১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ইশকুল (পর্ব-২৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
  • 149

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

দামী একজন সহকারীকে হারানোর ভয়ে শেষপর্যন্ত রাজি হয়ে গেলুম। শুধু প্রস্তাব করলুম, পালা করে আমরা অ্যাডমিরাল হব একদিন ফেক্কা, একদিন আমি।

শেষপর্যন্ত এইভাবে রফা হল।

দুটো ধনুক তৈরি করলুম আমরা। ডজনখানেক তাঁরও বানিয়ে নিলুম। তারপর রওনা দিলুম বনের মধ্যে। আমাদের সঙ্গে বেশ কিছু ‘ব্যাঙবাজি’ও ছিল। ‘ব্যাঙবাজি’ হল, গোল-করে-পাকানো একটা কাগজের নলের মধ্যে পটাশিয়াম ক্লোরেট আর কাঠকয়লার গুড়ো ঠেসে একটুকরো সুতো দিয়ে শক্ত-করে-বাঁধা একরকম বাজি।

আমাদের তীরের আগায় ওই ‘ব্যাঙবাজি’ বে’ধে বাজির পলতের আগুন ধরাতে লাগলুম। তীরগুলো সজোরে আকাশে ওঠার পর ‘ব্যাঙবাজি’ সব আকাশে ফাটতে লাগল আর সবসুদ্ধ আগুনে-সাপের মতো এ’কেবে’কে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করতে লাগল। দাঁড়কাক আর কাকেরা তো তাই দেখে ভয় পেয়ে তুমুল সোরগোল শুরু করে দিলে।

বনটা ছিল কবরখানার ঠিক পাশেই। ঘন জঙ্গল, অসংখ্য গর্ত’ আর ছোট-ছোট পুকুরে ভরা। হলদে শাপলা, সোনালি ঝুমকো ফুল আর ফার্ন’গাছে ছেয়ে ছিল বনের সবুজ ছায়াঢাকা জায়গাগুলো।

প্রাণভরে খেলার পর পাঁচিল বেয়ে উঠে আমরা কবরখানার এক নির্জন কোণে এসে নামলুম। অতক্ষণ ধরে খেলার উত্তেজনার পর এই শান্ত, স্তব্ধ পরিবেশ আমাদের দেহমন যেন জুড়িয়ে দিল। পাতার আড়ালে লুকনো পাখিদের ডাক মাঝে-মাঝে নিস্তব্ধতা ভেঙে দিচ্ছিল। চাপা গলায় কথা বলতে-বলতে আমরা এক টুকরো পোড়ো জমির ওপর দিয়ে হেটে চললুম। আমাদের চারপাশে কবরের মাটির ঢিবি, কোনো- কোনোটা মাটির ওপর সামান্য একটু মাথা জাগিয়ে ছিল মাত্র।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ইশকুল (পর্ব-২৪)

০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

দামী একজন সহকারীকে হারানোর ভয়ে শেষপর্যন্ত রাজি হয়ে গেলুম। শুধু প্রস্তাব করলুম, পালা করে আমরা অ্যাডমিরাল হব একদিন ফেক্কা, একদিন আমি।

শেষপর্যন্ত এইভাবে রফা হল।

দুটো ধনুক তৈরি করলুম আমরা। ডজনখানেক তাঁরও বানিয়ে নিলুম। তারপর রওনা দিলুম বনের মধ্যে। আমাদের সঙ্গে বেশ কিছু ‘ব্যাঙবাজি’ও ছিল। ‘ব্যাঙবাজি’ হল, গোল-করে-পাকানো একটা কাগজের নলের মধ্যে পটাশিয়াম ক্লোরেট আর কাঠকয়লার গুড়ো ঠেসে একটুকরো সুতো দিয়ে শক্ত-করে-বাঁধা একরকম বাজি।

আমাদের তীরের আগায় ওই ‘ব্যাঙবাজি’ বে’ধে বাজির পলতের আগুন ধরাতে লাগলুম। তীরগুলো সজোরে আকাশে ওঠার পর ‘ব্যাঙবাজি’ সব আকাশে ফাটতে লাগল আর সবসুদ্ধ আগুনে-সাপের মতো এ’কেবে’কে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করতে লাগল। দাঁড়কাক আর কাকেরা তো তাই দেখে ভয় পেয়ে তুমুল সোরগোল শুরু করে দিলে।

বনটা ছিল কবরখানার ঠিক পাশেই। ঘন জঙ্গল, অসংখ্য গর্ত’ আর ছোট-ছোট পুকুরে ভরা। হলদে শাপলা, সোনালি ঝুমকো ফুল আর ফার্ন’গাছে ছেয়ে ছিল বনের সবুজ ছায়াঢাকা জায়গাগুলো।

প্রাণভরে খেলার পর পাঁচিল বেয়ে উঠে আমরা কবরখানার এক নির্জন কোণে এসে নামলুম। অতক্ষণ ধরে খেলার উত্তেজনার পর এই শান্ত, স্তব্ধ পরিবেশ আমাদের দেহমন যেন জুড়িয়ে দিল। পাতার আড়ালে লুকনো পাখিদের ডাক মাঝে-মাঝে নিস্তব্ধতা ভেঙে দিচ্ছিল। চাপা গলায় কথা বলতে-বলতে আমরা এক টুকরো পোড়ো জমির ওপর দিয়ে হেটে চললুম। আমাদের চারপাশে কবরের মাটির ঢিবি, কোনো- কোনোটা মাটির ওপর সামান্য একটু মাথা জাগিয়ে ছিল মাত্র।