা পুরুষ খেলোয়াড় হতে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই সেমিফাইনাল সেই পথেরই এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এবার সেমিফাইনালে তার সামনে অপেক্ষা জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভ। এটি তাদের পুরোনো দ্বৈরথের পুনরাবৃত্তি। ২০২৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে এই জভেরেভই আলকারাজকে হারিয়েছিলেন। আলকারাজ জানেন, কাজ সহজ নয়। তিনি বলেছেন, জভেরেভ এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলছেন। শক্তিশালী সার্ভিস, আক্রমণাত্মক মানসিকতা—সবই আছে।

তবু আলকারাজ আত্মবিশ্বাসী। তার কথায়, এই ম্যাচ হবে বড় লড়াই। আর তিনি প্রস্তুত। মেলবোর্নে ইতিহাস লেখার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সেই ইতিহাস কি বাস্তব রূপ পায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে ইতিহাসের পথে আরও এক ধাপ আলকারাজ

১২:০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মেলবোর্ন পার্কে মঙ্গলবার রাতে স্তব্ধ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা। স্বপ্ন ভাঙে স্বাগতিকদের। স্পেনের তরুণ তারকা কার্লোস আলকারাজ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন, তাও দাপুটে ভঙ্গিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি হারালেন স্বাগতিকদের আশা আলেক্স ডি মিনাউরকে—৭–৫, ৬–২, ৬–১।

২২ বছর বয়সী আলকারাজের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়। এটি তার ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম স্বপ্নকে জীবিত রাখল। মেলবোর্নে এটি ছিল তার সবচেয়ে পরিণত পারফরম্যান্সগুলোর একটি—ঝলক নয়, নিয়ন্ত্রণে ভরা টেনিস।

দক্ষতায় নয়, নিয়ন্ত্রণে জয়

রড লেভার অ্যারেনায় আলকারাজ শুরু থেকেই দেখালেন ভিন্ন এক রূপ। আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শটের প্রদর্শনী নয়, বরং নিখুঁত সিদ্ধান্ত আর ধৈর্যের পরীক্ষা। ষষ্ঠ বাছাই ডি মিনাউর শুরুতে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন। প্রথম সেটে একাধিকবার ব্রেক পয়েন্ট আদায় করেন। দর্শকদের উজ্জীবিত করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আলকারাজ ছিলেন স্থির।

প্রথম সেটে ৪–৪ হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে যায় স্প্যানিশ তারকার হাতে। নিজেই পরে বলেন, ডি মিনাউরের বিপক্ষে ধৈর্য হারালে চলবে না। প্রতিটি পয়েন্ট জিততে হয় তিন-চারবার চেষ্টা করে। সেই ধৈর্যই তাকে আলাদা করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় সেটে আর কোনো ছাড় দেননি আলকারাজ। শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ড ক্রসকোর্টে ম্যাচের গতি পুরোপুরি নিজের পক্ষে নিয়ে নেন। স্কোরলাইন দ্রুতই বড় হতে থাকে। তৃতীয় সেটে ডি মিনাউর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রথম সার্ভিস হারানোর পর আর ফিরতে পারেননি।

ইতিহাসের হাতছানি, সামনে বড় লড়াই

ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা আলকারাজ এখন ইতিহাসের খুব কাছে। তিনি চাইছেন সবচেয়ে কম বয়সে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই অন্তত একবার করে জেতা পুরুষ খেলোয়াড় হতে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই সেমিফাইনাল সেই পথেরই এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এবার সেমিফাইনালে তার সামনে অপেক্ষা জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভ। এটি তাদের পুরোনো দ্বৈরথের পুনরাবৃত্তি। ২০২৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে এই জভেরেভই আলকারাজকে হারিয়েছিলেন। আলকারাজ জানেন, কাজ সহজ নয়। তিনি বলেছেন, জভেরেভ এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলছেন। শক্তিশালী সার্ভিস, আক্রমণাত্মক মানসিকতা—সবই আছে।

তবু আলকারাজ আত্মবিশ্বাসী। তার কথায়, এই ম্যাচ হবে বড় লড়াই। আর তিনি প্রস্তুত। মেলবোর্নে ইতিহাস লেখার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সেই ইতিহাস কি বাস্তব রূপ পায়।