সাত বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রিকস আউটরিচ সম্মেলন উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে তার এই সফর কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে সহায়ক হলেও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো কাটেনি।
গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শি জিনপিংয়ের সফর নিশ্চিত করেনি। মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কূটনৈতিক উন্নতি সত্ত্বেও ব্যবসায়িক পর্যায়ে বাস্তব বাধা এখনো প্রকট। চীনা গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি ও গ্রেট ওয়াল মোটর ভারতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নয়াদিল্লির কড়া নজরদারির মুখে স্থগিত রেখেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অনেকে সম্প্রতি চীনা ভিসা পেতে দেরির মুখোমুখি হয়েছেন। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় টানেল-খননযন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ চীনা যন্ত্রপাতি শুল্ক দপ্তরে এক বছরের বেশি সময় ধরে আটকে আছে। পাশাপাশি বন্দর সরঞ্জাম ও সৌর প্যানেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি রপ্তানিতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন। জাতীয় নিরাপত্তার আশঙ্কায় চীনা প্রতিষ্ঠান আলিপের সঙ্গে নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা যুক্ত করার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিশ্লেষকদের ভাষায়, দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনো এতটাই গভীর যে কূটনৈতিক বরফ গলা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ, ভিসা জটিলতা ও শিল্প যন্ত্রপাতি আটকে থাকার মতো বাস্তব সমস্যাগুলো সহজে মিটছে না। সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলসহ একাধিক ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল, তার পুরোপুরি অবসান এখনো হয়নি, ফলে কূটনৈতিক বৈঠকের ঘোষণা যতটা দ্রুত আসছে, বাস্তব বাণিজ্যিক স্বাভাবিকীকরণ ততটা দ্রুত এগোচ্ছে না বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্নে চীন-ভারত সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কেননা দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাকেও প্রভাবি
কূটনীতির টেবিলে হাসিমুখে করমর্দন হলেও কারখানার দরজায় আটকে থাকা যন্ত্রাংশ আর ভিসার লাইনে আটকে থাকা ব্যবসায়ীরাই বলে দেন সম্পর্কের আসল অবস্থা ঠিক কোথায়। শি জিনপিংয়ের এই সফর সেই ফারাক ঘোচাতে কতটা কাজে আসে, তা সময়ই বলে দেবে। দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু হলেও শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা কাটাতে বাস্তবিক অর্থে কতদিন লাগবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার ঘোষণা আসেনি দুই পক্ষের কোনো তরফ থেকেই। মোদি-শি বৈঠক সত্যিই হয় কিনা এবং হলে তা থেকে ঠিক কী ধরনের যৌথ বিবৃতি বা সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী কয়েক মাসে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রকৃত গতিপ্রকৃতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















