১০:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা, সরাসরি আলোচনায় ইউরোপের সমর্থন

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে এমন আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপ সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

লন্ডনে বৈঠক

রোববার লন্ডনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ, ইউরোপের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বানকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তারা ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের উদ্যোগকেও সমর্থন করেন।

পুতিনের অনাগ্রহ

ভারত সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

যদিও জেলেনস্কি মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এতে আগ্রহ দেখাননি। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠকের তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত চুক্তি প্রয়োজন।

এদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ভেতরেও চাপ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং ধারাবাহিক হামলার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে, ফলে শান্তির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতির শর্ত

ইউরোপীয় নেতারা এবং জেলেনস্কি একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।

তারা আরও বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধরেখাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেনের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকতে হবে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার স্থগিত সম্পদও অবমুক্ত করা উচিত নয় বলে তারা মত দেন।

নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তা

Russia targets Kyiv with massive overnight attack

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের রুশ হামলা হয়েছে। রাজধানী কিয়েভও ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। তবে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা এখনও ইউক্রেনের শহর ও জনপদে বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।

ইউরোপের কণ্ঠ আরও জোরালো

জেলেনস্কি বলেছেন, ভবিষ্যৎ যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, ইউরোপের নিরাপত্তা ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও ইউক্রেনের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার ভাষায়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষা করা।

গোয়েন্দা প্রধান বুদানোভকে নিজ দপ্তরের প্রধান করলেন জেলেনস্কি | আন্তর্জাতিক  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা, সরাসরি আলোচনায় ইউরোপের সমর্থন

১২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে এমন আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপ সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

লন্ডনে বৈঠক

রোববার লন্ডনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ, ইউরোপের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বানকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তারা ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের উদ্যোগকেও সমর্থন করেন।

পুতিনের অনাগ্রহ

ভারত সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

যদিও জেলেনস্কি মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এতে আগ্রহ দেখাননি। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠকের তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত চুক্তি প্রয়োজন।

এদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ভেতরেও চাপ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং ধারাবাহিক হামলার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে, ফলে শান্তির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতির শর্ত

ইউরোপীয় নেতারা এবং জেলেনস্কি একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।

তারা আরও বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধরেখাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেনের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকতে হবে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার স্থগিত সম্পদও অবমুক্ত করা উচিত নয় বলে তারা মত দেন।

নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তা

Russia targets Kyiv with massive overnight attack

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের রুশ হামলা হয়েছে। রাজধানী কিয়েভও ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। তবে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা এখনও ইউক্রেনের শহর ও জনপদে বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।

ইউরোপের কণ্ঠ আরও জোরালো

জেলেনস্কি বলেছেন, ভবিষ্যৎ যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, ইউরোপের নিরাপত্তা ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও ইউক্রেনের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার ভাষায়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষা করা।

গোয়েন্দা প্রধান বুদানোভকে নিজ দপ্তরের প্রধান করলেন জেলেনস্কি | আন্তর্জাতিক  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)