ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠানের গুদামগুলো। কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক গুদামে হামলার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ পণ্য পুড়ে গেছে, প্রাণহানির পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এতে যুদ্ধের প্রভাব এখন রাশিয়ার সাধারণ ব্যবসা ও বাণিজ্যেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
একের পর এক গুদামে হামলা
সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের চারটি বড় গুদামে হামলা হয়েছে। এসব হামলায় রাতের শিফটে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। আগুনে বিপুল পরিমাণ পণ্য ধ্বংস হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ইউক্রেনের দাবি, তারা এমন সব সরবরাহকেন্দ্রকে লক্ষ্য করছে যেগুলো সামরিক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম পরিবহনে ভূমিকা রাখছে। তাদের ভাষ্য, এই অভিযান রাশিয়ার সামরিক সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশলের অংশ।
![]()
ব্যবসায়ীদের বাড়ছে অনিশ্চয়তা
অনলাইন বিপণননির্ভর বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য এই হামলা বড় সংকট তৈরি করেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের প্রায় সব পণ্য গুদামে ছিল এবং আগুনে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ সামনে থাকায় যাদের মৌসুমি বিক্রির সময় ছিল, তাদের ক্ষতি আরও বেশি।
আরও অনেক বিক্রেতা আপাতত নতুন পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতেও একই ধরনের হামলা হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে উদ্বেগ
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক চুক্তিতে ড্রোন হামলাকে বিশেষ পরিস্থিতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এমন ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠানটির আইনি দায়বদ্ধতা সীমিত। যদিও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রেতাদের পাশে থাকার আশ্বাস এবং কিছু আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তবুও অনেকের উদ্বেগ কাটেনি।
রাশিয়ার অর্থনীতিতে নতুন চাপ
রাশিয়ায় অনলাইন বিপণন এখন সাধারণ মানুষের কেনাকাটার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল।
এরই মধ্যে কর বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় ছোট ব্যবসাগুলো চাপে ছিল। নতুন এই হামলাগুলো সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে। চলতি বছরে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করেছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বেসামরিক অর্থনীতিতে
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধ এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। সরবরাহব্যবস্থা, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবিকাও এর সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়তে থাকায় বেসামরিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার আর্থিক সক্ষমতা এখনও উল্লেখযোগ্য হলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















