০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

আশ্রয় দিয়ে বিপদে পরিবার, চার বছরের শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি রোহিঙ্গা নারীর

কক্সবাজারে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া এক রোহিঙ্গা নারীর বিরুদ্ধে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি অভিযানে চার দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মানবিক আশ্রয় থেকে অপহরণের ঘটনা

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রংবাহার নামে এক নারী গত বুধবার কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে আসেন। কারাগারের আশপাশে অবস্থানকালে তিনি নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষুধার কথা জানিয়ে স্থানীয় এক শ্রমজীবী পরিবারের সহানুভূতি লাভ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার ওই নারীকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে রাত কাটানোর অনুরোধ করলে মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, আশ্রয় নেওয়ার সময় তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন।

দুই দিন পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়

পরিবারটির দাবি, দুই দিন স্বাভাবিক আচরণ করার পর রংবাহার নিজের জন্য পান ও শিশুর জন্য নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে ৫ জুন সাদ্দামের চার বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তখন তিনি জানান, শিশুটিকে ফিরে পেতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিশুকে হত্যা করারও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কিত পরিবার একপর্যায়ে তিন দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

মায়ের কান্নাজড়িত অভিযোগ

শিশুটির মা সুমি আক্তার বলেন, মানবিক কারণে তারা ওই নারীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে তাদের ধারণা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবেই তিনি পরিবারের আস্থা অর্জন করেছিলেন। ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও তাদের সন্দেহ।

তিনি আরও বলেন, অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেওয়া বা শিশুদের অন্যের সঙ্গে পাঠানোর ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

ঘটনার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহেশখালীর বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকার পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

রোববার সন্ধ্যার পর সেখান থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত রংবাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে নতুন তথ্য

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে তিনি শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

আশ্রয় দিয়ে বিপদে পরিবার, চার বছরের শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি রোহিঙ্গা নারীর

০৬:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া এক রোহিঙ্গা নারীর বিরুদ্ধে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি অভিযানে চার দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মানবিক আশ্রয় থেকে অপহরণের ঘটনা

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রংবাহার নামে এক নারী গত বুধবার কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে আসেন। কারাগারের আশপাশে অবস্থানকালে তিনি নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষুধার কথা জানিয়ে স্থানীয় এক শ্রমজীবী পরিবারের সহানুভূতি লাভ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার ওই নারীকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে রাত কাটানোর অনুরোধ করলে মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, আশ্রয় নেওয়ার সময় তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন।

দুই দিন পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়

পরিবারটির দাবি, দুই দিন স্বাভাবিক আচরণ করার পর রংবাহার নিজের জন্য পান ও শিশুর জন্য নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে ৫ জুন সাদ্দামের চার বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তখন তিনি জানান, শিশুটিকে ফিরে পেতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিশুকে হত্যা করারও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কিত পরিবার একপর্যায়ে তিন দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

মায়ের কান্নাজড়িত অভিযোগ

শিশুটির মা সুমি আক্তার বলেন, মানবিক কারণে তারা ওই নারীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে তাদের ধারণা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবেই তিনি পরিবারের আস্থা অর্জন করেছিলেন। ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও তাদের সন্দেহ।

তিনি আরও বলেন, অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেওয়া বা শিশুদের অন্যের সঙ্গে পাঠানোর ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

ঘটনার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহেশখালীর বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকার পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

রোববার সন্ধ্যার পর সেখান থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত রংবাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে নতুন তথ্য

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে তিনি শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।