১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ইশকুল (পর্ব-২৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
  • 151

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

ফেঙ্কাকে বললুম, ‘দ্যাখ, ওই মোড়টা ঘুরলেই এক্ষুনি আমরা সৈন্যদের কবরগুলোর কাছে পৌছব। গেল-সপ্তায় হাসপাতাল থেকে এনে এখানে সেমিওন কোঝেনিকভকে কবর দেয়া হয়েছে। কোঝেনিকভকে আমার খুব মনে পড়ে, জানিস ফেক্কা। যুদ্ধ বাধবার অনেক আগে, আমি তখন একেবারে বাচ্চা, কোঝেনিকভ আমাদের বাড়ি প্রায়ই আসতেন।

একদিন গুলূতি তৈরির জন্যে আমায় এক টুকরো রবারও দিয়েছিলেন। রবারের টুকরোটা ভারি ভালো ছিল রে। পরে বাসিউগিনদের বাড়ির একটা জানলার কাচ পাথর লেগে ভেঙে যাওয়ায় মা আমার রবারের টুকরোটা আগুনে ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, আমিই নাকি কাচ ভেঙেছিলুম।’

‘কেন, তুই ভাঙিস নি?’

‘আরে, ভেঙেছি তো হয়েছে কী? সেটা প্রমাণ করতে হবে তো। কেউ আমায় ভাঙতে তো দ্যাখে নি। সবটাই ছিল নিছক সন্দেহ। তুই কি একে ন্যায়বিচার বলিস? আচ্ছা ধর্, আমি যদি জানলাটা না-ভাঙতুম তা হলেও সেই আমারই ঘাড়ে দোষ পড়ত নাকি?’

‘তা তো পড়তই,’ আমার সঙ্গে একমত হল ফেক্কা। ‘মা-রা সবাই একরকম, বুঝলি! মেয়েদের জিনিসে ওরা হাত দেবে না, কিন্তু ছেলেরা কোনো কিছু নিয়ে খেলছে দেখলেই আর কথা নেই, সঙ্গে সঙ্গে তা কেড়ে নেবে। জানিস, পেরেকসুদ্ধ আমার দু-দুটো তাঁর মা ভেঙে দিয়েছে, ফাঁদে-পড়া ইদুরটাকেও বের করে নিয়েছে।

আর একবার মা যে আমার কী ক্ষতি করেছিল! আমি একটা খালি ডিবে খাট থেকে খুলে নিয়েছিলুম- ওই-যে, খাটের বাজুতে সব গোল গোল ডিবে থাকে জানিস তো? মা গিয়েছিলেন গির্জেয়। খানিকটা শোরা আর কাঠকয়লা বের করে ঘরে বসে মেশাচ্ছিলুম আমি। ভাবছিলুম, ডিবেটার ভেতর বারুদ ঠেসে ভতি করব। তারপর জঙ্গলে গিয়ে বোমা ফাটাব। মশলা তৈরিতে এত ব্যস্ত ছিলুম যে লক্ষ্য করি নি মা কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।

হঠাৎ শুনি মা-র গলা, ‘ডিবেটা খুলেছ কী জন্যে শুনি? অ্যাঁ, শয়তান কোথাকার! আর আমি ভাবছি ডিবেটা আবার কোথায় উবে গেল।’ সঙ্গে সঙ্গে গালে এক থাপ্পড়। ভাগ্যি ভালো, বাবা আমার পক্ষ নিল। জিজ্ঞেস করল, ‘ডিবেটা খুললে কেন?’ আমি বললুম, ‘দেখছ না? বোমা বানাচ্ছি যে।’ বাবা ভুরু কোঁচকাল। বলল, ‘থাক এসব। এসব জিনিস নিয়ে খেলা করো না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ইশকুল (পর্ব-২৫)

০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

ফেঙ্কাকে বললুম, ‘দ্যাখ, ওই মোড়টা ঘুরলেই এক্ষুনি আমরা সৈন্যদের কবরগুলোর কাছে পৌছব। গেল-সপ্তায় হাসপাতাল থেকে এনে এখানে সেমিওন কোঝেনিকভকে কবর দেয়া হয়েছে। কোঝেনিকভকে আমার খুব মনে পড়ে, জানিস ফেক্কা। যুদ্ধ বাধবার অনেক আগে, আমি তখন একেবারে বাচ্চা, কোঝেনিকভ আমাদের বাড়ি প্রায়ই আসতেন।

একদিন গুলূতি তৈরির জন্যে আমায় এক টুকরো রবারও দিয়েছিলেন। রবারের টুকরোটা ভারি ভালো ছিল রে। পরে বাসিউগিনদের বাড়ির একটা জানলার কাচ পাথর লেগে ভেঙে যাওয়ায় মা আমার রবারের টুকরোটা আগুনে ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, আমিই নাকি কাচ ভেঙেছিলুম।’

‘কেন, তুই ভাঙিস নি?’

‘আরে, ভেঙেছি তো হয়েছে কী? সেটা প্রমাণ করতে হবে তো। কেউ আমায় ভাঙতে তো দ্যাখে নি। সবটাই ছিল নিছক সন্দেহ। তুই কি একে ন্যায়বিচার বলিস? আচ্ছা ধর্, আমি যদি জানলাটা না-ভাঙতুম তা হলেও সেই আমারই ঘাড়ে দোষ পড়ত নাকি?’

‘তা তো পড়তই,’ আমার সঙ্গে একমত হল ফেক্কা। ‘মা-রা সবাই একরকম, বুঝলি! মেয়েদের জিনিসে ওরা হাত দেবে না, কিন্তু ছেলেরা কোনো কিছু নিয়ে খেলছে দেখলেই আর কথা নেই, সঙ্গে সঙ্গে তা কেড়ে নেবে। জানিস, পেরেকসুদ্ধ আমার দু-দুটো তাঁর মা ভেঙে দিয়েছে, ফাঁদে-পড়া ইদুরটাকেও বের করে নিয়েছে।

আর একবার মা যে আমার কী ক্ষতি করেছিল! আমি একটা খালি ডিবে খাট থেকে খুলে নিয়েছিলুম- ওই-যে, খাটের বাজুতে সব গোল গোল ডিবে থাকে জানিস তো? মা গিয়েছিলেন গির্জেয়। খানিকটা শোরা আর কাঠকয়লা বের করে ঘরে বসে মেশাচ্ছিলুম আমি। ভাবছিলুম, ডিবেটার ভেতর বারুদ ঠেসে ভতি করব। তারপর জঙ্গলে গিয়ে বোমা ফাটাব। মশলা তৈরিতে এত ব্যস্ত ছিলুম যে লক্ষ্য করি নি মা কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।

হঠাৎ শুনি মা-র গলা, ‘ডিবেটা খুলেছ কী জন্যে শুনি? অ্যাঁ, শয়তান কোথাকার! আর আমি ভাবছি ডিবেটা আবার কোথায় উবে গেল।’ সঙ্গে সঙ্গে গালে এক থাপ্পড়। ভাগ্যি ভালো, বাবা আমার পক্ষ নিল। জিজ্ঞেস করল, ‘ডিবেটা খুললে কেন?’ আমি বললুম, ‘দেখছ না? বোমা বানাচ্ছি যে।’ বাবা ভুরু কোঁচকাল। বলল, ‘থাক এসব। এসব জিনিস নিয়ে খেলা করো না।