যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে চতুর্থ বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে চীন। কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ কূটনীতিতে অনেকটাই পাশ কাটিয়ে যাওয়া বেইজিং এখন ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরের ঠিক আগে নতুন করে এই ভূমিকায় ফিরতে চাইছে।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চীন এই আলোচনায় সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনে আগ্রহী, তবে কোনো বৈঠক আয়োজনের আগে ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্টতা চাইছে বেইজিং। একজন সূত্র জানিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলেই কেবল দুই নেতাকে একত্র করার উদ্যোগ নেবে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্তসাপেক্ষ অবস্থান দেখিয়ে দেয় যে চীন কেবল সহায়ক ভূমিকায় থাকতে চায় না, বরং কোরীয় উপদ্বীপ কূটনীতির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কোনো বৈঠক হলে কিম জং উন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক মর্যাদার স্বীকৃতি পূর্বশর্ত হিসেবে দাবি করবেন। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে শক্তিশালী হওয়া সম্পর্কের কারণে আগের চেয়ে অনেক বেশি কূটনৈতিক দরকষাকষির সুযোগ এখন কিমের হাতে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক হলেও কোনোটিই দৃশ্যমান কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়নি, ফলে চতুর্থ দফা বৈঠক সত্যিই কোনো অগ্রগতি আনতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে কূটনৈতিক মহলে। চীনের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়েও একইসঙ্গে কূটনৈতিক জটিলতায় জড়িয়ে আছে, ফলে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ঠিক কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া কূটনীতিতে চীনকে অনেকটাই পাশ কাটানো হয়েছিল বলে মনে করা হয়, ফলে এবারের মধ্যস্থতার প্রস্তা

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এই ঘটনার তাৎপর্য পরোক্ষ হলেও গুরুত্বপূর্ণ। চীন যেভাবে একাধিক আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাইছে, তা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝার একটি সূচক হয়ে উঠতে পারে, বিশেষত যখন একই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ প্যানেলের মেয়াদও একই সময়ে শেষ হতে চলায় উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা কোরীয় উপদ্বীপ ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলছে।
মধ্যস্থতার প্রস্তাব সবসময় বৈঠক নিশ্চিত করে না, তবে কূটনীতির টেবিলে কে বসতে চাইছে, তা থেকেই বোঝা যায় আগামী দিনে ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে গড়াতে পারে। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ং শেষ পর্যন্ত টেবিলে বসে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফর কার্যকর হলে সেখানেই কোরীয় উপদ্বীপ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তার ওপরও অনেকটা নির্ভর করছে চতুর্থ ট্রাম্প-কিম বৈঠকের বাস্তব সম্ভাবনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















