১০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

আগাম নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের রাজনীতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আবারও ভোটের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও এবার তার নেতৃত্ব, নিরাপত্তা নীতি এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে যুদ্ধের ফলাফল, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং বিরোধী শিবিরের পরিবর্তিত সমীকরণ।

নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর তিনি হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তবে দীর্ঘ সময়ের সংঘাতের পরও স্পষ্ট সামরিক সাফল্য না পাওয়ায় সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতও প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েনের ইঙ্গিত ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণ

আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোও নতুন করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদও সরকারবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে বিরোধী শিবির একক নেতৃত্বে ঐক্য গড়তে না পারলে সেই বিভক্তি নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

Netanyahu faces balancing act after Israel election comeback | Reuters

পুরোনো বিতর্কও ফিরছে আলোচনায়

যুদ্ধের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত সংস্কার উদ্যোগ এবং অতিধর্মীয় রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভরশীলতা আবারও নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

এছাড়া তার বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয় মিলিয়ে এবার নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, বরং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে

ইসরায়েলের অর্থনীতি এখনো প্রযুক্তিখাতের শক্ত অবস্থান এবং যুদ্ধকালীন উৎপাদনের কারণে তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিংবা হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েলের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ইরানকে ঘিরে আগ্রাসী সামরিক কৌশলের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমন্বয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর জনগণের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

আগাম নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। বিরোধী জোট, যুদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে আলোচনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

আগাম নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের রাজনীতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

০৫:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আবারও ভোটের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও এবার তার নেতৃত্ব, নিরাপত্তা নীতি এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে যুদ্ধের ফলাফল, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং বিরোধী শিবিরের পরিবর্তিত সমীকরণ।

নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর তিনি হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তবে দীর্ঘ সময়ের সংঘাতের পরও স্পষ্ট সামরিক সাফল্য না পাওয়ায় সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতও প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েনের ইঙ্গিত ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণ

আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোও নতুন করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদও সরকারবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে বিরোধী শিবির একক নেতৃত্বে ঐক্য গড়তে না পারলে সেই বিভক্তি নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

Netanyahu faces balancing act after Israel election comeback | Reuters

পুরোনো বিতর্কও ফিরছে আলোচনায়

যুদ্ধের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত সংস্কার উদ্যোগ এবং অতিধর্মীয় রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভরশীলতা আবারও নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

এছাড়া তার বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয় মিলিয়ে এবার নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, বরং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে

ইসরায়েলের অর্থনীতি এখনো প্রযুক্তিখাতের শক্ত অবস্থান এবং যুদ্ধকালীন উৎপাদনের কারণে তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিংবা হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েলের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ইরানকে ঘিরে আগ্রাসী সামরিক কৌশলের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমন্বয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর জনগণের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

আগাম নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। বিরোধী জোট, যুদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে আলোচনা।