১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার—দাবি যতটা, বাস্তবতা ততটা নয়

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা বোঝা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। কৌশলগত পরিকল্পনা ও নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে, আবার সরকারি বক্তব্য ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য থাকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমানে এই ব্যবধান যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী।

বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশাসন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বাড়ানোর কথা বলেছে।

কিন্তু সেই কৌশল বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান

ইন্দো-প্যাসিফিককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে বারবার উঠে এলেও বাস্তব পদক্ষেপের সঙ্গে সেই ঘোষণার মিল সবসময় দেখা যায়নি। ফলে ওয়াশিংটনের প্রকৃত অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের উপস্থিতি ও প্রতিশ্রুতির কথা জোর দিয়ে বলছে, অন্যদিকে তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফলে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই এই অঞ্চলকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু গুরুত্বের কথা বলছে—এই প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।Why Washington's new Pacific Strategy has no “Indo” in it

দীর্ঘদিনের অসামঞ্জস্য এখন স্পষ্ট

ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রশাসনগুলোর অবস্থানে যে অসামঞ্জস্য ছিল, তা আগে অনেকটাই আড়ালে রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই অসামঞ্জস্য আর সহজে ঢেকে রাখা, অস্বীকার করা কিংবা উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।

জাপানসহ এ অঞ্চলের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যবধান থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে তার প্রভাব পড়তে পারে।

ছবিতে গত বছরের অক্টোবরে কানাগাওয়া প্রদেশের ইয়োকোসুকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি পরিদর্শনের সময় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে থাকা মার্কিন নাবিকদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে।

তবে এমন প্রতীকী উপস্থিতির বাইরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী অগ্রাধিকার কতটা—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

ইন্দো-প্যাসিফিককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কৌশল এবং বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যকার এই ব্যবধান তাই শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় নয়; এটি এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার—দাবি যতটা, বাস্তবতা ততটা নয়

০৭:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা বোঝা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। কৌশলগত পরিকল্পনা ও নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে, আবার সরকারি বক্তব্য ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য থাকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমানে এই ব্যবধান যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী।

বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশাসন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বাড়ানোর কথা বলেছে।

কিন্তু সেই কৌশল বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান

ইন্দো-প্যাসিফিককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে বারবার উঠে এলেও বাস্তব পদক্ষেপের সঙ্গে সেই ঘোষণার মিল সবসময় দেখা যায়নি। ফলে ওয়াশিংটনের প্রকৃত অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের উপস্থিতি ও প্রতিশ্রুতির কথা জোর দিয়ে বলছে, অন্যদিকে তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফলে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই এই অঞ্চলকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু গুরুত্বের কথা বলছে—এই প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।Why Washington's new Pacific Strategy has no “Indo” in it

দীর্ঘদিনের অসামঞ্জস্য এখন স্পষ্ট

ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রশাসনগুলোর অবস্থানে যে অসামঞ্জস্য ছিল, তা আগে অনেকটাই আড়ালে রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই অসামঞ্জস্য আর সহজে ঢেকে রাখা, অস্বীকার করা কিংবা উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।

জাপানসহ এ অঞ্চলের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যবধান থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে তার প্রভাব পড়তে পারে।

ছবিতে গত বছরের অক্টোবরে কানাগাওয়া প্রদেশের ইয়োকোসুকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি পরিদর্শনের সময় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে থাকা মার্কিন নাবিকদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে।

তবে এমন প্রতীকী উপস্থিতির বাইরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী অগ্রাধিকার কতটা—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

ইন্দো-প্যাসিফিককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কৌশল এবং বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যকার এই ব্যবধান তাই শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় নয়; এটি এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।