০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

অ্যান্সেল্ম কিফার উদ্বেগ: ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হচ্ছে

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
  • 216

সারাক্ষণ রিপোর্ট

আমস্টারডামের স্টেডেলিক মিউজিয়ামের প্রধান সিঁড়িতে বিস্তৃত নতুন ইনস্টলেশনের মাধ্যমে অ্যান্সেল্ম কিফার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই প্রদর্শনীতে যুদ্ধবিরোধী বার্তা ও অতীতের স্মৃতির স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।

প্রদর্শনী বিবরণ
এই ইনস্টলেশন দেয়ালের প্রায় প্রতিটি কোণে অক্সিডাইজড তামা ও স্বর্ণপাতার রঙের আভা ছড়িয়ে পড়েছে। চোখের সমান্তরালে রঙিন স্প্ল্যাটারসহ সশস্ত্র ইউনিফর্ম ঝুলে আছেআর শুকনো ফুলের পাপড়িগুলো ক্যানভাস থেকে মেঝেতে পড়ে। এক প্যানেলের তলায় যুবক কিফারের আত্মচিত্রে তাঁর বুকে থেকে একটি গাছের বৃদ্ধি দেখা যায়। প্রদর্শনীতে প্রায় ২৫টি চিত্রকলা১৩টি অঙ্কন এবং ৩টি চলচ্চিত্রসহ ১৯৭৩ থেকে বর্তমান সময়ের কাজগুলো উপস্থাপিত হয়েছেসাথে রয়েছে আটটি ভ্যান গগের সৃষ্টি। শিরোনামকৃত “সাগ মির ও ডায় ব্লুমেন সিন” (“ফুলগুলো কোথায় চলে গেল?”) প্রদর্শনীটি আমস্টারডামের দুইটি বৃহত্তম আধুনিক শিল্প মিউজিয়াম – ভ্যান গগ ও স্টেডেলিকে সাজানো হয়েছে। প্রদর্শনীটি কিফারের ৮০তম জন্মদিনের ঠিক এক দিন আগে উদ্বোধন হয়েছিল এবং জুন ৯ পর্যন্ত চলবেযা উভয় মিউজিয়ামের সহযোগিতার ফলস্বরূপ।

শিল্প ও প্রতীকী উপাদান
কিফারের কাজের মূল কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর যুদ্ধবিরোধী মনোভাব। প্রদর্শনীটির শিরোনাম ও স্টেডেলিক মিউজিয়ামের কেন্দ্রীয় ইনস্টলেশন ১৯৫৫ সালের বিক্ষোভমূলক গানের কথাসাহিত্যের প্রভাব বহন করে – যদিও তিনি মূলত জার্মান সংস্করণ থেকে অনুপ্রাণিত। তাঁর মতে, “এই গানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্য হচ্ছে আমরা কখন শিখব?'”। এই মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যেইতিহাস কেন বারংবার নিজেদের পুনরাবৃত্তি করেতা এখনও আমাদের জন্য রহস্যে ভরা।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্মগ্রহণকারী কিফার তাঁর সৃষ্টিতে ফ্যাসিবাদরাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির থিমকে বারবার তুলে ধরেছেন। ১৯৬৯ সালে ২৪ বছর বয়সে ইউরোপ ভ্রমণের সময় তিনি “অকুপেশনস” নামে এক পারফরম্যান্স তৈরি করেনযেখানে নাজি স্যালুটের মাধ্যমে যুদ্ধের কথা আলোচনার প্রতি প্রহসন ব্যক্ত করেন। তাঁর প্রথমকালের কাজগুলোতে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট ছিলযা তাঁকে জার্মানির ঐতিহ্যগত সীমা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন মনে করায়।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রেরণা
কিফার ছোটবেলা থেকেই ভ্যান গগের প্রভাব অনুভব করেন। ১৯৬৩ সালে ১৮ বছর বয়সে তাঁকে ইউরোপ ভ্রমণের জন্য এক অনুদান প্রদান করা হয়যার মধ্য দিয়ে তিনি ভ্যান গগের পায়ের ছাপ অনুসরণ করেন। পরবর্তীতেলন্ডনের টেট ব্রিটেন মিউজিয়ামে তাঁর বক্তৃতা ও ব্যাপক ভূমির চিত্রকলা সিরিজে ভ্যান গগের প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ভ্যান গগের ছোট আকারের শিল্পকর্মের বিপরীতেকিফারের প্রায় ৯ মিটার প্রস্থের বিশাল ভূমির চিত্রগুলো ইতিহাসের ভার বহন করে।

সমসাময়িক প্রভাব ও বার্তা
কিফার জানান যে তাঁর কাজ সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনা চিত্রিত করে নাবরং তা আমাদের চারপাশের বিশ্বে যুদ্ধের অমীমাংসিত absurditiy তুলে ধরে। বর্তমান সময়ে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী স্বৈরাচারী শাসনের উত্থানের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি মিশে গেছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে অতীতের ১৯৩৩ সালের জার্মানির সাথে তুলনীয় মনে হচ্ছে।” তাঁর মতেযুদ্ধ এমনভাবে তাঁর শরীর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুটে উঠছেযা যেন আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা।

উপসংহার
৮০তম জন্মদিনেও কিফার উদ্যমী ও সৃজনশীলতা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, “আমি যখন চিত্রাঙ্কন করিতখন মাথা নয়শরীর দিয়ে চিত্রাঙ্কন করি।” তাঁর সৃষ্টিতে অতীত ও বর্তমানের যুদ্ধের প্রভাব ও বেদনাকে একত্রে তুলে ধরা হয়েছেযা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

অ্যান্সেল্ম কিফার উদ্বেগ: ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হচ্ছে

১০:০০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

আমস্টারডামের স্টেডেলিক মিউজিয়ামের প্রধান সিঁড়িতে বিস্তৃত নতুন ইনস্টলেশনের মাধ্যমে অ্যান্সেল্ম কিফার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই প্রদর্শনীতে যুদ্ধবিরোধী বার্তা ও অতীতের স্মৃতির স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।

প্রদর্শনী বিবরণ
এই ইনস্টলেশন দেয়ালের প্রায় প্রতিটি কোণে অক্সিডাইজড তামা ও স্বর্ণপাতার রঙের আভা ছড়িয়ে পড়েছে। চোখের সমান্তরালে রঙিন স্প্ল্যাটারসহ সশস্ত্র ইউনিফর্ম ঝুলে আছেআর শুকনো ফুলের পাপড়িগুলো ক্যানভাস থেকে মেঝেতে পড়ে। এক প্যানেলের তলায় যুবক কিফারের আত্মচিত্রে তাঁর বুকে থেকে একটি গাছের বৃদ্ধি দেখা যায়। প্রদর্শনীতে প্রায় ২৫টি চিত্রকলা১৩টি অঙ্কন এবং ৩টি চলচ্চিত্রসহ ১৯৭৩ থেকে বর্তমান সময়ের কাজগুলো উপস্থাপিত হয়েছেসাথে রয়েছে আটটি ভ্যান গগের সৃষ্টি। শিরোনামকৃত “সাগ মির ও ডায় ব্লুমেন সিন” (“ফুলগুলো কোথায় চলে গেল?”) প্রদর্শনীটি আমস্টারডামের দুইটি বৃহত্তম আধুনিক শিল্প মিউজিয়াম – ভ্যান গগ ও স্টেডেলিকে সাজানো হয়েছে। প্রদর্শনীটি কিফারের ৮০তম জন্মদিনের ঠিক এক দিন আগে উদ্বোধন হয়েছিল এবং জুন ৯ পর্যন্ত চলবেযা উভয় মিউজিয়ামের সহযোগিতার ফলস্বরূপ।

শিল্প ও প্রতীকী উপাদান
কিফারের কাজের মূল কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর যুদ্ধবিরোধী মনোভাব। প্রদর্শনীটির শিরোনাম ও স্টেডেলিক মিউজিয়ামের কেন্দ্রীয় ইনস্টলেশন ১৯৫৫ সালের বিক্ষোভমূলক গানের কথাসাহিত্যের প্রভাব বহন করে – যদিও তিনি মূলত জার্মান সংস্করণ থেকে অনুপ্রাণিত। তাঁর মতে, “এই গানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্য হচ্ছে আমরা কখন শিখব?'”। এই মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যেইতিহাস কেন বারংবার নিজেদের পুনরাবৃত্তি করেতা এখনও আমাদের জন্য রহস্যে ভরা।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্মগ্রহণকারী কিফার তাঁর সৃষ্টিতে ফ্যাসিবাদরাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির থিমকে বারবার তুলে ধরেছেন। ১৯৬৯ সালে ২৪ বছর বয়সে ইউরোপ ভ্রমণের সময় তিনি “অকুপেশনস” নামে এক পারফরম্যান্স তৈরি করেনযেখানে নাজি স্যালুটের মাধ্যমে যুদ্ধের কথা আলোচনার প্রতি প্রহসন ব্যক্ত করেন। তাঁর প্রথমকালের কাজগুলোতে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট ছিলযা তাঁকে জার্মানির ঐতিহ্যগত সীমা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন মনে করায়।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রেরণা
কিফার ছোটবেলা থেকেই ভ্যান গগের প্রভাব অনুভব করেন। ১৯৬৩ সালে ১৮ বছর বয়সে তাঁকে ইউরোপ ভ্রমণের জন্য এক অনুদান প্রদান করা হয়যার মধ্য দিয়ে তিনি ভ্যান গগের পায়ের ছাপ অনুসরণ করেন। পরবর্তীতেলন্ডনের টেট ব্রিটেন মিউজিয়ামে তাঁর বক্তৃতা ও ব্যাপক ভূমির চিত্রকলা সিরিজে ভ্যান গগের প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ভ্যান গগের ছোট আকারের শিল্পকর্মের বিপরীতেকিফারের প্রায় ৯ মিটার প্রস্থের বিশাল ভূমির চিত্রগুলো ইতিহাসের ভার বহন করে।

সমসাময়িক প্রভাব ও বার্তা
কিফার জানান যে তাঁর কাজ সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনা চিত্রিত করে নাবরং তা আমাদের চারপাশের বিশ্বে যুদ্ধের অমীমাংসিত absurditiy তুলে ধরে। বর্তমান সময়ে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী স্বৈরাচারী শাসনের উত্থানের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি মিশে গেছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে অতীতের ১৯৩৩ সালের জার্মানির সাথে তুলনীয় মনে হচ্ছে।” তাঁর মতেযুদ্ধ এমনভাবে তাঁর শরীর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুটে উঠছেযা যেন আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা।

উপসংহার
৮০তম জন্মদিনেও কিফার উদ্যমী ও সৃজনশীলতা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, “আমি যখন চিত্রাঙ্কন করিতখন মাথা নয়শরীর দিয়ে চিত্রাঙ্কন করি।” তাঁর সৃষ্টিতে অতীত ও বর্তমানের যুদ্ধের প্রভাব ও বেদনাকে একত্রে তুলে ধরা হয়েছেযা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে।