০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত স্কুলশিশুরা কেন দিন দিন কম মেধাবী হয়ে উঠছে? ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তিই কি তাদের শক্তি? ট্রাম্পের ঐক্যবদ্ধ রিপাবলিকানদের নিয়ে নতুন প্রশ্ন মরিয়ম নওয়াজের সমালোচনার জবাব, ‘আসল বিষয় তার জনপ্রিয়তা’: মারিয়ম আওরঙ্গজেব ইচ্ছামৃত্যু বিল নাকচ করল যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য টাং চি-হওয়ার করাচিতে ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস আদানির বিদ্যুৎ কমার সময়েই তারেকের ভারত সফর বাতিল, কাকতালীয় নাকি অন্য কিছু? ব্রিকসের বিস্তারে গ্লোবাল সাউথে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা মেটা স্মার্ট চশমায় প্রকাশ্যে মানুষকে ধারণ: গোপনীয়তা কতটা নিরাপদ?

আয় বাড়াতে এআইকে সামনে আনতে হবে

ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু ব্যবসার আয় বাড়ানোর যে বড় সম্ভাবনা এআই তৈরি করেছে, তার তুলনায় এর ব্যবহার এখনো অনেকটাই সীমিত। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এআইকে এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে, যা কর্মীদের সময় বাঁচায়, ই-মেইল লিখে দেয়, সভার সারসংক্ষেপ তৈরি করে কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে। এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এআইয়ের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক মূল্য সম্ভবত সেখানে নয়।

প্রকৃত সম্ভাবনা তৈরি হয় তখন, যখন এআইকে সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবসার যোগাযোগ, সম্ভাব্য ক্রেতা শনাক্তকরণ এবং বিক্রি বাড়ানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কারণ ছোট ও মাঝারি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে গ্রাহক কখন আগ্রহ দেখান, প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত সাড়া দেয়, তার প্রয়োজন কতটা বোঝা যায় এবং সেই আগ্রহকে কেনাকাটায় রূপ দেওয়া যায় কি না—এসব বিষয়ের ওপর।

এআই ব্যবহারের আসল সীমাবদ্ধতা কোথায়

ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মধ্যে এআই ব্যবহারের হার নিয়ে নানা পরিসংখ্যান সামনে আসছে। তবে Raynmaker-এর প্রধান নির্বাহী জো গ্যাগনন এআই গ্রহণের এত উচ্চ হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, কোনো খাতেই এত উচ্চ এআই গ্রহণের হার সহজে বিশ্বাস করার মতো নয়, বিশেষ করে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে।

তবে এআই ব্যবহার করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একটি মৌলিক সমস্যা রয়েছে। তারা এআইকে এখনো ব্যবসার মূল সক্ষমতা হিসেবে গ্রহণ করেনি; বরং একটি সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ই-মেইল লেখার গতি বাড়ানো, বৈঠকের নোট তৈরি করা কিংবা কনটেন্টের খসড়া তৈরি করা এক ধরনের ব্যবহার। অন্যদিকে, কোনো সম্ভাব্য ক্রেতা কখন আগ্রহ দেখাচ্ছেন তা শনাক্ত করা, দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা, তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং কেনার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার প্রয়োগ।

অনেক ব্যবসা এখনো এআইকে প্রতিষ্ঠানের সহায়ক কাজগুলোতেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু যেখানে ব্যবসার ফলাফল সরাসরি তৈরি হয়, সেখানে এর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।

এই প্রবণতার ফলে এআইয়ের প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

From GTD to GPT: Revolutionizing Time Management with AI

সময় বাঁচানোর চেয়ে সুযোগ হারানো ঠেকানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ

এআই দিয়ে সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় করা অবশ্যই মূল্যবান। কিন্তু একটি ছোট ব্যবসার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে—এই প্রযুক্তি ব্যবহার না করার কারণে প্রতি সপ্তাহে কত সম্ভাব্য বিক্রি হারিয়ে যাচ্ছে?

একজন সম্ভাব্য ক্রেতা রাতে ফোন করলেন, কিন্তু কেউ ধরলেন না। একজন ওয়েবসাইটে প্রশ্ন পাঠালেন, কিন্তু উত্তর পেলেন কয়েক ঘণ্টা পরে। আরেকজন আগ্রহ দেখালেন, কিন্তু তাকে যোগ্য সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কেউ তখন ছিলেন না। আবার এমনও হতে পারে, একজন ক্রেতা কেনার প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে এমন একটি প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে সাইট ছেড়ে গেলেন, যার উত্তর দেওয়া হলে তিনি হয়তো পণ্যটি কিনতেন।

এসব মুহূর্তই ব্যবসার প্রকৃত রাজস্বের সঙ্গে যুক্ত।

তাই এআই নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, ‘আমরা কোথায় এআই ব্যবহার করতে পারি?’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, ‘আমাদের ব্যবসায় কোথায় সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে?’

এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই এআই ব্যবহারের চরিত্র বদলে দিতে পারে।

ব্যাক অফিস থেকে গ্রাহকের যাত্রায় এআই

এআইয়ের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবহার হতে পারে গ্রাহকের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে। সম্ভাব্য ক্রেতা কোনো প্রশ্ন করলে দ্রুত উত্তর দেওয়া, তার প্রয়োজন বোঝা, তাকে সঠিক পণ্য বা সেবার দিকে পরিচালিত করা, বিক্রয়ের সম্ভাবনা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে মানবকর্মীর কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করা—এসব কাজ ব্যবসার আয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ধরা যাক, একটি অনলাইন দোকানের কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের পেজে গেলেন। তিনি দুটি পণ্য তুলনা করলেন, একটি পণ্য কার্টে যোগ করলেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং শেষ পর্যন্ত সাইট থেকে বেরিয়ে গেলেন।

প্রচলিত এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান হয়তো আরও ভালো পণ্যের বিবরণ লিখতে পারে কিংবা পরে পাঠানোর জন্য একটি ফলো-আপ ই-মেইল তৈরি করতে পারে। এতে কিছুটা উন্নতি হবে। কিন্তু গ্রাহক যে মুহূর্তে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, সেই মুহূর্তের সমস্যার সমাধান এতে হচ্ছে না।

প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক এআই বরং সেই আগ্রহের সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, কী নিয়ে তার দ্বিধা। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, উপযুক্ত পণ্য সুপারিশ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আশ্বস্ত করতে পারে এবং কেনার পরবর্তী ধাপটি সহজ করে দিতে পারে।

এখানেই এআই কেবল কর্মীদের কাজের গতি বাড়ানোর প্রযুক্তি থেকে বিক্রি বৃদ্ধির প্রযুক্তিতে পরিণত হতে পারে।

যে সুযোগগুলো আগে চোখ এড়িয়ে যেত

ছোট ব্যবসার জন্য বড় সমস্যা সব সময় নতুন গ্রাহক খুঁজে পাওয়া নয়; অনেক সময় ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখানো মানুষকে হারিয়ে ফেলাই বড় সমস্যা।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এমন অসংখ্য সংকেত তৈরি হয়, যেগুলো থেকে বোঝা যায় একজন ব্যক্তি কেনার ব্যাপারে কতটা আগ্রহী। ওয়েবসাইটে বারবার কোনো পণ্য দেখা, নির্দিষ্ট তথ্য খোঁজা, দুটি পণ্যের তুলনা করা, কার্টে পণ্য যোগ করা, মূল্য বা ডেলিভারি নিয়ে প্রশ্ন করা কিংবা অফারে সাড়া দেওয়া—এসবই সম্ভাব্য ক্রয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।

মানুষের কর্মীদের পক্ষে প্রতিটি সংকেত সব সময় নজরে রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে ছোট প্রতিষ্ঠানে জনবল সীমিত থাকে। ফলে সবচেয়ে আগ্রহী ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের সময়টিও হারিয়ে যেতে পারে।

এআই এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তার জন্য প্রযুক্তিকে কেবল কর্মীদের পেছনে থাকা সহকারী হিসেবে রাখলে হবে না; তাকে গ্রাহকের অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশে যুক্ত করতে হবে।

The choices we make about AI now are critical | Bill Gates

এআইয়ের সাফল্য মাপতে হবে আয়ে

এআই ব্যবহারে কত ঘণ্টা কাজের সময় বাঁচল—এটি একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। বরং ব্যবসার নেতৃত্বকে দেখতে হবে, প্রযুক্তিটি বাস্তবে ব্যবসার ফলাফল কতটা বদলাচ্ছে।

এর মধ্যে থাকতে পারে সম্ভাব্য গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দিতে কত সময় লাগছে, কতজন লিড বিক্রয়ে পরিণত হচ্ছে, কত বেশি সম্ভাব্য গ্রাহককে যোগ্য লিড হিসেবে শনাক্ত করা যাচ্ছে, কত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হচ্ছে, একজন লিড থেকে কত আয় আসছে এবং কতজন গ্রাহক আবার ফিরে আসছেন।

অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে গড় অর্ডারের মূল্য, গ্রাহকের সন্তুষ্টি এবং কত শতাংশ অনুসন্ধানের সফলভাবে উত্তর দেওয়া যাচ্ছে—এসব সূচকও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও একটি বিষয় দেখা দরকার। আগে যেসব সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবসা যোগাযোগই করতে পারত না, তাদের কতজন এখন যুক্ত হচ্ছেন? অফিস বন্ধ থাকার সময় আসা প্রশ্নগুলোর কতগুলোর উত্তর দেওয়া যাচ্ছে? কোনো কর্মীকে খুঁজে বের করার জন্য অপেক্ষা না করেই কতজন গ্রাহক প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন?

এসব প্রশ্নের উত্তরই এআইয়ের প্রকৃত রিটার্ন বা বিনিয়োগের ফলাফল সম্পর্কে বেশি ধারণা দিতে পারে।

কারণ অধিকাংশ ছোট ব্যবসার লক্ষ্য শুধু একই কাজ কিছুটা দ্রুত করা নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা বাড়ানো।

বিক্রি বাড়াতে গিয়ে আস্থা হারানো যাবে না

তবে এআইকে বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে। বেশি কনভার্সন বা বিক্রি বাড়ানোর জন্য গ্রাহকের অভিজ্ঞতাকে নষ্ট করা যাবে না।

গ্রাহক এমন কোনো ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে চান না, যা কেবল বিক্রি করতেই ব্যস্ত। অপ্রাসঙ্গিক উত্তর, একই ধরনের বারবার প্রশ্ন, বিভ্রান্তিকর কথোপকথন কিংবা চাপ প্রয়োগের মতো কৌশল দ্রুত আস্থা নষ্ট করতে পারে।

এ কারণে এআই ব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত বিশ্বাস। প্রযুক্তিটি যেন প্রতিষ্ঠানের সহায়ক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে—যে ব্র্যান্ডের ভাষা বোঝে, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানে এবং গ্রাহকের উদ্দেশ্য বুঝতে পারে।

একই সঙ্গে এআইয়ের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা দরকার। কোনো প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিতভাবে দিতে না পারলে কিংবা পরিস্থিতি জটিল হলে একজন মানুষের কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করার সক্ষমতা থাকা জরুরি।

ভালো এআই ব্যবস্থার কাজ গ্রাহককে যেকোনো মূল্যে কেনাকাটায় ঠেলে দেওয়া নয়। বরং তার দ্বিধা দূর করা, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করা।

এআই নিয়ে ব্যবসার দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর সময়

ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এআইয়ের পরবর্তী ধাপ তাই আরও বেশি টুল কেনা নয়। বরং কোথায় ব্যবসা হারাচ্ছে, কোথায় গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগে দেরি হচ্ছে এবং কোথায় কেনার আগ্রহ বিক্রয়ে পরিণত হচ্ছে না—সেসব জায়গা চিহ্নিত করা।

এআই তখনই সত্যিকারের ব্যবসায়িক সক্ষমতা হয়ে উঠবে, যখন সেটি কেবল কর্মীদের সময় বাঁচাবে না, বরং হারিয়ে যেতে বসা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে সাহায্য করবে।

ব্যবসার ব্যাক অফিসে এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে সামনের সারিতে—যেখানে গ্রাহক প্রশ্ন করেন, দ্বিধায় পড়েন, আগ্রহ দেখান এবং শেষ পর্যন্ত কেনার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই মুহূর্তগুলোতে দ্রুত, নির্ভুল ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থিত হতে পারলে এআই ছোট ব্যবসার জন্য শুধু দক্ষতার প্রযুক্তি থাকবে না। সেটি হয়ে উঠতে পারে রাজস্ব বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত

আয় বাড়াতে এআইকে সামনে আনতে হবে

০৬:১৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু ব্যবসার আয় বাড়ানোর যে বড় সম্ভাবনা এআই তৈরি করেছে, তার তুলনায় এর ব্যবহার এখনো অনেকটাই সীমিত। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এআইকে এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে, যা কর্মীদের সময় বাঁচায়, ই-মেইল লিখে দেয়, সভার সারসংক্ষেপ তৈরি করে কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে। এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এআইয়ের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক মূল্য সম্ভবত সেখানে নয়।

প্রকৃত সম্ভাবনা তৈরি হয় তখন, যখন এআইকে সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবসার যোগাযোগ, সম্ভাব্য ক্রেতা শনাক্তকরণ এবং বিক্রি বাড়ানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কারণ ছোট ও মাঝারি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে গ্রাহক কখন আগ্রহ দেখান, প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত সাড়া দেয়, তার প্রয়োজন কতটা বোঝা যায় এবং সেই আগ্রহকে কেনাকাটায় রূপ দেওয়া যায় কি না—এসব বিষয়ের ওপর।

এআই ব্যবহারের আসল সীমাবদ্ধতা কোথায়

ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মধ্যে এআই ব্যবহারের হার নিয়ে নানা পরিসংখ্যান সামনে আসছে। তবে Raynmaker-এর প্রধান নির্বাহী জো গ্যাগনন এআই গ্রহণের এত উচ্চ হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, কোনো খাতেই এত উচ্চ এআই গ্রহণের হার সহজে বিশ্বাস করার মতো নয়, বিশেষ করে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে।

তবে এআই ব্যবহার করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একটি মৌলিক সমস্যা রয়েছে। তারা এআইকে এখনো ব্যবসার মূল সক্ষমতা হিসেবে গ্রহণ করেনি; বরং একটি সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ই-মেইল লেখার গতি বাড়ানো, বৈঠকের নোট তৈরি করা কিংবা কনটেন্টের খসড়া তৈরি করা এক ধরনের ব্যবহার। অন্যদিকে, কোনো সম্ভাব্য ক্রেতা কখন আগ্রহ দেখাচ্ছেন তা শনাক্ত করা, দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা, তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং কেনার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার প্রয়োগ।

অনেক ব্যবসা এখনো এআইকে প্রতিষ্ঠানের সহায়ক কাজগুলোতেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু যেখানে ব্যবসার ফলাফল সরাসরি তৈরি হয়, সেখানে এর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।

এই প্রবণতার ফলে এআইয়ের প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

From GTD to GPT: Revolutionizing Time Management with AI

সময় বাঁচানোর চেয়ে সুযোগ হারানো ঠেকানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ

এআই দিয়ে সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় করা অবশ্যই মূল্যবান। কিন্তু একটি ছোট ব্যবসার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে—এই প্রযুক্তি ব্যবহার না করার কারণে প্রতি সপ্তাহে কত সম্ভাব্য বিক্রি হারিয়ে যাচ্ছে?

একজন সম্ভাব্য ক্রেতা রাতে ফোন করলেন, কিন্তু কেউ ধরলেন না। একজন ওয়েবসাইটে প্রশ্ন পাঠালেন, কিন্তু উত্তর পেলেন কয়েক ঘণ্টা পরে। আরেকজন আগ্রহ দেখালেন, কিন্তু তাকে যোগ্য সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কেউ তখন ছিলেন না। আবার এমনও হতে পারে, একজন ক্রেতা কেনার প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে এমন একটি প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে সাইট ছেড়ে গেলেন, যার উত্তর দেওয়া হলে তিনি হয়তো পণ্যটি কিনতেন।

এসব মুহূর্তই ব্যবসার প্রকৃত রাজস্বের সঙ্গে যুক্ত।

তাই এআই নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, ‘আমরা কোথায় এআই ব্যবহার করতে পারি?’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, ‘আমাদের ব্যবসায় কোথায় সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে?’

এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই এআই ব্যবহারের চরিত্র বদলে দিতে পারে।

ব্যাক অফিস থেকে গ্রাহকের যাত্রায় এআই

এআইয়ের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবহার হতে পারে গ্রাহকের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে। সম্ভাব্য ক্রেতা কোনো প্রশ্ন করলে দ্রুত উত্তর দেওয়া, তার প্রয়োজন বোঝা, তাকে সঠিক পণ্য বা সেবার দিকে পরিচালিত করা, বিক্রয়ের সম্ভাবনা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে মানবকর্মীর কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করা—এসব কাজ ব্যবসার আয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ধরা যাক, একটি অনলাইন দোকানের কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের পেজে গেলেন। তিনি দুটি পণ্য তুলনা করলেন, একটি পণ্য কার্টে যোগ করলেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং শেষ পর্যন্ত সাইট থেকে বেরিয়ে গেলেন।

প্রচলিত এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান হয়তো আরও ভালো পণ্যের বিবরণ লিখতে পারে কিংবা পরে পাঠানোর জন্য একটি ফলো-আপ ই-মেইল তৈরি করতে পারে। এতে কিছুটা উন্নতি হবে। কিন্তু গ্রাহক যে মুহূর্তে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, সেই মুহূর্তের সমস্যার সমাধান এতে হচ্ছে না।

প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক এআই বরং সেই আগ্রহের সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, কী নিয়ে তার দ্বিধা। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, উপযুক্ত পণ্য সুপারিশ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আশ্বস্ত করতে পারে এবং কেনার পরবর্তী ধাপটি সহজ করে দিতে পারে।

এখানেই এআই কেবল কর্মীদের কাজের গতি বাড়ানোর প্রযুক্তি থেকে বিক্রি বৃদ্ধির প্রযুক্তিতে পরিণত হতে পারে।

যে সুযোগগুলো আগে চোখ এড়িয়ে যেত

ছোট ব্যবসার জন্য বড় সমস্যা সব সময় নতুন গ্রাহক খুঁজে পাওয়া নয়; অনেক সময় ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখানো মানুষকে হারিয়ে ফেলাই বড় সমস্যা।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এমন অসংখ্য সংকেত তৈরি হয়, যেগুলো থেকে বোঝা যায় একজন ব্যক্তি কেনার ব্যাপারে কতটা আগ্রহী। ওয়েবসাইটে বারবার কোনো পণ্য দেখা, নির্দিষ্ট তথ্য খোঁজা, দুটি পণ্যের তুলনা করা, কার্টে পণ্য যোগ করা, মূল্য বা ডেলিভারি নিয়ে প্রশ্ন করা কিংবা অফারে সাড়া দেওয়া—এসবই সম্ভাব্য ক্রয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।

মানুষের কর্মীদের পক্ষে প্রতিটি সংকেত সব সময় নজরে রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে ছোট প্রতিষ্ঠানে জনবল সীমিত থাকে। ফলে সবচেয়ে আগ্রহী ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের সময়টিও হারিয়ে যেতে পারে।

এআই এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তার জন্য প্রযুক্তিকে কেবল কর্মীদের পেছনে থাকা সহকারী হিসেবে রাখলে হবে না; তাকে গ্রাহকের অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশে যুক্ত করতে হবে।

The choices we make about AI now are critical | Bill Gates

এআইয়ের সাফল্য মাপতে হবে আয়ে

এআই ব্যবহারে কত ঘণ্টা কাজের সময় বাঁচল—এটি একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। বরং ব্যবসার নেতৃত্বকে দেখতে হবে, প্রযুক্তিটি বাস্তবে ব্যবসার ফলাফল কতটা বদলাচ্ছে।

এর মধ্যে থাকতে পারে সম্ভাব্য গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দিতে কত সময় লাগছে, কতজন লিড বিক্রয়ে পরিণত হচ্ছে, কত বেশি সম্ভাব্য গ্রাহককে যোগ্য লিড হিসেবে শনাক্ত করা যাচ্ছে, কত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হচ্ছে, একজন লিড থেকে কত আয় আসছে এবং কতজন গ্রাহক আবার ফিরে আসছেন।

অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে গড় অর্ডারের মূল্য, গ্রাহকের সন্তুষ্টি এবং কত শতাংশ অনুসন্ধানের সফলভাবে উত্তর দেওয়া যাচ্ছে—এসব সূচকও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও একটি বিষয় দেখা দরকার। আগে যেসব সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবসা যোগাযোগই করতে পারত না, তাদের কতজন এখন যুক্ত হচ্ছেন? অফিস বন্ধ থাকার সময় আসা প্রশ্নগুলোর কতগুলোর উত্তর দেওয়া যাচ্ছে? কোনো কর্মীকে খুঁজে বের করার জন্য অপেক্ষা না করেই কতজন গ্রাহক প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন?

এসব প্রশ্নের উত্তরই এআইয়ের প্রকৃত রিটার্ন বা বিনিয়োগের ফলাফল সম্পর্কে বেশি ধারণা দিতে পারে।

কারণ অধিকাংশ ছোট ব্যবসার লক্ষ্য শুধু একই কাজ কিছুটা দ্রুত করা নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা বাড়ানো।

বিক্রি বাড়াতে গিয়ে আস্থা হারানো যাবে না

তবে এআইকে বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে। বেশি কনভার্সন বা বিক্রি বাড়ানোর জন্য গ্রাহকের অভিজ্ঞতাকে নষ্ট করা যাবে না।

গ্রাহক এমন কোনো ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে চান না, যা কেবল বিক্রি করতেই ব্যস্ত। অপ্রাসঙ্গিক উত্তর, একই ধরনের বারবার প্রশ্ন, বিভ্রান্তিকর কথোপকথন কিংবা চাপ প্রয়োগের মতো কৌশল দ্রুত আস্থা নষ্ট করতে পারে।

এ কারণে এআই ব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত বিশ্বাস। প্রযুক্তিটি যেন প্রতিষ্ঠানের সহায়ক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে—যে ব্র্যান্ডের ভাষা বোঝে, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানে এবং গ্রাহকের উদ্দেশ্য বুঝতে পারে।

একই সঙ্গে এআইয়ের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা দরকার। কোনো প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিতভাবে দিতে না পারলে কিংবা পরিস্থিতি জটিল হলে একজন মানুষের কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করার সক্ষমতা থাকা জরুরি।

ভালো এআই ব্যবস্থার কাজ গ্রাহককে যেকোনো মূল্যে কেনাকাটায় ঠেলে দেওয়া নয়। বরং তার দ্বিধা দূর করা, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করা।

এআই নিয়ে ব্যবসার দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর সময়

ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এআইয়ের পরবর্তী ধাপ তাই আরও বেশি টুল কেনা নয়। বরং কোথায় ব্যবসা হারাচ্ছে, কোথায় গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগে দেরি হচ্ছে এবং কোথায় কেনার আগ্রহ বিক্রয়ে পরিণত হচ্ছে না—সেসব জায়গা চিহ্নিত করা।

এআই তখনই সত্যিকারের ব্যবসায়িক সক্ষমতা হয়ে উঠবে, যখন সেটি কেবল কর্মীদের সময় বাঁচাবে না, বরং হারিয়ে যেতে বসা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে সাহায্য করবে।

ব্যবসার ব্যাক অফিসে এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে সামনের সারিতে—যেখানে গ্রাহক প্রশ্ন করেন, দ্বিধায় পড়েন, আগ্রহ দেখান এবং শেষ পর্যন্ত কেনার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই মুহূর্তগুলোতে দ্রুত, নির্ভুল ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থিত হতে পারলে এআই ছোট ব্যবসার জন্য শুধু দক্ষতার প্রযুক্তি থাকবে না। সেটি হয়ে উঠতে পারে রাজস্ব বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।