০৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেতারা।

ঘটনার সময় ও স্থান
শনিবার বেলা বারোটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেটে ওই শিক্ষককে আটক করেন চাকসু নেতারা। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, এর আগে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদের একটি গ্যালারি থেকে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিচয়
ঘটনার কেন্দ্রে থাকা শিক্ষক হাসান মাহমুদ রোমান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ শাসনামলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা করানো, ছাত্রলীগকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চাকসু নেতারা ডিন অফিসে এসেছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি দ্রুত পরীক্ষার হল ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চাকসু নেতারা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চাকসু নেতাদের বক্তব্য
চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই শিক্ষক পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যখন গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত চলমান, তখন তাকে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষার গার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হলো—এই প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে জানতে চায় চাকসু।

শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া
আটকের বিষয়ে হাসান মাহমুদ রোমান বলেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন তাকে জানান যে তার বিরুদ্ধে মব তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কায় তিনি হল ছেড়ে বের হতে চাইলে পেছন থেকে কয়েকজন তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতাসহ সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

প্রক্টরের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানান, চাকসু নেতারা ওই শিক্ষককে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা

০৮:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেতারা।

ঘটনার সময় ও স্থান
শনিবার বেলা বারোটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেটে ওই শিক্ষককে আটক করেন চাকসু নেতারা। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, এর আগে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদের একটি গ্যালারি থেকে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিচয়
ঘটনার কেন্দ্রে থাকা শিক্ষক হাসান মাহমুদ রোমান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ শাসনামলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা করানো, ছাত্রলীগকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চাকসু নেতারা ডিন অফিসে এসেছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি দ্রুত পরীক্ষার হল ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চাকসু নেতারা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চাকসু নেতাদের বক্তব্য
চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই শিক্ষক পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যখন গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত চলমান, তখন তাকে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষার গার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হলো—এই প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে জানতে চায় চাকসু।

শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া
আটকের বিষয়ে হাসান মাহমুদ রোমান বলেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন তাকে জানান যে তার বিরুদ্ধে মব তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কায় তিনি হল ছেড়ে বের হতে চাইলে পেছন থেকে কয়েকজন তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতাসহ সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

প্রক্টরের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানান, চাকসু নেতারা ওই শিক্ষককে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।