০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় পশ্চিম তীরে ঘরছাড়া ফিলিস্তিনি পরিবার

অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে আবারও উত্তেজনা। ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন আল মুঘাইয়ির গ্রামের ফিলিস্তিনি বাসিন্দা রেজেক আবু নাঈম ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘ দুই বছরের চাপ, ভয়ভীতি আর সহিংসতার পর শনিবারের সশস্ত্র হামলা তাদের লড়াইয়ের ইতি টেনে দেয়।

দুই বছরের চাপ, এক দিনের নির্মম পরিণতি

আল মুঘাইয়ির গ্রামের পাথুরে প্রান্তে ছোট একটি তাঁবু ও গুহাকে ঘর বানিয়ে বসবাস করছিলেন রেজেক আবু নাঈমের পরিবার। পাশের পাহাড়চূড়ায় গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি থেকে আসা বসতিস্থাপনকারীরা শুরু থেকেই তাঁদের সরিয়ে দিতে তৎপর ছিল। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কখনও ভাঙচুর, কখনও প্রাণনাশের হুমকি, আবার কখনও শারীরিক হামলা—সব মিলিয়ে টানা চাপ চলছিল।

শনিবার দুপুরের দিকে প্রায় বিশজন বসতিস্থাপনকারী পাহাড়ের ঢালে জড়ো হয়। কিছু সময় পর ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিচে নেমে আবু নাঈমের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। পরিবারের সদস্যদের তাঁবু ও গুহায় ঢুকে মারধর করা হয়। আবু নাঈম, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনিকে গুহার ভেতরে ঠেলে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।

গুলিতে আহত ছেলে ও ভাতিজা

হামলার খবর পেয়ে আবু নাঈমের ছেলে আয়হাম পাহাড় বেয়ে নিচে নামেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৪ বছরের ভাতিজা নাসিম। পরিস্থিতি দ্রুত গুলিবর্ষণে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসতিস্থাপনকারী ও ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ইসরায়েলি সেনাদের দিক থেকেও গুলি ছোড়া হয়। এতে আয়হাম বগলে গুলিবিদ্ধ হন এবং নাসিমের পায়ে গুলি লাগে।

আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। আবু নাঈম নিজেও চিকিৎসার জন্য সেখানে যান। হাসপাতালে বসেই তিনি বলেন, সেখানে আর থাকা সম্ভব নয়, থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর কথায়, সব শেষ হয়ে গেছে।

ভাঙচুর, লুটপাট ও শূন্য ঘর

পরিবারটি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পর হামলাকারীরা ঘরবাড়ি তছনছ করে। সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ভেঙে ফেলা হয়, ব্যাটারি নিয়ে যাওয়া হয়, পানির ট্যাংক উল্টে দেওয়া হয়। চালের বস্তা ছিঁড়ে ফেলা, বাসনপত্র ছড়িয়ে রাখা—সব মিলিয়ে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বসতবাড়ি। তড়িঘড়ি করে পালাতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা খুব সামান্য জিনিস নিতে পেরেছিলেন। তবে পোষা বিড়াল, বাচ্চা বিড়াল ও দুটি খরগোশকে সঙ্গে নিতে সক্ষম হন।

বাড়ছে উচ্ছেদ ও সহিংসতা

গত বছরের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, উচ্ছেদ ও হত্যার ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মীরা জানাচ্ছেন। কেবল গত সপ্তাহেই সহিংসতার জেরে সাতটি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। পাহাড়চূড়ায় গড়ে ওঠা অবৈধ বসতিগুলো থেকে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ফিলিস্তিনিরা এই ভূখণ্ডকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে বহু ইহুদি এই অঞ্চলকে তাদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমি মনে করেন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসছে অনিশ্চয়তা ও ভয়।

রেজেক আবু নাঈমের পরিবারের ঘরছাড়া হওয়া সেই বৃহত্তর সংকটেরই একটি প্রতিচ্ছবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় পশ্চিম তীরে ঘরছাড়া ফিলিস্তিনি পরিবার

০৫:২০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে আবারও উত্তেজনা। ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন আল মুঘাইয়ির গ্রামের ফিলিস্তিনি বাসিন্দা রেজেক আবু নাঈম ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘ দুই বছরের চাপ, ভয়ভীতি আর সহিংসতার পর শনিবারের সশস্ত্র হামলা তাদের লড়াইয়ের ইতি টেনে দেয়।

দুই বছরের চাপ, এক দিনের নির্মম পরিণতি

আল মুঘাইয়ির গ্রামের পাথুরে প্রান্তে ছোট একটি তাঁবু ও গুহাকে ঘর বানিয়ে বসবাস করছিলেন রেজেক আবু নাঈমের পরিবার। পাশের পাহাড়চূড়ায় গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি থেকে আসা বসতিস্থাপনকারীরা শুরু থেকেই তাঁদের সরিয়ে দিতে তৎপর ছিল। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কখনও ভাঙচুর, কখনও প্রাণনাশের হুমকি, আবার কখনও শারীরিক হামলা—সব মিলিয়ে টানা চাপ চলছিল।

শনিবার দুপুরের দিকে প্রায় বিশজন বসতিস্থাপনকারী পাহাড়ের ঢালে জড়ো হয়। কিছু সময় পর ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিচে নেমে আবু নাঈমের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। পরিবারের সদস্যদের তাঁবু ও গুহায় ঢুকে মারধর করা হয়। আবু নাঈম, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনিকে গুহার ভেতরে ঠেলে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।

গুলিতে আহত ছেলে ও ভাতিজা

হামলার খবর পেয়ে আবু নাঈমের ছেলে আয়হাম পাহাড় বেয়ে নিচে নামেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৪ বছরের ভাতিজা নাসিম। পরিস্থিতি দ্রুত গুলিবর্ষণে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসতিস্থাপনকারী ও ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ইসরায়েলি সেনাদের দিক থেকেও গুলি ছোড়া হয়। এতে আয়হাম বগলে গুলিবিদ্ধ হন এবং নাসিমের পায়ে গুলি লাগে।

আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। আবু নাঈম নিজেও চিকিৎসার জন্য সেখানে যান। হাসপাতালে বসেই তিনি বলেন, সেখানে আর থাকা সম্ভব নয়, থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর কথায়, সব শেষ হয়ে গেছে।

ভাঙচুর, লুটপাট ও শূন্য ঘর

পরিবারটি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পর হামলাকারীরা ঘরবাড়ি তছনছ করে। সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ভেঙে ফেলা হয়, ব্যাটারি নিয়ে যাওয়া হয়, পানির ট্যাংক উল্টে দেওয়া হয়। চালের বস্তা ছিঁড়ে ফেলা, বাসনপত্র ছড়িয়ে রাখা—সব মিলিয়ে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বসতবাড়ি। তড়িঘড়ি করে পালাতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা খুব সামান্য জিনিস নিতে পেরেছিলেন। তবে পোষা বিড়াল, বাচ্চা বিড়াল ও দুটি খরগোশকে সঙ্গে নিতে সক্ষম হন।

বাড়ছে উচ্ছেদ ও সহিংসতা

গত বছরের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, উচ্ছেদ ও হত্যার ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মীরা জানাচ্ছেন। কেবল গত সপ্তাহেই সহিংসতার জেরে সাতটি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। পাহাড়চূড়ায় গড়ে ওঠা অবৈধ বসতিগুলো থেকে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ফিলিস্তিনিরা এই ভূখণ্ডকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে বহু ইহুদি এই অঞ্চলকে তাদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমি মনে করেন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসছে অনিশ্চয়তা ও ভয়।

রেজেক আবু নাঈমের পরিবারের ঘরছাড়া হওয়া সেই বৃহত্তর সংকটেরই একটি প্রতিচ্ছবি।