০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ইসলামি নীতিতে শীর্ষ নেতৃত্বে নারী নয়: জামায়াত নারী বিভাগের ব্যাখ্যা

ইসলামি আদর্শের আলোকে শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নারী বিভাগ। রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামি একটি ইসলামি দল এবং ইসলামি দলের জন্য কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা স্বাভাবিক। কোরআনে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতৃত্বে নারী দায়িত্ব নিতে পারেন না।

এর আগে নারী বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা দলীয় নারী কর্মীদের ওপর নির্বাচনী কার্যক্রমে হামলা, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন।

শীর্ষ পদ নয়, অধিকার নিশ্চিতই মূল কথা

নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, শীর্ষ পদে থাকা আসল বিষয় নয়, বরং নারীর অধিকার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশ দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু তাতে কি নারীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে, নারীর ওপর সহিংসতা কমেছে বা অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে—এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। তাই কেবল শীর্ষ পদে নারী থাকলেই বাস্তব পরিবর্তন আসে, এমনটি তারা মনে করেন না।

তিনি আরও জানান, সংগঠনের ভেতরে নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। জামায়াতের মজলিসে শূরা নামের উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ সদস্য নারী, যা তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতির প্রমাণ।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ও শঙ্কা

নারী বিভাগের প্রতিনিধি দলে থাকা রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ গত পনেরো থেকে ষোলো বছরে অনেক নারী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এখন আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নারীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীরা দুর্বল নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস

ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী জানান, নির্বাচন কমিশনাররা তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নারী ভোটারদের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামি নীতিতে শীর্ষ নেতৃত্বে নারী নয়: জামায়াত নারী বিভাগের ব্যাখ্যা

০৮:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামি আদর্শের আলোকে শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নারী বিভাগ। রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামি একটি ইসলামি দল এবং ইসলামি দলের জন্য কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা স্বাভাবিক। কোরআনে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতৃত্বে নারী দায়িত্ব নিতে পারেন না।

এর আগে নারী বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা দলীয় নারী কর্মীদের ওপর নির্বাচনী কার্যক্রমে হামলা, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন।

শীর্ষ পদ নয়, অধিকার নিশ্চিতই মূল কথা

নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, শীর্ষ পদে থাকা আসল বিষয় নয়, বরং নারীর অধিকার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশ দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু তাতে কি নারীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে, নারীর ওপর সহিংসতা কমেছে বা অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে—এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। তাই কেবল শীর্ষ পদে নারী থাকলেই বাস্তব পরিবর্তন আসে, এমনটি তারা মনে করেন না।

তিনি আরও জানান, সংগঠনের ভেতরে নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। জামায়াতের মজলিসে শূরা নামের উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ সদস্য নারী, যা তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতির প্রমাণ।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ও শঙ্কা

নারী বিভাগের প্রতিনিধি দলে থাকা রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ গত পনেরো থেকে ষোলো বছরে অনেক নারী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এখন আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নারীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীরা দুর্বল নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস

ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী জানান, নির্বাচন কমিশনাররা তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নারী ভোটারদের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।