গত ছাব্বিশ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ছয়শ সত্তরের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বৃষ্টিপাত ছাড়াই ঘটা এই দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নতুন ধরনের বিপদের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে, যা প্রচলিত বর্ষাকেন্দ্রিক দুর্যোগ পরিকল্পনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
একটি হিমবাহ ধসে পড়ে নদীপথ আটকে যায়, এরপর পানি, কাদা ও বরফের বিশাল স্তূপ জমে ধীরে ধীরে ভেঙে হিমালয়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা বলা হয়, যা উষ্ণায়নের কারণে হিমালয় অঞ্চলে ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে নব্বই জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন, যাদের
হেলিকপ্টারে করে একশ বিশেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় বহু এলাকায় পৌঁছানো এখনো কঠিন। রেডক্রস ও অক্সফামের মতো সংস্থাগুলো ত্রাণসামগ্রী ও স্বা

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দুর্যোগ পরিকল্পনা মূলত মৌসুমি বর্ষার ওপর কেন্দ্র করে সাজানো, অথচ বৃষ্টিহীন হিমবাহ ধসজনিত এই বিপর্যয় দেখিয়ে দিল যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা আকস্মিক বন্যাও সমান ধ্বংসাত্মক হতে পারে। বাংলাদেশও একাধিকবার প্রতিবেশী দেশের নদী থেকে আসা আকস্মিক ঢলের শিকার হয়েছে, তাই নেপালের এই অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মতো বিষয় কম নয়। সীমান্ত পেরিয়ে আসা পানি প্রবাহ নিয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে। পাহাড়ি নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা আগেভাগে শনাক্ত করার প্রযুক্তি এখনো দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই সীমিত, যা এই গোটা অঞ্চলের দুর্যোগ প্রস্তুতির সম্মিলিত দুর্বলতাকেই স্পষ্টভা
বরফের নিচে জমে থাকা বিপদ কখনো বৃষ্টির পূর্বাভাসে ধরা পড়ে না, আর নেপালের এই বিপর্যয় গোটা অঞ্চলকে মনে করিয়ে দিল যে দুর্যোগ পরিকল্পনাও প্রকৃতির মতো
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















