০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনা পণ্য কিনতে বিনিময় কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়াচ্ছে ইরান দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চিরকুট বিতর্কে চীন ফিলিপাইন শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরেও কাটছে না বাণিজ্য জট ট্রাম্প কিম চতুর্থ বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত হলো চীন মিয়ানমারে টিন খনি চালু হলো জাতিসংঘ তদন্ত প্রত্যাখ্যান করল সরকার  হোয়াইট হাউসের সহকারীদের নগদ উপহার নিয়ে উঠল নৈতিকতার প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দুই অংশের প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে দ্বন্দ্ব  নেপালে বন্যা পুনর্গঠনে পাঁচশ কোটি ডলার সহায়তা চাইল সরকার এশিয়া কাপ সেমিফাইনালে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ নারী দল রিপাবলিকান জিতলে প্রতি আমেরিকানকে নগদ অর্থ দেবেন ট্রাম্প

হিমবাহ ধসে নেপালের বন্যা দক্ষিণ এশিয়াকে নতুন সতর্কতা দিল

গত ছাব্বিশ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ছয়শ সত্তরের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বৃষ্টিপাত ছাড়াই ঘটা এই দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নতুন ধরনের বিপদের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে, যা প্রচলিত বর্ষাকেন্দ্রিক দুর্যোগ পরিকল্পনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

একটি হিমবাহ ধসে পড়ে নদীপথ আটকে যায়, এরপর পানি, কাদা ও বরফের বিশাল স্তূপ জমে ধীরে ধীরে ভেঙে হিমালয়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা বলা হয়, যা উষ্ণায়নের কারণে হিমালয় অঞ্চলে ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে নব্বই জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে ইতিমধ্যে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে হ্রদ তৈরি হয়ে উপচে পড়ার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান একপর্যায়ে সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

হেলিকপ্টারে করে একশ বিশেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় বহু এলাকায় পৌঁছানো এখনো কঠিন। রেডক্রস ও অক্সফামের মতো সংস্থাগুলো ত্রাণসামগ্রী ও স্বাস্থ্যসামগ্রী পাঠালেও মর্গে জায়গা সংকুলান না হওয়ার খবরও এসেছে, যা দুর্যোগের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেয়। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সময় লাগবে বলে মনে করছেন ত্রাণকর্মীরা। পার্বত্য এলাকাটি পর্যটক ও অভিযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু বিদেশি অবস্থান করছিলেন, আর সে কারণেই এই দুর্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

Before flood catastrophe, Nepal asked China for early warnings as risks  mounted | Bonikbarta
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দুর্যোগ পরিকল্পনা মূলত মৌসুমি বর্ষার ওপর কেন্দ্র করে সাজানো, অথচ বৃষ্টিহীন হিমবাহ ধসজনিত এই বিপর্যয় দেখিয়ে দিল যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা আকস্মিক বন্যাও সমান ধ্বংসাত্মক হতে পারে। বাংলাদেশও একাধিকবার প্রতিবেশী দেশের নদী থেকে আসা আকস্মিক ঢলের শিকার হয়েছে, তাই নেপালের এই অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মতো বিষয় কম নয়। সীমান্ত পেরিয়ে আসা পানি প্রবাহ নিয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে। পাহাড়ি নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা আগেভাগে শনাক্ত করার প্রযুক্তি এখনো দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই সীমিত, যা এই গোটা অঞ্চলের দুর্যোগ প্রস্তুতির সম্মিলিত দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে ও নতুনভাবে তুলে ধরে দিয়েছে সবার সামনে আরও একবার।

বরফের নিচে জমে থাকা বিপদ কখনো বৃষ্টির পূর্বাভাসে ধরা পড়ে না, আর নেপালের এই বিপর্যয় গোটা অঞ্চলকে মনে করিয়ে দিল যে দুর্যোগ পরিকল্পনাও প্রকৃতির মতোই সীমান্ত মানে না। হিমালয়ের বরফরেখা যত দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে, ততই এমন আকস্মিক দুর্যোগের ঝুঁকি গোটা অঞ্চলের জন্য বাড়বে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের। সীমান্ত-পারের এই ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে, কেননা একক কোনো দেশের পক্ষে এমন সীমান্ত-অতিক্রমী দুর্যোগ একা মোকাবিলা করা কার্যত অসম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা পণ্য কিনতে বিনিময় কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়াচ্ছে ইরান

হিমবাহ ধসে নেপালের বন্যা দক্ষিণ এশিয়াকে নতুন সতর্কতা দিল

০২:২৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ছাব্বিশ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ছয়শ সত্তরের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বৃষ্টিপাত ছাড়াই ঘটা এই দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নতুন ধরনের বিপদের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে, যা প্রচলিত বর্ষাকেন্দ্রিক দুর্যোগ পরিকল্পনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

একটি হিমবাহ ধসে পড়ে নদীপথ আটকে যায়, এরপর পানি, কাদা ও বরফের বিশাল স্তূপ জমে ধীরে ধীরে ভেঙে হিমালয়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা বলা হয়, যা উষ্ণায়নের কারণে হিমালয় অঞ্চলে ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে নব্বই জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে ইতিমধ্যে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে হ্রদ তৈরি হয়ে উপচে পড়ার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান একপর্যায়ে সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

হেলিকপ্টারে করে একশ বিশেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় বহু এলাকায় পৌঁছানো এখনো কঠিন। রেডক্রস ও অক্সফামের মতো সংস্থাগুলো ত্রাণসামগ্রী ও স্বাস্থ্যসামগ্রী পাঠালেও মর্গে জায়গা সংকুলান না হওয়ার খবরও এসেছে, যা দুর্যোগের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেয়। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সময় লাগবে বলে মনে করছেন ত্রাণকর্মীরা। পার্বত্য এলাকাটি পর্যটক ও অভিযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু বিদেশি অবস্থান করছিলেন, আর সে কারণেই এই দুর্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

Before flood catastrophe, Nepal asked China for early warnings as risks  mounted | Bonikbarta
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দুর্যোগ পরিকল্পনা মূলত মৌসুমি বর্ষার ওপর কেন্দ্র করে সাজানো, অথচ বৃষ্টিহীন হিমবাহ ধসজনিত এই বিপর্যয় দেখিয়ে দিল যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা আকস্মিক বন্যাও সমান ধ্বংসাত্মক হতে পারে। বাংলাদেশও একাধিকবার প্রতিবেশী দেশের নদী থেকে আসা আকস্মিক ঢলের শিকার হয়েছে, তাই নেপালের এই অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মতো বিষয় কম নয়। সীমান্ত পেরিয়ে আসা পানি প্রবাহ নিয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে। পাহাড়ি নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা আগেভাগে শনাক্ত করার প্রযুক্তি এখনো দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই সীমিত, যা এই গোটা অঞ্চলের দুর্যোগ প্রস্তুতির সম্মিলিত দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে ও নতুনভাবে তুলে ধরে দিয়েছে সবার সামনে আরও একবার।

বরফের নিচে জমে থাকা বিপদ কখনো বৃষ্টির পূর্বাভাসে ধরা পড়ে না, আর নেপালের এই বিপর্যয় গোটা অঞ্চলকে মনে করিয়ে দিল যে দুর্যোগ পরিকল্পনাও প্রকৃতির মতোই সীমান্ত মানে না। হিমালয়ের বরফরেখা যত দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে, ততই এমন আকস্মিক দুর্যোগের ঝুঁকি গোটা অঞ্চলের জন্য বাড়বে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের। সীমান্ত-পারের এই ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে, কেননা একক কোনো দেশের পক্ষে এমন সীমান্ত-অতিক্রমী দুর্যোগ একা মোকাবিলা করা কার্যত অসম্ভব।