০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনা পণ্য কিনতে বিনিময় কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়াচ্ছে ইরান দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চিরকুট বিতর্কে চীন ফিলিপাইন শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরেও কাটছে না বাণিজ্য জট ট্রাম্প কিম চতুর্থ বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত হলো চীন মিয়ানমারে টিন খনি চালু হলো জাতিসংঘ তদন্ত প্রত্যাখ্যান করল সরকার  হোয়াইট হাউসের সহকারীদের নগদ উপহার নিয়ে উঠল নৈতিকতার প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দুই অংশের প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে দ্বন্দ্ব  নেপালে বন্যা পুনর্গঠনে পাঁচশ কোটি ডলার সহায়তা চাইল সরকার এশিয়া কাপ সেমিফাইনালে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ নারী দল রিপাবলিকান জিতলে প্রতি আমেরিকানকে নগদ অর্থ দেবেন ট্রাম্প

বাংলাদেশের খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। দুই জুন অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রিয়াস কাকৌরিসকে পরাজিত করে নিরানব্বই বনাম একানব্বই ভোটে জয়ী হন তিনি। আট সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তার এক বছর মেয়াদি দায়িত্বকালে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।

চার দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এই দায়িত্বে এসেছেন খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতা এখন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সভাপতির আসনে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বছরের পর বছর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কথা বলা একজন কূটনীতিকের জন্য এই দায়িত্ব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাইপ্রাসের প্রার্থীর বিপক্ষে আট ভোটের ব্যবধানে জেতা এই লড়াই সহজ ছিল না, আর সেই কষ্টার্জিত বিজয়ই তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কূটনৈতিক মহলে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান সেপ্টেম্বর ৯,  সিএমজি বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ...
নিজের অধিবেশনের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন খলিলুর রহমান, যার মধ্যে রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি বাড়ানো, জলবায়ু পদক্ষেপ, মানবাধিকার, নতুন প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জাতিসংঘের সংস্কার। আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তিনি বলেছেন, আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য তৈরি এবং সরল বিশ্বাসে আলোচনার সুযোগ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়নে সভাপতির ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সদস্য দেশগুলোর।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী এক বছরে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনসহ একাধিক স্পর্শকাতর বৈশ্বিক ইস্যুতে সভাপতির আসন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব মূলত পদাধিকারবলে নিরপেক্ষ সভাপতিত্ব হলেও এই আসনে বসা ব্যক্তি অধিবেশনের এজেন্ডা নির্ধারণ, বিতর্কিত ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি এবং বৈশ্বিক সংকটে জাতিসংঘের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এই এক বছরে জাতিসংঘের সংস্কার আলোচনা কতদূর এগোয়, তা নিয়ে ছোট ছোট দেশগুলোরও আগ্রহ থাকবে, কেননা সংস্কার প্রশ্নে তাদের স্বার্থ প্রায়ই বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু আজ, সভাপতিত্বে ড. খলিলুর রহমান | Campus Times
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যে মানুষটি বছরের পর বছর জাতিসংঘের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন, আজ সেই মানুষটিই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সভার মধ্যমণি, আর এই পালাবদল বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একধরনের প্রতীকী পূর্ণতা। আগামী দিনগুলোয় তার সভাপতিত্বে জাতিসংঘ ঠিক কোন দিকে এগোয়, সেদিকে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের নজর থাকবে। এক বছরের এই মেয়াদ শেষে ইতিহাস তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোয় তার সিদ্ধান্তগুলোর ওপরই, আর সেই মূল্যায়নের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ গতিপথও।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা পণ্য কিনতে বিনিময় কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়াচ্ছে ইরান

বাংলাদেশের খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি

০২:২১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। দুই জুন অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রিয়াস কাকৌরিসকে পরাজিত করে নিরানব্বই বনাম একানব্বই ভোটে জয়ী হন তিনি। আট সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তার এক বছর মেয়াদি দায়িত্বকালে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।

চার দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এই দায়িত্বে এসেছেন খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতা এখন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সভাপতির আসনে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বছরের পর বছর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কথা বলা একজন কূটনীতিকের জন্য এই দায়িত্ব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাইপ্রাসের প্রার্থীর বিপক্ষে আট ভোটের ব্যবধানে জেতা এই লড়াই সহজ ছিল না, আর সেই কষ্টার্জিত বিজয়ই তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কূটনৈতিক মহলে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান সেপ্টেম্বর ৯,  সিএমজি বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ...
নিজের অধিবেশনের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন খলিলুর রহমান, যার মধ্যে রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি বাড়ানো, জলবায়ু পদক্ষেপ, মানবাধিকার, নতুন প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জাতিসংঘের সংস্কার। আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তিনি বলেছেন, আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য তৈরি এবং সরল বিশ্বাসে আলোচনার সুযোগ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়নে সভাপতির ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সদস্য দেশগুলোর।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী এক বছরে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনসহ একাধিক স্পর্শকাতর বৈশ্বিক ইস্যুতে সভাপতির আসন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব মূলত পদাধিকারবলে নিরপেক্ষ সভাপতিত্ব হলেও এই আসনে বসা ব্যক্তি অধিবেশনের এজেন্ডা নির্ধারণ, বিতর্কিত ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি এবং বৈশ্বিক সংকটে জাতিসংঘের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এই এক বছরে জাতিসংঘের সংস্কার আলোচনা কতদূর এগোয়, তা নিয়ে ছোট ছোট দেশগুলোরও আগ্রহ থাকবে, কেননা সংস্কার প্রশ্নে তাদের স্বার্থ প্রায়ই বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু আজ, সভাপতিত্বে ড. খলিলুর রহমান | Campus Times
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যে মানুষটি বছরের পর বছর জাতিসংঘের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন, আজ সেই মানুষটিই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সভার মধ্যমণি, আর এই পালাবদল বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একধরনের প্রতীকী পূর্ণতা। আগামী দিনগুলোয় তার সভাপতিত্বে জাতিসংঘ ঠিক কোন দিকে এগোয়, সেদিকে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের নজর থাকবে। এক বছরের এই মেয়াদ শেষে ইতিহাস তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোয় তার সিদ্ধান্তগুলোর ওপরই, আর সেই মূল্যায়নের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ গতিপথও।