১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

আরিয়ানা গ্রান্ডের নতুন অ্যালবাম ‘পেটাল’: সংযত কণ্ঠে নতুন এক সঙ্গীতযাত্রা

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা Ariana Grande তাঁর নতুন স্টুডিও অ্যালবাম ‘পেটাল’-এ ভক্তদের সামনে হাজির হয়েছেন এক ভিন্ন রূপে। শক্তিশালী কণ্ঠস্বর ও উচ্চস্বরের গানের জন্য পরিচিত এই শিল্পী এবার বেছে নিয়েছেন অনেক বেশি সংযত, শান্ত ও অন্তর্মুখী পরিবেশনা। ফলে অ্যালবামটি তাঁর আগের কাজগুলোর তুলনায় আলাদা এক সঙ্গীতধারা তুলে ধরেছে।

নতুন অধ্যায়ের সূচনা

‘পেটাল’ আরিয়ানা গ্রান্ডের অষ্টম স্টুডিও অ্যালবাম। ‘উইকেড’ প্রকল্পে কাজ শেষ করার পর এবং ২০২৪ সালের ‘ইটারনাল সানশাইন’-এর পর এটিই তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম। এতে মোট ১২টি গান রয়েছে, যেখানে কণ্ঠের জোরালো প্রদর্শনের বদলে আবেগ, অনুভূতি এবং কথার গভীরতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রথম গানেই মিলেছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

অ্যালবামের প্রথম প্রকাশিত গান ‘হেট দ্যাট আই মেড ইউ লাভ মি’ শুরু থেকেই নতুন ধারার পরিচয় দেয়। কোমল কণ্ঠ, মৃদু সুর এবং সহজ সংগীতায়োজন গানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। গানটি প্রকাশের পর বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে এবং আরিয়ানার ক্যারিয়ারের দশম শীর্ষস্থানীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

গানটির সংগীতায়োজনে দীর্ঘদিনের সহযোগী ইলিয়া সালমানজাদেহ এবং জনপ্রিয় প্রযোজক ম্যাক্স মার্টিন কাজ করেছেন।

Music Review: Ariana Grande's 'Petal' displays a pop star at her most  restrained :: WRAL.com

কণ্ঠের শক্তির বদলে আবেগের প্রকাশ

আরিয়ানা গ্রান্ডে বরাবরই বিস্তৃত কণ্ঠসীমা ও শক্তিশালী পরিবেশনার জন্য প্রশংসিত। তবে ‘পেটাল’-এ তিনি সচেতনভাবেই সেই পরিচিত ধরন থেকে সরে এসেছেন। এখানে তাঁর কণ্ঠ অনেক বেশি সংযত, যা গানগুলোর আবেগকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

এই পরিবর্তন অ্যালবামটিকে স্বাভাবিক, আরামদায়ক এবং অন্তরঙ্গ অনুভূতি দিয়েছে।

সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আত্মঅনুসন্ধানের গল্প

অ্যালবামের ‘ওহ ওয়েল’ গানটি প্রাণবন্ত সুরে এগোলেও এর কথায় রয়েছে একটি কঠিন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা। অন্যদিকে ‘ফ্রিক’ গানটি স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝামাঝি এক রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করে। স্তরবিন্যাস করা কণ্ঠ ও ধীরগতির সংগীতায়োজন গানটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

পুরো অ্যালবামজুড়ে আধুনিক আর-অ্যান্ড-বি ঘরানার প্রভাব স্পষ্ট, যদিও তা বেশ শান্ত ও মৃদু আবহে উপস্থাপিত হয়েছে।

শেষ ভাগে ফিরে আসে পরিচিত প্রাণচাঞ্চল্য

অ্যালবামের শেষের দিকে কিছুটা বদলে যায় পরিবেশ। ‘লাইক আই ডু’ গানে আবারও শোনা যায় আরিয়ানার পরিচিত প্রাণবন্ত পরিবেশনা। ভারী বেইস ও শক্তিশালী ছন্দ গানটিকে আলাদা করে তুলেছে।

Ariana Grande's 'Petal' Songs Ranked Worst to Best

অন্যদিকে ‘নেভার গেট ওভার মি’ ধীরে ধীরে আবেগের গভীরতা তৈরি করে এগোয়। আর ‘ব্যাড থিং (বানি হপ)’ নতুন প্রেমের উত্তেজনা, স্বপ্নময় গিটার এবং প্রাণবন্ত ছন্দের জন্য অ্যালবামের অন্যতম আকর্ষণীয় গান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সমাপ্তিতে ভিন্ন এক আবহ

অ্যালবামের শেষ গান ‘নোহোয়্যার, নোবডি’-তে রেট্রো ধাঁচের সুরের সঙ্গে আধুনিক কণ্ঠপ্রযুক্তির ব্যবহার শোনা যায়। এতে পুরো অ্যালবামের শান্ত ও আত্মমগ্ন পরিবেশ সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে।

অ্যালবাম প্রকাশের আগে আরিয়ানা গ্রান্ডে ‘পেটাল’-কে এমন একটি কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যা কঠিন সময়ের ভেতর থেকেও নতুন জীবনের বিকাশের গল্প বলে। অ্যালবামের গানগুলো সেই ভাবনাকেই বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছে।

শিল্পীসত্তার নতুন দিক

‘পেটাল’ হয়তো আরিয়ানা গ্রান্ডের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ বা শক্তিশালী অ্যালবাম নয়, তবে এটি তাঁর শিল্পীসত্তার নতুন বিকাশের ইঙ্গিত দেয়। নিজের কণ্ঠের সামর্থ্য প্রদর্শনের বদলে তিনি এবার গুরুত্ব দিয়েছেন অনুভূতির প্রকাশে। এই সংযত উপস্থাপনাই অ্যালবামটিকে তাঁর সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়ে পরিণত করেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

আরিয়ানা গ্রান্ডের নতুন অ্যালবাম ‘পেটাল’: সংযত কণ্ঠে নতুন এক সঙ্গীতযাত্রা

০৬:১১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা Ariana Grande তাঁর নতুন স্টুডিও অ্যালবাম ‘পেটাল’-এ ভক্তদের সামনে হাজির হয়েছেন এক ভিন্ন রূপে। শক্তিশালী কণ্ঠস্বর ও উচ্চস্বরের গানের জন্য পরিচিত এই শিল্পী এবার বেছে নিয়েছেন অনেক বেশি সংযত, শান্ত ও অন্তর্মুখী পরিবেশনা। ফলে অ্যালবামটি তাঁর আগের কাজগুলোর তুলনায় আলাদা এক সঙ্গীতধারা তুলে ধরেছে।

নতুন অধ্যায়ের সূচনা

‘পেটাল’ আরিয়ানা গ্রান্ডের অষ্টম স্টুডিও অ্যালবাম। ‘উইকেড’ প্রকল্পে কাজ শেষ করার পর এবং ২০২৪ সালের ‘ইটারনাল সানশাইন’-এর পর এটিই তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম। এতে মোট ১২টি গান রয়েছে, যেখানে কণ্ঠের জোরালো প্রদর্শনের বদলে আবেগ, অনুভূতি এবং কথার গভীরতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রথম গানেই মিলেছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

অ্যালবামের প্রথম প্রকাশিত গান ‘হেট দ্যাট আই মেড ইউ লাভ মি’ শুরু থেকেই নতুন ধারার পরিচয় দেয়। কোমল কণ্ঠ, মৃদু সুর এবং সহজ সংগীতায়োজন গানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। গানটি প্রকাশের পর বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে এবং আরিয়ানার ক্যারিয়ারের দশম শীর্ষস্থানীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

গানটির সংগীতায়োজনে দীর্ঘদিনের সহযোগী ইলিয়া সালমানজাদেহ এবং জনপ্রিয় প্রযোজক ম্যাক্স মার্টিন কাজ করেছেন।

Music Review: Ariana Grande's 'Petal' displays a pop star at her most  restrained :: WRAL.com

কণ্ঠের শক্তির বদলে আবেগের প্রকাশ

আরিয়ানা গ্রান্ডে বরাবরই বিস্তৃত কণ্ঠসীমা ও শক্তিশালী পরিবেশনার জন্য প্রশংসিত। তবে ‘পেটাল’-এ তিনি সচেতনভাবেই সেই পরিচিত ধরন থেকে সরে এসেছেন। এখানে তাঁর কণ্ঠ অনেক বেশি সংযত, যা গানগুলোর আবেগকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

এই পরিবর্তন অ্যালবামটিকে স্বাভাবিক, আরামদায়ক এবং অন্তরঙ্গ অনুভূতি দিয়েছে।

সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আত্মঅনুসন্ধানের গল্প

অ্যালবামের ‘ওহ ওয়েল’ গানটি প্রাণবন্ত সুরে এগোলেও এর কথায় রয়েছে একটি কঠিন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা। অন্যদিকে ‘ফ্রিক’ গানটি স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝামাঝি এক রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করে। স্তরবিন্যাস করা কণ্ঠ ও ধীরগতির সংগীতায়োজন গানটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

পুরো অ্যালবামজুড়ে আধুনিক আর-অ্যান্ড-বি ঘরানার প্রভাব স্পষ্ট, যদিও তা বেশ শান্ত ও মৃদু আবহে উপস্থাপিত হয়েছে।

শেষ ভাগে ফিরে আসে পরিচিত প্রাণচাঞ্চল্য

অ্যালবামের শেষের দিকে কিছুটা বদলে যায় পরিবেশ। ‘লাইক আই ডু’ গানে আবারও শোনা যায় আরিয়ানার পরিচিত প্রাণবন্ত পরিবেশনা। ভারী বেইস ও শক্তিশালী ছন্দ গানটিকে আলাদা করে তুলেছে।

Ariana Grande's 'Petal' Songs Ranked Worst to Best

অন্যদিকে ‘নেভার গেট ওভার মি’ ধীরে ধীরে আবেগের গভীরতা তৈরি করে এগোয়। আর ‘ব্যাড থিং (বানি হপ)’ নতুন প্রেমের উত্তেজনা, স্বপ্নময় গিটার এবং প্রাণবন্ত ছন্দের জন্য অ্যালবামের অন্যতম আকর্ষণীয় গান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সমাপ্তিতে ভিন্ন এক আবহ

অ্যালবামের শেষ গান ‘নোহোয়্যার, নোবডি’-তে রেট্রো ধাঁচের সুরের সঙ্গে আধুনিক কণ্ঠপ্রযুক্তির ব্যবহার শোনা যায়। এতে পুরো অ্যালবামের শান্ত ও আত্মমগ্ন পরিবেশ সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে।

অ্যালবাম প্রকাশের আগে আরিয়ানা গ্রান্ডে ‘পেটাল’-কে এমন একটি কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যা কঠিন সময়ের ভেতর থেকেও নতুন জীবনের বিকাশের গল্প বলে। অ্যালবামের গানগুলো সেই ভাবনাকেই বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছে।

শিল্পীসত্তার নতুন দিক

‘পেটাল’ হয়তো আরিয়ানা গ্রান্ডের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ বা শক্তিশালী অ্যালবাম নয়, তবে এটি তাঁর শিল্পীসত্তার নতুন বিকাশের ইঙ্গিত দেয়। নিজের কণ্ঠের সামর্থ্য প্রদর্শনের বদলে তিনি এবার গুরুত্ব দিয়েছেন অনুভূতির প্রকাশে। এই সংযত উপস্থাপনাই অ্যালবামটিকে তাঁর সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়ে পরিণত করেছে।