১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ইউরোপের এক কণ্ঠ, গ্রিনল্যান্ড কারও নয়

আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ইউরোপ এবার এক সুরে কথা বলেছে। স্পষ্ট বার্তায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনো দেশের দখলের বস্তু নয়। এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার মানুষের।

ইউরোপীয় ঐক্যের দৃঢ় ঘোষণা
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়ে ইউরোপের শীর্ষ নেতারা যৌথ বিবৃতিতে জানান, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই। এই বক্তব্যকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কঠোর ও স্পষ্ট ইউরোপীয় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্কটিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়টি তারা জোর দিয়ে তুলে ধরেন।

প্যারিসে কূটনৈতিক উত্তাপ
প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতৃত্ব আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো ধরনের চাপ বা হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের পর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মন্তব্য ইউরোপে উদ্বেগ তৈরি করলেও, সেই উদ্বেগের জবাব হিসেবেই এই ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ উঠে আসে।

Image

ওয়াশিংটনের বক্তব্যে উদ্বেগ
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বক্তব্য ইউরোপ ও ডেনমার্কে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বরফ গলতে থাকায় তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলেও, ইউরোপের মতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কোনোভাবেই সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে খাটো করতে পারে না।

ডেনমার্কের সতর্ক বার্তা
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে সতর্ক করেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের হামলা বা জোরজবরদস্তি হলে তা সামরিক জোটের ঐক্যকেই বিপদের মুখে ফেলবে। এই সতর্কতার পরই ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক বৈঠকের আগেই যৌথ অবস্থান প্রকাশ পায়।

আর্কটিক নিরাপত্তা ও যৌথ দায়িত্ব
ইউরোপীয় নেতাদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যৌথ দায়িত্ব। কোনো মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের প্রশ্নই ওঠে না। ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যেই সেখানে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা যায়।

গ্রিনল্যান্ডের স্পষ্ট অবস্থান
গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য মানুষকে আতঙ্কিত করছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড বন্ধুত্বে বিশ্বাসী হলেও অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার প্রশ্নই নেই। সংযুক্তিকরণের ধারণাকে তারা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে।

ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা
হাজার হাজার বছর ধরে ইনুইট জনগোষ্ঠীর বসবাস গ্রিনল্যান্ডে। ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে উপনিবেশিক ইতিহাস থাকলেও পরবর্তীতে এটি ডেনমার্কের অংশ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক উপস্থিতি তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঔপনিবেশিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাধীনতার দাবিও জোরালো হয়েছে। তবু বর্তমানে হুমকির মুখে জাতীয় ঐক্যের বার্তাই সামনে এসেছে, ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড আমাদেরই।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ইউরোপের এক কণ্ঠ, গ্রিনল্যান্ড কারও নয়

০৮:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ইউরোপ এবার এক সুরে কথা বলেছে। স্পষ্ট বার্তায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনো দেশের দখলের বস্তু নয়। এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার মানুষের।

ইউরোপীয় ঐক্যের দৃঢ় ঘোষণা
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়ে ইউরোপের শীর্ষ নেতারা যৌথ বিবৃতিতে জানান, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই। এই বক্তব্যকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কঠোর ও স্পষ্ট ইউরোপীয় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্কটিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়টি তারা জোর দিয়ে তুলে ধরেন।

প্যারিসে কূটনৈতিক উত্তাপ
প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতৃত্ব আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো ধরনের চাপ বা হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের পর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মন্তব্য ইউরোপে উদ্বেগ তৈরি করলেও, সেই উদ্বেগের জবাব হিসেবেই এই ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ উঠে আসে।

Image

ওয়াশিংটনের বক্তব্যে উদ্বেগ
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বক্তব্য ইউরোপ ও ডেনমার্কে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বরফ গলতে থাকায় তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলেও, ইউরোপের মতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কোনোভাবেই সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে খাটো করতে পারে না।

ডেনমার্কের সতর্ক বার্তা
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে সতর্ক করেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের হামলা বা জোরজবরদস্তি হলে তা সামরিক জোটের ঐক্যকেই বিপদের মুখে ফেলবে। এই সতর্কতার পরই ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক বৈঠকের আগেই যৌথ অবস্থান প্রকাশ পায়।

আর্কটিক নিরাপত্তা ও যৌথ দায়িত্ব
ইউরোপীয় নেতাদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যৌথ দায়িত্ব। কোনো মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের প্রশ্নই ওঠে না। ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যেই সেখানে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা যায়।

গ্রিনল্যান্ডের স্পষ্ট অবস্থান
গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য মানুষকে আতঙ্কিত করছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড বন্ধুত্বে বিশ্বাসী হলেও অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার প্রশ্নই নেই। সংযুক্তিকরণের ধারণাকে তারা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে।

ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা
হাজার হাজার বছর ধরে ইনুইট জনগোষ্ঠীর বসবাস গ্রিনল্যান্ডে। ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে উপনিবেশিক ইতিহাস থাকলেও পরবর্তীতে এটি ডেনমার্কের অংশ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক উপস্থিতি তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঔপনিবেশিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাধীনতার দাবিও জোরালো হয়েছে। তবু বর্তমানে হুমকির মুখে জাতীয় ঐক্যের বার্তাই সামনে এসেছে, ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড আমাদেরই।