পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে ছয় অক্টোবর অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ এবং বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আরেকটি অংশ দুই ফুল প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাবি তুলেছে।
দুই পক্ষই যদি পৃথকভাবে প্রার্থী দেয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে সাময়িকভাবে দলীয় প্রতীক স্থগিত রেখে দুই পক্ষকেই আলাদা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য করতে হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জোড়া ফুল প্রতীকের গুরুত্ব বহুদিনের, কেননা প্রতীক নিয়ন্ত্রণ শুধু নির্বাচনী পরিচিতি নয়, বরং সাংগঠনিক কর্তৃত্ব ও ভোটারের সঙ্গে সংযোগেরও প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই কারণেই দুই পক্ষের কাছেই প্রতীক ধরে রাখা প্রশ্নটি রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রশ্নেই পরিণত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বারো সেপ্টেম্বর সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেছে, যেখানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে উপনির্বাচনে কোন পক্ষ আসল তৃণমূল প্রতীকে লড়াই করার সুযোগ পাবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি শুধু দুটি আসনের ফলাফল নির্ধারণ করবে না, বরং গোটা পশ্চিমবঙ্গে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয়ও অনেকটাই নির্ধারণ করে দেবে। প্রতিষ্ঠাতা নেত্রীর বাইরে গিয়ে কোনো নেতা এত বড় পরিসরে প্রতীক দাবি করার নজির পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে বিরল, ফলে এই লড়াইকে অনেকে দলটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোর একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখছেন। উভয় পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করায় নির্বাচন কমিশনের সামনে জটিল আইনি প্রশ্নও দাঁড়িয়ে গেছে, কেননা প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি সাধারণত দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোর নথিপত্র ও সদস্যপদের হিসাবের ওপর নির্ভর করে, যা যাচাইয়ে সময় লাগতে পারে।
সীমান্তের ওপারে বাংলাভাষী এই রাজ্যের রাজনীতি বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে সবসময়ই বাড়তি আগ্রহের বিষয়, বিশেষত যেহেতু সীমান্ত বাণিজ্য, অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অনেক কিছুই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। কোনো একটি আঞ্চলিক দলের ভাঙন কীভাবে স্থানীয় শাসনব্

দুটি ছোট আসনের উপনির্বাচন যখন একটি রাজ্যের শাসক দলের ভবিষ্যৎ পরিচয় নির্ধারণের মঞ্চে পরিণত হয়, তখন বোঝা যায় প্রতীকের লড়াই কখনো কখনো নীতির লড়াইয়ের চেয়েও বেশি কিছু বহন করে। ছয় অক্টোবরের ফল তাই শুধু নন্দীগ্রাম বা রেজিনগরের নয়, গোটা তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী দিনের দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















