মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছেন, তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান। যুদ্ধের অবসান হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করার পথ খুলে যাবে বলেও তিনি মনে করেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন পুতিন।
এক ঘণ্টার ফোনালাপ
মঙ্গলবার ট্রাম্প ও পুতিন প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরের পরই দুই নেতার এই আলোচনা হয়। তাঁদের সফরের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শান্তি আলোচনাকে আবার এগিয়ে নেওয়া।
ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই নেতা মার্কিন প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। পুতিন ফোনালাপে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে নিজের মূল্যায়ন জানান এবং সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও তাঁর মতামত তুলে ধরেন।
দ্রুত সমাধান চান ট্রাম্প
ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেন, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশেষ করে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হলে উভয় দেশই বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে বলে ট্রাম্প মনে করেন। তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকার সময়েই যুদ্ধের বিষয়ে একটি অগ্রগতি অর্জন করতে তিনি আগ্রহী বলেও ক্রেমলিন জানিয়েছে।
পুতিনও এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেছেন বলে জানিয়েছেন উশাকভ।
শান্তি আলোচনায় নতুন সম্ভাবনা
উইটকফ ও কুশনারের সাম্প্রতিক সফরে তাৎক্ষণিক কোনো বড় অগ্রগতি প্রকাশ্যে না এলেও রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে ট্রাম্প-পুতিনের ফোনালাপের বিষয়ে ক্রেমলিনের প্রকাশিত বিবৃতিতে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। দুই নেতা অবশ্য প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন এবং আবার ফোনে কথা বলবেন বলে সম্মত হয়েছেন।
এ ছাড়া রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বন্দি বিনিময় অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও দুই নেতা একমত হয়েছেন।

যুদ্ধ শেষের পথে এখনো বড় বাধা
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষই পরস্পরের ওপর হামলা আরও জোরদার করেছে।
রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বড় বিরোধ রয়ে গেছে। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য থেকে পুতিন এখনো সরে আসেননি। তবে কিয়েভ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
ইউরোপ নিয়ে রাশিয়ার বার্তা
ফোনালাপে পুতিন ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো শত্রুতামূলক পরিকল্পনা নেই বলেও ট্রাম্পকে জানিয়েছেন। উশাকভ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসী পরিকল্পনা রয়েছে—এমন ধারণা ভিত্তিহীন।
তাঁর দাবি, রাশিয়ার হুমকির কথা তুলে ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে আরও বেশি সহায়তা এবং নিজেদের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর যুক্তি তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্প-পুতিনের সাম্প্রতিক যোগাযোগে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ইঙ্গিত মিললেও ইউক্রেনের ভূখণ্ড ও যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে বড় মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















