মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ছুটির মৌসুমে হোয়াইট হাউসের চারজন ঘনিষ্ঠ সহকারীকে মোট এক লাখ পঞ্চান্ন হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন বলে সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ছয় অঙ্কের বেতনের পাশাপাশি এই বিপুল নগদ উপহার ঘিরে ওয়াশিংটনে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি হার্প, যোগাযোগ উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন এবং ওভাল অফিস কার্যক্রমের উপপরিচালক চেম্বারলিন হ্যারিস প্রত্যেকে পঁয়তাল্লিশ হাজার ডলার করে পেয়েছেন। ওভাল অফিস কার্যক্রমের পরিচালক ওয়াল্ট নাওটা পেয়েছেন বিশ হাজার ডলার। এই চারজনের বার্ষিক বেতনই ছিল এক লাখ পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ পঁচাত্তর হাজার ডলারের মধ্যে, ফলে বেতনের বাইরে এত বড় অঙ্কের নগদ উপহার সংশ্লিষ্টদের জন্য বাড়তি আর্থিক সুবিধা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সাফাই দিয়ে বলেছেন, এই উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ডে এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কর্মীরা সাধারণত সরকারি বেতনের বাইরে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নিতে পারেন না বলে আইনি বিধিনিষেধ থাকায় এই ব্যাখ্যা সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ নির্বাচনী প্রচারণায় এই উপহার নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করেছেন, যদিও প্রতিবেদন অনুযায়ী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে এমন ব্যক্তিগত অনুগ্রহ বিতরণের ধরন নিয়ে এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে, ফলে এই ঘটনাকে অনেকে সেই ধারাবাহিকতারই সাম্প্রতিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন। রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেওয়া উপহার এবং সরকারি অর্থের ব্যবহারের মধ্যে স্পষ্ট রেখা টানার প্রশ্নেও ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কেননা আর্থিক প্রতিবেদনে উপহারের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রকাশিত আর্থিক নথিতে উপহারের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকলেও এগুলোকে ছুটির মৌসুমের উপহার হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এমন প্রকাশনা বিরোধী শিবিরের জন্য প্রচারণার অতিরিক্ত অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রেসিডেন্ট নিজে অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও শৃঙ্খলার বার্তা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। একই সপ্তাহে ট্রাম্প রিপাবলিকান জিতলে সাধারণ নাগরিকদের নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, ফলে ঘনিষ্ঠ বৃত্তে বড় অঙ্কের নগদ উপহার আর সাধারণ ভোটারদের জন্য প্রতিশ্রুত নগদ সহায়তা, এই দুই ঘটনা পাশাপাশি রেখে অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন যে অর্থ বণ্টনের অগ্রাধিকার আসলে কোথায় স্থির হচ্ছে।
ঘনিষ্ঠ বৃত্তে নগদ অনুগ্রহ বিতরণ আর প্রকাশ্যে ব্যয়সংকো
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















