নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার একশ চৌদ্দয় পৌঁছেছে, আর প্রায় চার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তের ওপারে চীনের অংশেও ষোলো জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং পাঁচশ ছেচল্লিশ জন নিখোঁজ। প্রাথমিক পুনর্গঠনের জন্য পাঁচশ কোটি ডলার আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে নেপাল সরকার, আর এই আবেদনকে তারা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান ধরমরাজ উপ্রেতি এই বিপর্যয়কে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভয়াবহ দুর্যোগ বলে বর্ণনা করেছেন। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্তৃপক্ষের ভূতাত্ত্বিক প্রকাশ পোখরেল বলেছেন, নেপালের মতো দেশ জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন অবদান না রাখলেও এমন ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসগুলোর কাছে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতিসংঘে চব্বিশ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার আগেই এই আন্তর্জাতিক তদবির শুরু করেছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশের একুশ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় অন্তত চার হাজার সত্তর জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ পর্ব পেরিয়ে সরকার এখন পুনর্বাসনের দিকে এগোচ্ছে। এ পর্যন্ত পুনর্গঠনের জন্য দেশীয়ভাবে প্রায় একশ কোটি নেপালি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আবেদনের তুলনায় সামান্য অংশমাত্র এবং দুর্গম পার্বত্য এলাকার পুরো পুনর্গঠনের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। রাসুয়া, নুওয়া
চীনের সঙ্গে নেপালের প্রধান স্থলবাণিজ্য পথও এই বন্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ভারতনির্ভরতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে কাঠমান্ডুর জন্য। বাংলা
জলবায়ু পরিবর্তনে যাদের দায় সবচেয়ে কম, বিপর্যয়ের মাত্রা তাদের জন্যই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে বারবার, আর নেপালের এই আন্তর্জাতিক তদবিল সেই পুরনো বৈষম্যের প্রশ্নকেই নতুন করে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরল। পুনর্গঠনের অর্থ ঠিক কতটা আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে দুর্গম পার্বত্য জনপদের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার গতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















