০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

আরটিআই বিধি সংশোধন প্রত্যাহারে ৫ জুলাই পর্যন্ত আল্টিমেটাম, অনশন ও দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আন্না হাজারের

তথ্য অধিকার আইনকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলে মহারাষ্ট্র সরকারের সংশোধিত তথ্য অধিকার বিধি প্রত্যাহারের জন্য ৫ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতর্কিত সংশোধন বাতিল না হলে তিনি অনশন শুরু করার পাশাপাশি দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে সতর্ক করেছেন।

বুধবার নিজ গ্রামের বাসভবনে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্না হাজারে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের কাছ থেকে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি। জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে তিনি আবারও মাঠে নামবেন এবং বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

তথ্য অধিকার আইনের ‘আত্মা’ রক্ষার দাবি

আন্না হাজারের মতে, তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে নতুন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন জরুরি। তিনি বলেন, এই কমিটিতে এমন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাদের আইনটি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে এবং যারা জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সংশোধনীগুলো তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও সীমাবদ্ধ করে তুলবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Anna Hazare Threatens Indefinite Hunger Strike Over Maharashtra RTI Rules  Amendments, Demands Withdrawal of June 12 Changes - CNBC TV18

কোন বিষয়গুলো নিয়ে আপত্তি

সংশোধিত বিধির কয়েকটি ধারার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন আন্না হাজারে। নতুন বিধিতে আবেদন ফি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আপিল করার ক্ষেত্রেও নতুন ফি আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের জন্য বিনামূল্যে তথ্য পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার বিধানও যুক্ত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি আবেদনে কেবল একটি বিষয় উল্লেখ করা যাবে এবং আবেদনপত্রের শব্দসংখ্যাও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

আন্না হাজারের দাবি, এসব বিধান তথ্যপ্রাপ্তির পথ সংকুচিত করবে এবং সাধারণ নাগরিকের অধিকার চর্চাকে কঠিন করে তুলবে।

সরকারকে বার্তা পৌঁছানোর আশ্বাস

সরকারি প্রতিনিধিদল বৈঠকে আন্না হাজারের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলো শুনেছে। প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আলোচনার বিষয়বস্তু সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।

তবে আন্না হাজারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কেবল আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট নন। জনগণের স্বার্থে সংশোধনীগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন বলেই তিনি মনে করেন।

আইনগত চ্যালেঞ্জও শুরু

এদিকে নাগরিক অধিকার ও তথ্য অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে আইনগত নোটিশ দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সংশোধিত বিধিগুলো জনসমক্ষে যথাযথ আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নতুন বিধানগুলো তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও ব্যয়বহুল, জটিল এবং কষ্টসাধ্য করে তুলছে। ফলে তথ্য অধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে কি না। ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সমাধান না এলে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের সূত্রপাত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য অধিকার বিধি সংশোধন নিয়ে মহারাষ্ট্রে উত্তেজনা বাড়ছে। আন্না হাজারের আল্টিমেটাম এবং আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

আরটিআই বিধি সংশোধন প্রত্যাহারে ৫ জুলাই পর্যন্ত আল্টিমেটাম, অনশন ও দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আন্না হাজারের

০৭:৪৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

তথ্য অধিকার আইনকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলে মহারাষ্ট্র সরকারের সংশোধিত তথ্য অধিকার বিধি প্রত্যাহারের জন্য ৫ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতর্কিত সংশোধন বাতিল না হলে তিনি অনশন শুরু করার পাশাপাশি দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে সতর্ক করেছেন।

বুধবার নিজ গ্রামের বাসভবনে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্না হাজারে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের কাছ থেকে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি। জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে তিনি আবারও মাঠে নামবেন এবং বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

তথ্য অধিকার আইনের ‘আত্মা’ রক্ষার দাবি

আন্না হাজারের মতে, তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে নতুন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন জরুরি। তিনি বলেন, এই কমিটিতে এমন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাদের আইনটি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে এবং যারা জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সংশোধনীগুলো তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও সীমাবদ্ধ করে তুলবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Anna Hazare Threatens Indefinite Hunger Strike Over Maharashtra RTI Rules  Amendments, Demands Withdrawal of June 12 Changes - CNBC TV18

কোন বিষয়গুলো নিয়ে আপত্তি

সংশোধিত বিধির কয়েকটি ধারার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন আন্না হাজারে। নতুন বিধিতে আবেদন ফি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আপিল করার ক্ষেত্রেও নতুন ফি আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের জন্য বিনামূল্যে তথ্য পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার বিধানও যুক্ত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি আবেদনে কেবল একটি বিষয় উল্লেখ করা যাবে এবং আবেদনপত্রের শব্দসংখ্যাও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

আন্না হাজারের দাবি, এসব বিধান তথ্যপ্রাপ্তির পথ সংকুচিত করবে এবং সাধারণ নাগরিকের অধিকার চর্চাকে কঠিন করে তুলবে।

সরকারকে বার্তা পৌঁছানোর আশ্বাস

সরকারি প্রতিনিধিদল বৈঠকে আন্না হাজারের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলো শুনেছে। প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আলোচনার বিষয়বস্তু সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।

তবে আন্না হাজারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কেবল আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট নন। জনগণের স্বার্থে সংশোধনীগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন বলেই তিনি মনে করেন।

আইনগত চ্যালেঞ্জও শুরু

এদিকে নাগরিক অধিকার ও তথ্য অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে আইনগত নোটিশ দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সংশোধিত বিধিগুলো জনসমক্ষে যথাযথ আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নতুন বিধানগুলো তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও ব্যয়বহুল, জটিল এবং কষ্টসাধ্য করে তুলছে। ফলে তথ্য অধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে কি না। ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সমাধান না এলে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের সূত্রপাত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য অধিকার বিধি সংশোধন নিয়ে মহারাষ্ট্রে উত্তেজনা বাড়ছে। আন্না হাজারের আল্টিমেটাম এবং আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।